গন্তব্য: ডিম পাহাড়, আলিকদম

0
200
27183455300_f55a5e13f8_b_0পাহাড় মানেই মেঘ ছুঁয়ে দেখা! পাহাড় মানেই যেন আকাশের কাছে চলে যাওয়া। তাই প্রকৃতিপ্রেমী মন একবার পাহাড়ের স্বাদ পেলে আর যেন ফিরতে চায় না ঘরে। পাহাড়ে সকাল আসে মেঘের হাত ধরে, সূর্য ওঠে সোনালী রোদ ছড়িয়ে, মেঘেরা কখনো নেমে আসে বৃষ্টি হয়ে। দূরের পাহাড় আকাশের নীলের সাথে মিলে নীলচে রঙ ধারণ করে। অপরূপ সেই দৃশ্য। চোখে না দেখলে জীবন যেন মূল্যহীন।
বান্দরবানের নীলাচল-চিম্বুকে তো যাওয়াই হয়। এবার ঘুরে আসতে পারেন থানচীর ডিম পাহাড়ে। নামটা কেমন অদ্ভুত, তাই না? ডিম পাহাড়! পাহাড়ের চূড়ার আকৃতি ডিমের মত হওয়ার কারণেই নাকি এমন নামকরণ হয়েছে তার। ডিম পাহাড় কিন্তু বেশ দূর্গম। এর দূর্গমতা নিয়ে অনেক গল্প প্রচলিত আছে স্থানীয়দের মাঝে।
আদিবাসী টিপরা সম্প্রদায়ে প্রচলিত আছে একটি উপকথা। তারা বিশ্বাস করেন এই পাহাড়ে বাস করে এক দানব। প্রতি পূর্নিমায় পাহাড়ের চূয়ায় ফোটে অপূর্ব একটি ফুল, ঝরে যায় সকালেই। সেই ফুল পাহাড়া দেওয়াই দানবের কাজ। কেউ যদি পাহাড়ে ওঠে দানব তাঁকে মেরে ফেলে। তাই এই পাহাড়ে উঠতে গিয়ে ফিরে আসে নি কেউ কোনদিন।
পাহাড়ি সেই ফুলের আবার অনেক গুণ। ফুলের রস সুস্থ করে তোলে মুমূর্ষু রোগীকে। একবার টিপরা সম্প্রদায়ের উশে এর মা খুব অসুস্থ হয়ে পড়ল। প্রাণপ্রিয় মাকে বাঁচাতে উশে উঠে গেল পাহাড়ের চূড়ায় ফুল আনতে। ফুল সে আনতে পেরেছিল ঠিকই। কিন্তু পাহাড় থেকে থলিতে ভরে ছুড়ে দিয়েছিল বন্ধু থুইয়ের কাছে। সে আর নেমে আসে নি। মা সুস্থ হয়ে ওঠেন ফুলের রস পেয়ে, কিন্তু ডিম পাহাড়ে হারিয়ে যায় উশে চিরদিনের মতো।
তবে সেসব উপকথার দিন এখন শেষ। পাহাড়ের কাছ দিয়ে চলে গেছে আলীকদম থেকে থানচি পর্যন্ত সড়ক। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করা হয়েছে এটি। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বাধিক উঁচু রাস্তা! ডিম পাহাড়ের কাছাকাছি রাস্তার উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ২৫০০ ফুট।
কীভাবে যাবেন: 
ঢাকা থেকে আপনাকে প্রথমে চট্রগ্রাম – কক্সবাজার সড়কের চকরিয়া বাস টার্মিনালে নামতে হবে । ঢাকা থেকে নন এসি বাস ভাড়া নিবে ৭৫০ টাকা। অথবা ট্রেনে চট্রগ্রাম গিয়ে চট্রগ্রাম থেকে বাসে চকরিয়া যেতে পারেন । চট্রগ্রাম থেকে চকরিয়া জন প্রতি বাস ভাড়া ১৭০ টাকা। চকরিয়া বাস টার্মিনাল থেকে মাতামুহুরী পরিবহণ সার্ভিসের বাস প্রতিদিন সকাল ৭.৩০ থেকে সন্ধ্যা ৬.৩০ পর্যন্ত আলিকদমের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। আলিকদম থেকে প্রতিদিন সকাল ৭.০০ শুরু করে বিকেল ৫.৩০ পর্যন্ত চকরিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। দুই দিক থেকেই ৪০ মিনিট পর পর গাড়ী ছেড়ে যায়। ভাড়া জনপ্রতি ৬০ টাকা। সময় লাগে ১ ঘন্টা ৪০ মিনিটের মতো। চকরিয়া থেকে আলীকদম চাঁদের ( জিপ ) গাড়িতে আসতে পারবেন। লোকাল ভাড়া জন প্রতি ৬৫ টাকা। রিজার্ভ ভাড়া এক পথ ১২০০-১৪০০ টাকার মত।
আবার ঢাকা থেকে সড়ক পথে বান্দরবান চলে আসতে পারেন। সেখান থেকে লোকাল বাসে কিংবা চান্দের গাড়িতে করে থানচি বাজার চলে যান। এরপর এখান থেকে চান্দের গাড়ি কিংবা মোটরবাইকে করে ডিম পাহাড়।
কোথায় থাকবেন:
আলিকদমে থাকার তেমন ভালো ব্যবস্থা নেই। চট্টগ্রামে চলে আসতে পারে। এখানে থাকার জন্য ছোট-বড় বিভিন্ন মানের হোটেল রয়েছে। ভাড়া শুরু ৬০০ টাকা থেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here