সভাপতি সাঈদ, সম্পাদক রচি সাধারন সভায় আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন

ABPC 1নিউইয়র্ক : আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সভাপতি হয়েছেন নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত প্রবাস পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আজকাল পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক শওকত ওসমান রচি। ৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অপরাপর কর্মকর্তারা হলেন সহ-সভাপতি দর্পণ কবীর (এটিএন বাংলা), সহ-সম্পাদক মনজুরুল হক (টিবিএন-২৪ টিভি). কোষাধ্যক্ষ মশিউর রহমান মজুমদার (সাপ্তাহিক বর্ণমালা) এবং নির্বাহী সদস্য নাজমুল আহসান (সম্পাদক-পরিচয়), সৈয়দ ওয়ালী উল আলম (প্রবাস), এবিএম সিদ্দিক (আজকাল) ও রফিকুল ইসলাম রফিক (টিবিএন ২৪টিভি)।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের জরুরি সাধারণ সভায় উপস্থিত সাধারণ সদস্যদের কণ্ঠভোটে এই কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির মেয়াদ বহাল থাকবে ২০১৮ সাল পর্যন্ত। এদিন ক্লাবের জরুরি সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের সভাপতি নাজমুল আহসান এবং সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক দর্পণ কবীর। সভায় উপস্থিত অধিকাংশ সদস্য কমিটি গঠনের দাবি উত্থাপন করেন। তারা বলেন-ক্লাব গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত সাধারণ সভায় কণ্ঠভোটে কার্যকরী কমিটি গঠিত হয়েছে। আজকের সভায়ও কমিটি গঠন করার গঠনতান্ত্রিক বিধি রয়েছে। সদস্যদের কণ্ঠভোটে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। একইসঙ্গে ক্লাবের স্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ড এবং শৃঙ্খলা নষ্ট করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৩জন ক্লাব সদস্যের প্রাথমিক সদস্য পদ বাতিল করা হয় সদস্যদের সম্মতিতে। তারা হলেন কাজী শামসুল হক, রাশেদ আহমেদ ও আকবর হায়দার কিরণ। তারা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত থেকে সংগঠনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় তাদের প্্রাথমিক সদস্য পদ বাতিল করা হয়।

এ সভায় বক্তব্য রাখেন আজকাল পত্রিকার প্রধান সম্পাদক জাকারিয়া মাসুদ জিকো, সৈয়দ ওয়ালি-উল-আলম, নাজমুল আহসান, দর্পণ কবীর, শওকত ওসমান রচি, জনতার কণ্ঠের সম্পাদক শামসুল আলম, শামছুল আলম লিটন, তোফাজ্জল লিটন, এবিএম সিদ্দিক, জাকির হোসেন জাহিদ প্রমুখ। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন মিলা হোসেন (আজকাল), শিহাব উদ্দিন সাগর (প্রথম আলো), সামসুন্নাহার নিম্মি (প্রথম আলো), শামীম আহমেদ (প্রবাস নিউজ), শামীম আল আমীন (টিবিএন২৪), শামসুল আলম লিটন (আজকাল), এস.এম. সারোয়ার (প্রবাস), তোফাজ্জল লিটন (রাইজিং বিডি নিউজ), স্যামুয়েল স্টিফেন পিনারু (প্রবাস), বেলাল আহমেদ (জেমিনি), পাপিয়া বেগম (প্রবাস), ফজলে রাব্বী রাজীব(এনটিভি)সহ ৩০ জন সাংবাদিক। এদিন নতুন সদস্যদের মধ্যে সভায় এসে যোগ দেন এনামুল হক এনাম (সম্পাদক-অর্থকণ্ঠ), শাহ ফারুক হোসেন (চ্যানেল আই-অনলাইন), এহসানুলABPC-2 রাসুল (আজকাল) ও মল্লিকা খান মুনা (অন নিউজ-২৪)। এনটিভি যুক্তরাষ্ট্র কার্যালয়ের বার্তা সম্পাদক পুলক মাহমুদ পর্যবেক্ষক হিসাবে সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আজকাল-এর প্রধান সম্পাদক জাকারিয়া মাসুদ বলেন-প্রেসক্লাবের নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে ভুল ব্যক্তিদের মনোনীত করা হয়েছিল। সাংবাদিকতা করেন না-এমন ব্যক্তিদের নির্বাচন কমিশনার মনোনীত করায় তারা এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারেননি। কমিশনের কর্মকর্তারা একটি গ্রুপের সভায় যেতে পারেন না। একটি গ্রুপকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন মতবিনিময় সভাও করতে পারে না। আমি এ কথা বলেছিলাম প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী শামসুল হককে। তিনি তা স্বীকার করে ‘সরি’ও বলেছিলেন। আমি সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। প্রস্তাবও করেছিলাম প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে। মুখে বললেও আজ অব্দি তার কাছ থেকে সাড়া পাইনি। তিনি বলেন-নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীল ভুমিকা পালন করলে সুন্দর একটা নির্বাচন হতে পারতো।
এ সভায় জনতার কণ্ঠের সম্পাদক শামসুল আলম এবং আইটিভি’র সাংবাদিক জাকির হোসেন জাহিদ ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকা যায় কিন-এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন-তারা (নির্বাচন কমিশন) ভুল করেছে। তারপরও আমরা কি ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকতে পারি না? বক্তব্য রাখতে গিয়ে শামসুল আলম লিটন, মনজুরুল হক, মশিউর রহমান, তোফাজ্জল লিটন, এস. এম. সারোয়ার, এবিএম সিদ্দিক নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের ক্লাব বিরোধী কর্মকান্ডের জন্য সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এই দাবির পক্ষে উপস্থিত অধিকাংশ সদস্য মতামত ব্যক্ত করলে সভায় বিলপ্ত নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের সাধারণ সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় সাধারণ সম্পাদক দর্পণ কবীর বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন-আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নির্বাচন হবার কথা ছিল ১৯ মার্চ। গত ১৬ জানুয়ারি কার্যকরী পরিষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। ঐ সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও আরো ১জন কমিশনার উপস্থিত থেকে তা মেনে নিয়েছিলেন। তাদের স্বাক্ষর রেজুলেশন বুকে রয়েছে। এরপর আকস্মিকভাবে কার্যকরী কমিটির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমশন অপ-তৎপরতা শুরু করে। তারা একটি গ্রুপকে নিয়ে মত বিনিময় সভা করে নির্বাচন পাল্টা তারিখ ও অগ্রণযোগ্য বিধি ঘোষণা করেন। গঠনতন্ত্রের ধারা বলে কমিশনকে বাতিল করা হয়। তারপরও তাদের অশুভ ও ক্লাব বিরোধী কর্মকান্ড অব্যাহত রয়েছে।

ক্লাবের সভাপতি নাজমুল আহসান বলেন-কার্যকরী কমিটির একজন ব্যক্তির ইচ্ছায় নির্বাচন কমিশন পরিচালিত হচ্ছিলো। কার্যকরী কমিটির দু-একজন সদস্যও তার কথায় ক্লাব বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়েছে। ঐ কর্মকর্তা ১২ মার্চ দেশে যাবেন বলে নির্বাচন কমিশন ১১ মার্চ নির্বাচনের পাল্টা তারিখ ঘোষণা করেন আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই। তিনি আরো বলেন-সংগঠন পরিচালিত হয় গঠনতন্ত্র দিয়ে। যারা গঠনতন্ত্রকে মানতে চান না, তাদের সঙ্গে সংগঠন করাই মুশকিল। গঠনতন্ত্র বিরোধী কোন কাজ করতে চাইলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তত।

অনুষ্ঠানে নতুন কমিটির কর্মকর্তাদের নাম ঘোষণা হলে নতুন সভাপতি মোহাম্মদ সাঈদ ক্লাবের সকল সদস্যদের সমর্থন কামনা করেন। তিনি বলেন-ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা এই ক্লাবের জন্য কাজ করব।

উল্লেখ্য, আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের আসন্ন নির্বাচন প্রক্রিয়া কোন্দলে জর্জরিত হওয়ায় কার্যকরী কমিটির কর্মকর্তারা এদিন জরুরি সাধারণ সভার আয়োজন করে। এদিনের সভায় নতুন সদস্য পদের আবেদনকারীদের আবেদন অনুমোদনও করা হয়। – বিজ্ঞপ্তি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here