ওয়াশিংটনে “ডিসি একুশে এলায়েন্স”র আয়োজনে “ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” উদযাপন

0
161

02242017_03_DC_EKUSHভার্জিনিয়া : গত ১৮ই ফেব্রুয়ারী, ২০১৭, রোজ শনিবার, ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনস্থ থোমাস জেফারসন মিডল স্কুল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘ডিসি একুশে এলায়েন্স’-এর আয়োজনে “মহান শহীদ দিবস” ও “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস”। ‘মহান একুশে’ আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ন ঐতিহাসিক ঘটনা। আমাদের মাতৃভূমি, আমাদের ভাষা এবং আমাদের ভাষার স্বাধীনতার জন্য যারা অকাতরে প্রান উৎসর্গ করে গেছেন, সেইসব মহৎপ্রান ভাষা সৈনিকদের প্রতি, ভাষা শহীদদের প্রতি অন্তরের শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পনের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল এই স্মরণানুষ্ঠান।

আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিনম্র চিত্তে স্মরণ করে হয়েছে সেই সব ভাষা শহীদদের- যাদের রক্তে লেখা হয়েছিল ভাষার স্বাধীকার অর্জনের প্রতিশ্রুতি, যাদের রক্তের আঁচরে আঁকা হয়েছিল বাঙালি জাতীর স্বাধীনতার স্বপ্ন, যাদের রক্তের লাল ছোপ আজও লেগে আছে বাংলার স্বাধীনতার ক্যানভাসে। এই স্মরণানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পন করা হয়েছে জানা-অজানা ভাষা সৈনিকদের চরণে, সকল ভাষা শহীদদের চরণে- যতদিন বাংলার আকাশে স্বাধীন সূর্যোদয় হবে, ততদিন বাংলার ইতিহাস বহন করবে এই রক্তাক্ত ’৫২-এর ইতিহাস। এটা শুধু মহান একুশে উদযাপনই নয়, আমাদের গৌরবময় মহান একুশে ফ্রেব্রুয়ারীকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে- এটা গোটা বাঙ্গালী জাতীর জন্য গৌরবের বিষয় এবং আমরা এই গৌরবের, এই অহংকারের অংশীদার। তাদের রক্তে ভেজা আমাদের প্রতিটি বর্ণমালা, তাদের জন্যই আজ আমরা স্বাধীন, আমরা পেয়েছি আমাদের মাতৃভষা বাংলায় কথা বলার অধিকার, বিশ্বের বুকে আমরা বাঙালি হিসেবে পরিচিত। আমাদের ভাষা সৈনিকদের জন্য, ভাষা শহীদদের আত্মোৎসর্গের জন্য আমরা গৌরবান্বিত।

আমরা সবাই জানি এই দিনটি মূলতঃ বাঙ্গালীর জাতীয় জীবনের বেদনাক্ত ঐতিহাসিক দিন… যেদিনটির সাথে জড়িয়ে আছে ভাষা শহীদদের রক্তাক্ত ইতিহাস, মায়ের কোল খালি হয়ে জাওয়ার মমন্তুদ ইতিহাস, অধিকার ছিনিয়ে নেয়ার, অত্যাচারের চরম বেদনার ইতিহাস। তাইতো বিগত ৬৫ বছর ধরে সমইয়ের স্রোতে ভেসে আসছে তাদের সেই রক্তাক্ত স্মৃতিময় ইতিহাস। আজ বাংলাদেশ থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাঙালিরাও যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করছে ‘মহান একুশে ফেব্রুয়ারী এবং আন্তরজাতিক মাত্রভাষা দিবস’।

অনুষ্ঠানটির সমন্বয় সাধনে ছিলেন ডুয়াফি’র সাবেক সভাপতি, ডঃ মিজানুর রহমান- যার অক্লান্ত পরিশ্রম, যোগ্য নেতৃ্ত্ব, যথার্থ সমন্বয় সাধন এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনায় গতবারের মত এবারও অত্যন্ত সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে একুশে উদযাপন। তার সাথে থেকে তার সহযোগী সকল কর্মীবৃন্দ এবং সকল সংগঠনগুলোও গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রেখেছে অনুষ্ঠানটিকে সফল করার জন্য। ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকার এতগুলো (১৪টি সংগঠন) সংগঠনকে একতার মঞ্চে ডেকে এনে সবার মাঝে সমন্বয় সাধন করে এমন আঙ্গিকের একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপন করা বিরাট সাফল্যের বিষয়- ধন্যবাদ ডঃ মিজানুর রহমানকে, সংশ্লিষ্ট প্রতিটি সংগঠন, কর্মী ও সেচ্ছাসেবকদের।

অনুষ্ঠানটির সাবলীল এবং প্রাঞ্জল সঞ্চালনায় ছিলেন- তাহেরা কিবরিয়া, ফয়সল কাদের, দিলশাদ চোধুরী ছুটি এবং রায়হান এলাহি। ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকার যেসব সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এই ‘ডিসি একুশে এলায়েন্স’-এ যোগ দিয়ে স্বদেশ প্রেমের দায়বদ্ধতায় এবং শহীদদের পবিত্র স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবন হয়ে একতার মঞ্চে এক কাতারে দাঁড়িয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় অনুষ্ঠানটিকে সাফল্যমন্ডিত করেছেন, তারা হলেনঃ
– আমরা বাঙালি ফাউন্ডেশন, – আমেরিকান এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশী ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড আরকিটেক্টস (আবিয়া), – বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইঙ্ক (বাই), – বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ফর কালচারাল অর্গানাইজেশন ডিসি (বাকোডিসি), – বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব গ্রেটার ওয়াশিংটণ ডিসি (বাগডিসি), – বাংলাদেশ সেন্টার ফর কমিউনিটি ডিভালাপমেন্ট ইঙ্ক, (বিসিসিডিআই) বাংলা স্কুল, – বর্ণমালা শিক্ষাঙ্গন,
– চিটাগং ইউনিভার্সিটি এল্যুমনাই ফোরাম ইঙ্ক (কুয়াফি), – ঢাকা ইউনিভার্সিটি এল্যুমনাই ফোরাম ইঙ্ক (ডুয়াফি), – ধ্রুপদ, – নিউজ বাংলা ইঙ্ক, – প্রিয় বাংলা ইঙ্ক, – স্বদেশ বাংলাদেশ, – সৃষ্টি নৃত্যাঙ্গন।

অনুষ্ঠানমালা শুরু হয় সন্ধ্যা ৬.৩০টায়। গত বছরের মত এবারও নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠান শুরু করার বিষয়টি ছিল উদাহরণ যোগ্য। প্রথমেই দুই দেশের (বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র) জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে স্ব স্ব দেশের প্রতি আনুগত্য ও শ্রদ্ধ্যা প্রদর্শন করা হয়। এরপর শুরু হয় আয়োজিত মূল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকার বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে অসংখ্য শিশু-কিশোর ‘ডিসি একুশে এলায়েন্স’-এর আয়োজিত এই ‘মহান একুশে’ উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করে। ওদের অংশগ্রহন ও চমৎকার পরিবেশনা ছিল অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক- মনে হয়েছে আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে আগামীর পথে নিয়ে যাবার জন্য এইতো তৈরী হয়ে যাচ্ছে আমাদের তরুন প্রজন্ম।

মূল অনুষ্ঠান শুরুর প্রথমেই ছিল শিশু-কিশোরদের সঙ্গীত পরিবেশনা- “ক-এ কলা, খ-এ খাই”, “সূর্যোদয়ে তুমি সূর্যাস্তেও তুমি”, “সোনা সোনা সোনা, লোকে বলে সোনা”, ‘অ’তে অনেক, ‘ব’ দিয়ে হয় বাংলা, ‘ভ’ দিয়ে হয় ভাষা” ইত্যাদি গানগুলো। এর পর পরই পরিবেশনায় ছিল একুশ ভিত্তিক নৃত্যানুষ্ঠান- “একুশ এনেছে বর্ণমালার গান”, “দিগন্তরে অমর একুশেঃ আমার আবার প্রলয় দোলা, “অপমানে তুমি জ্বলে উঠেছিলে সেদিন বর্ণমালা”।

এবারের আয়োজনের বিশেষ লক্ষ্যনীয় দিক ছিল ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উদযাপনের প্রেক্ষাপটে যথার্থ অর্থে আন্তর্জাতিক অংশগ্রহন। আর সেজন্য এবারের আয়োজনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেছিল ভারতীয় সাংস্কৃতিক দল “তা থৈ”। “তা থৈ”-এর ছেলেমেয়েদের অনবদ্য পরিবেশনায় (ভাষাতে আমার অধিকার) তারা গান গেয়েছে- ‘এ ভাষার জন্য’। এছাড়া প্রবাসের আঙ্গিনায় বেড়ে উঠা ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা আবৃত্তি করে- ‘আমি বাংলায় গান গাই’, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে’, ‘মোদের গরব মোদের আশা’। এখানে জন্ম নেয়া, বেড়ে উঠা ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের মুখে অনেকটা বিদেশী উচ্চারনে ওদের আবৃত্তি ছিল খুবই সুন্দর।

এরপর ছিল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে ‘একুশ’-এর তাৎপর্য ও ইতিহাসভিত্তিক একটি বিশেষ ভিডিওচিত্র প্রদর্শন। ভিডিওচিত্রটির পরিকল্পনা ও নির্মানে ছিলেন জনাব শফিকুল ইসলাম, নেপথ্যে ধারা বর্ননায় কন্ঠ দিয়েছেন- জনাব আনিস আহমেদ(ভইয়েস অব আমেরিকা) এবং জনাব খাইরুজ্জামান লিটন। সাথে ছিল অত্যন্ত চমৎকার দলীয় নৃত্য পরিবেশনা “তুমি বিস্তৃত লগ্ন মাধুরী”।

অনুষ্ঠানের শিশু-কিশোরদের পরিবেশনার পালা শেষ হলে শুরু হয় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব। এ পর্বে পরিবেশিত হয় দলীয় সঙ্গীত- ‘মোদের গরব মোদের আশা’, ‘আমরা পূবে পশ্চিমে’, ‘আমি বাংলায় গান গাই’ এবং ‘দিগন্তরে অমর একুশে’। এরপর পরিবেশিত হয় ’৫২-এর ভাষা আন্দোলনের বেদনাক্ত ইতিহাসভিত্তিক নাটিকা- ‘অবিরাম বর্ষা’। নাটকের প্রেক্ষাপটে যেসব গানের সাথে নৃত্য পরিবেশিত হয়, তাহল- ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়’ এবং ‘রক্ত শিমুল তপ্ত পলাশ’। নাটকের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল অমর একুশে- যেখানে ভাষা আন্দোলন, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং এর তাৎপর্য প্রতিফলিত হয়। নাটকে যারা অভিনয় করেছেন (জনাব আসাদুজ্জামান, ডঃ ইসরাত সুলতানা সহ অন্যান্যরা), তাদের অভিনয় সবার ভূয়সী প্রসংশা কুড়িয়েছে।

অনুষ্ঠানের এপর্যায়ে শুরু হয় আয়োজনের মূল অংশ- অস্থায়ীভাবে নির্মিত শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী ও পুষ্পস্তবক অর্পন। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, অত্যন্ত চমৎকারভাবে প্রতিকী অস্থায়ী শহীদ মিনারটি তৈরী করেছেন জনাব হারুনুর রশিদ। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস সহ আয়োজনে অংশগ্রহনকারী সমস্ত সংগঠনগুলো এবং উপস্থিত অসংখ্য স্বদেশপ্রেমী প্রবাসী বাংলাদেশীসহ উপস্থিত কিছু সংখ্যক আমেরিকানও এই অস্থায়ী শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাভরে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। প্রবাসী বাঙালিদের সাথে ছিল তাদের পরিবার এবং ছোট ছোট ছেলেমেয়েসহ কিশোর-কিশোরীরা। তাদের দিকে তাকিয়ে মনে হয়েছে আমাদের গৌরবান্বিত ইতিহাসকে আগামীর দিকে নিয়ে যাবার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে আমাদের তরুন প্রজন্ম, ওরাই আমাদের ইতিহাসকে ধারন করবে আগামীর পথে।

এবারের বই মেলার আরেকটি বিশেষ লক্ষ্যনীয় দিক ছিল ‘ডিসি একুশে এলায়েন্সে’র উদ্যোগে “একুশের বই মেলা”। সীমিত পরিসরে আয়োজিত এই ‘বই মেলা’র ব্যবস্থাপনায় ছিলেন জনাব দস্তগীর জাহাঙ্গীর এবং সাথে সহযোগিতায় ছিলেন সাবরিনা রহমান এবং আরিফুর রহমান।

অনুষ্টানটি অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সাফল্যের সাথে সবার সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন ডুয়াফি’র সাবেক সভাপতি ডঃ মিজানুর রহমান। এছাড়া তার সহযোগী কর্মী সাথীরা যারা অনুষ্ঠানটির সার্বিক পরিকল্পনা, পরিচালনা এবং ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেছেন, তারা হলেনঃ রায়হান এলাহী, অদিতি সাদিয়া রহমান, শফিকুল ইসলাম, ইসরাত সুলতানা, আরিফুর রহমান এবং মেরিনা রহমান।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে যারা ছিলেন, তারা হলেনঃ- হিরন চৌধুরী, অদিতি সাদিয়া রহমান, ইসরাত সুলতানা মিতা, দিলশাদ চৌধুরী ছুটি, সামিনা আমিন, মেরিনা রহমান, শফিকুল ইসলাম, নুসরাত রব্বান সোমা, আনন্দ খান, রোজমেরী মিতু গনসালভেজ, আরিফুর রহমান, ডরোথি বোস, সোয়াইব চৌধুরী, তৌফিক হাসান, আরিফুর রহমান স্বপন, রায়হান এলাহী, দস্তগীর জাহাঙ্গীর, সাবরিনা রহমান শর্মী, শাহিদা আবেদিন, শম্পা বণিক এবং দিনার মনি। মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় ছিলেনঃ আরিফুর রহমান, জামিল, তনিকা, শিখা, সাবরিনা, রায়হান এলাহী, শফিকুল ইসলাম, ছুটি, সঞ্জয় বড়ুয়া, হারুন, সরোজ বড়ুয়া, আহসান আলম, শরাফত হোসেন বাবু, জীবক বড়ুয়া, হিরণ চৌধুরী, শামীম চৌধুরী, গোলাম মওলা, সেলিম আক্তার, হারুনু, শফি দেলোয়ার কাজল, তৌফিক হাসান, নাঈম রহমান, নুরুল আমিন, রোজমেরী মিতু গনসালভেজ এবং নাজনীন আক্তার।

শব্দ নিয়ন্ত্রনে ছিলেনঃ জামিল খান।। আলোক প্রক্ষেপণ ও কারীগরি ব্যবস্থাপনায়ঃ শফিকুল ইসলাম, শামীম চৌধুরী, সোয়াইব চৌধুরী, রনি, রশিদ এবং শেখ মওলা মিলন। পুষ্পস্তবক অর্পন ব্যবস্থাপনায়ঃ আরিফুর রহমান স্বপন, সঞ্জয় বড়ুয়া, খন্দকার নোমান এবং শাহীন, শাহিদা আবেদিন এবং জয়নুল আবেদিন।অফিসিয়াল ফটোগ্রাফীঃ মোমেন্টস ফটোগ্রাফী (রাজীব বড়ুয়া, বিপ্লব দত্ত, এ্যন্থনী পিউস গমেজ এবং শাওন রহমান)।এছাড়া বিশেষ সহজোগিতায় ছিল আর্লিংটন কাউন্টির সেচ্ছাসেবকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শেষাংশে জনাব মিজানুর রহমান অংশগ্রহনকারী প্রতিটি সংগঠন, শিল্পী, কলাকুশলী, অভিভাবক, সেচ্ছাসেবকসহ উপস্থিত সবাইকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বিশেষ অনুরোধ করেন যেন আগামী বছরগুলোতে আয়োজনে যেন এবারের মত আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে এই “মহান একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” পালিত হয়। অতঃপর সবাইকে শুভেচ্ছা ও শুভরাত্রি জানিয়ে “ডিসি একুশে এলায়েন্স”ে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হয়। অনুষ্ঠান সমাপ্তির পর তখনও একুশের চেতনায় ভাস্বর সবার মানসভূমি… স্বদেশপ্রেমের এক অনন্য অনুভূতি নিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের আত্মতৃপ্তি নিয়ে সবাই স্মরণোৎসবের আয়োজন থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায় মিলনায়তনের চত্বর ছেড়ে- তখনো সবার মনে হয়তো গুন গুন করে বেজে চলছিল সেই কালজয়ী গানের সুর- “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী”!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here