এবার ‘হোয়াইট হাউজ করেসপনডেন্ট ডিনার’ বর্জন ট্রাম্পের

0
112

093014Donald_Trump_ap_imgআন্তর্জাতিক ডেস্ক: শুক্রবার কয়েকটি সংবাদ সংস্থাকে ঢুকতে না দেওয়ার ঘটনার রেশ না কাটতেই এবার হোয়াইট হাউজ করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সান্ধ্যভোজ বর্জনের ঘোষণা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। জমকালো এই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের পাশাপাশি বিশিষ্টজন ও রাজনীতিবিদরা অংশ নিয়ে থাকেন। শনিবার এক টুইটার বার্তায় ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না বলে জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

টুইটে তিনি বলেন, ‘এ বছর হোয়াইট হাউজ করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সান্ধ্যভোজে অংশ নিচ্ছি না। তবে সবার মঙ্গল কামনা করছি। দুর্দান্ত একটি সন্ধ্যা কাটবে বলেই বিশ্বাস। ‘ মিডিয়ার সঙ্গে ‘ঐতিহাসিক শত্রুতা’র ধারাবাহিকতায় শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ঢুকতে বাধাপ্রাপ্ত হলেন শীর্ষ মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে,  প্রধান কয়েকটি মার্কিন সংবাদ প্রতিষ্ঠানকে হোয়াইট হাউজে ঢুকতে দেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন। এদিকে শুক্রবার কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সে (সিপিএসি) আবারও মিডিয়াকে গণশত্রু আখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প।

পলিটিকোর খবর অনুযায়ী, শুক্রবার ছিল হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসারের এক সংবাদ সম্মেলন। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ‘কিউ’ ও ‘এ’ সেশনের মতো ব্রিফিংয়ের চেয়ে ওই সংবাদ সম্মেলন ছিল অপেক্ষাকৃত কম আনুষ্ঠানিক। সেই সংবাদ সম্মেলনে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি সিএনএন, নিউ ইয়র্ক টাইমস, পলিটিকো, লস অ্যাঞ্জেলস টাইমস ও বাজফিডের প্রতিবেদককে। যারা ঢুকতে পেরেছেন, ছবি তোলার বা ভিডিও করারও অনুমতি পাননি তারা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে রীতিমতো ‘তুলোধুনা’ করা হয় শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলোকে।

অবশ্য রয়টার্স, ব্লুমবার্গ ও সিবিএসের মতো আরও ১০টি প্রতিষ্ঠানে বিনা-বাধায় সংবাদ সংগ্রহ করতে পেরেছে। তবে ঠিক কী কারণে হোয়াইট হাউজ শীর্ষ মাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে ওই ব্যবস্থা নিলেন, তা খোলাসা করেননি প্রেস সেক্রেটারি।   শন স্পাইসার বলেন, “আমরা সঠিকভাবে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দিতে পারছি কিনা সেটাই আমাদের কাজ। আমরা আপনাদের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর নিশ্চিত করতে চাই; তাই বলে এই নয় যে প্রতিবারই ক্যামেরার সামনে সব বলতে হবে। ” পরে এক বিবৃতিতে ওই সংবাদমাধ্যমগুলোকে বাধা দেওয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়, যেহেতু হোয়াইট হাউসের পুল রয়েছে, সেহেতু তারা অন্যদের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং আমাদের কাছ থেকে সব তথ্য পাবে।

এদিকে সিপিএসি কনফারেন্সে মিডিয়াকে মার্কিন জনগণের শত্রু আখ্যা দেন ট্রাম্প। অতীতের ধারাবাহিকতায় তিনি বলেন, ‘আপনাদের জানাতে চাই যে সংবাদের নামে চলমান গুজবের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করছি। ‘ ট্রাম্প বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমি মিডিয়াকে গণশত্রু আখ্যা দিয়েছিলাম। আজও আমি একই কথা বলছি। ‘ গত সপ্তাহে তিনি টুইটারে লিখেছিলেন : ‘গুজব সৃষ্টিকারী মিডিয়াগুলো (নিউ ইয়র্ক টাইমস, এনবিসিনিউজ, সিবিএস, সিএনএন) শুধু আমার শত্রু নয়। তারা সমগ্র মার্কিন জনতার শত্রু। ‘

নিউ ইয়র্ক টাইমের নির্বাহী সম্পাদক ডিন ব্যাকেট বলেন, ”আমাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো ঘটতে দেখিনি। ” নিউ ইয়র্ক টাইমস ছাড়া বাকিরাও এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বাধা দেওয়ার প্রশ্নে হোয়াইট হাউজ করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনও শামিল হয়েছে প্রতিবাদে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here