আমেরিকার বদলে যাওয়া নিয়ে যত উদ্বেগ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের বিরুদ্ধে নাগরিকদের প্রতিবাদ

।। আলী রীয়াজ ।।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতিকে অভাবনীয় হিসেবে বর্ণনা করা হলে কমই বলা হবে। উদ্বেগ, আশঙ্কা, অনিশ্চয়তা

আলী রীয়াজ

এক বিরাটসংখ্যক অভিবাসী জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে; কিন্তু এগুলো শুধু অভিবাসীদের বিষয় নয়। দেশের নাগরিকদের বড় অংশই এখন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ভবিষ্যৎ পথরেখা এবং সমাজের ভারসাম্য নিয়ে চিন্তিত।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্থান এবং নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে আমরা মার্কিন রাজনীতি ও সমাজে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত লক্ষ করছি। এই সব পরিবর্তনের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য সহজেই চিহ্নিত করা যায়; সেগুলো হচ্ছে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদের উত্থান, অভিবাসীবিরোধী মনোভাবের বিস্তার এবং সমাজে ধর্ম ও বর্ণের ভিত্তিতে বিভাজনকে উসকে দেওয়া।
মার্কিন সমাজে ও রাজনীতিতে এই সব প্রবণতার উপস্থিতি দীর্ঘদিনের। কিন্তু একই সঙ্গে সমাজে এই ধরনের প্রবণতার বিরুদ্ধে সব সময়ই প্রতিরোধ উপস্থিত থেকেছে। গত কয়েক মাসের ঘটনাবলি, বিশেষত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া পদক্ষেপসমূহের গুরুত্ব ও তার পথরেখা বুঝতে হলে সমাজে বিরাজমান এই সব প্রবণতা এবং সেগুলোর বিপরীতে অগ্রগতির বিষয়ে ধারণা থাকা দরকার।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৫০ বছরের ইতিহাস বিবেচনা করলে দেখা যাবে, সমাজে বিভিন্ন কারণে বিভক্তি থেকেছে এবং সেই বিভক্তিকে রাজনীতিতে ব্যবহার করা হয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্র এই সব বিভাজন এবং অন্যায্য ব্যবস্থাকে বৈধতা ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। দাসত্বের আইনি বৈধতা, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পাবলিক লিঞ্চিং বা পিটিয়ে মারার ইতিহাস, কিংবা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি বংশোদ্ভূতদের বন্দিশিবিরে পাঠানোর ঘটনা তার প্রমাণ। আইন করেই ১৮৮২ সালে চীন থেকে ১০ বছরের জন্য অভিবাসন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যা পরে আরও ১০ বছর বাড়ানো হয়। ১৯৩০-এর দশকে চার লাখ মেক্সিকানকে আটক করে মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানো হয়েছিল এই যুক্তিতে যে তারা ‘মার্কিনদের’ চাকরি নিয়ে নিচ্ছে। সমাজে একসময় ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের বিষয়ে যে ঘৃণা ও বিদ্বেষ উপস্থিত ছিল, তাতে প্রমাণিত হয় যে, এই সমাজে যাদের ‘বহিরাগত’ বলে চিহ্নিত করা হয়, তাদের গ্রহণের ক্ষেত্রে সব সময়ই ইতিবাচক মনোভাব ছিল না। একই বিষয় আমরা চিহ্নিত করতে পারি আইরিশ জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সমাজের মনোভাবের ভেতরেও। কৃষ্ণাঙ্গদের নাগরিক অধিকার, এমনকি ভোটাধিকারের অনুপস্থিতি; নারীদের সমানাধিকারের প্রশ্নকে অবজ্ঞা করা—এই সবই স্মরণ করিয়ে দেয় যে, নাগরিকের অধিকারের এবং সমতার সংগ্রামের ইতিহাস একরৈখিক নয়।
একদিকে যেমন আমরা এই ধরনের প্রবণতা এবং আইনি ব্যবস্থা দেখতে পাই, তেমনি দেখতে পাই যে সমাজে ও রাজনীতিতে এর বিরুদ্ধ মনোভাব। সংবিধানের ত্রয়োদশ, চতুর্দশ ও পঞ্চদশ সংশোধনী—যা দাসত্বের অবসান ঘটিয়েছে, কৃষ্ণাঙ্গদের সমান নাগরিকের মর্যাদা দিয়েছে এবং তাদের ভোটাধিকারের আইনি ব্যবস্থা করেছে—সেগুলো প্রমাণ করে যে সমাজে বৈষম্যের বিরুদ্ধে সক্রিয় শক্তি আছে; আবার তার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যর্থতা স্মরণ করিয়ে দেয় যে কেবল আইনের শক্তিই যথেষ্ট নয়। দেশের সংবিধানপ্রণেতারা ধর্ম ও রাষ্ট্রের মধ্যে যে দেয়াল তৈরি করেছিলেন, তার পটভূমি যা-ই হোক, তা যে সব ধর্মের মানুষের জন্যই রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেছে, তা উপলব্ধি করা দরকার।
রাষ্ট্র হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা থেকে অভিবাসনকে বিচ্ছিন্ন করার উপায় নেই। যে শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠী এখন দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে চিহ্নিত, তাদের ইতিহাসও অভিবাসনের ইতিহাস। সেটি যে প্রীতিকর নয়, সেটাও জ্ঞাত ও আলোচিত। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ দেশে অভিবাসন কেবল বৃদ্ধি পেয়েছে তা নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে ‘অভিবাসীদেরই দেশ’, সেটি স্বীকৃত। একে চিহ্নিত করা হয়েছে ‘মেল্টিং পট’ বলে। অর্থনীতি, শিক্ষা, গবেষণা, সমাজকল্যাণ এবং সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রে অভিবাসীদের অবদান বৃদ্ধি পেয়েছে, স্বীকৃতি লাভ করেছে। মার্কিন সমাজ বলতে বহুজাতিক ও বহু সাংস্কৃতিক একটি জনগোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। এ দেশে ‘কমিউনিটি’ বলতে যা বোঝায়, তা কেবল এক ভাষার, এক ধর্মের, এক জাতিগোষ্ঠীর মানুষ নয়—এই বোধ ও বাস্তবতা ধীরে ধীরে হলেও গৃহীত হয়েছে এবং তার প্রকাশ আমরা দেখতে পেয়েছি বিভিন্ন সময়ে।
উগ্র চরমপন্থা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের এক লজ্জাকর বাস্তবতা। এ দেশে উগ্র শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের উত্থান ও উপস্থিতির ইতিহাস পুরোনো। এদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হচ্ছে কু ক্লাক্স ক্ল্যান(কেকেকে)। ১৮৬০-এর দশকে এর প্রথম প্রকাশ ঘটে, দ্বিতীয়বার এই গোষ্ঠীর শক্তি ও উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায় ১৯১৫ সালের দিকে, তৃতীয় দফায় এই গোষ্ঠী সবার মনোযোগ আকর্ষণ করে ১৯৫০-এর দিকে। যদিও একে একটি সংগঠন বলেই মনে হয়, আসলে এদের বিভিন্ন ধরনের সংগঠন রয়েছে। উগ্রপন্থীরা মিলিশিয়া গঠনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব এবং সমাজের বহুত্ববাদিতাকে চ্যালেঞ্জ করে এসেছে গোড়া থেকেই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে ‘সিলভার শার্ট লিজিয়ন’ ও ‘ক্রিশ্চিয়ান রাইট’ নামের সংগঠন বিকশিত হয়, ১৯৫০-এর দশকে আমরা দেখতে পাই ‘ক্যালিফোর্নিয়া রেঞ্জার’, ‘মিনিটম্যান’-এর উত্থান এবং ১৯৮০-এর দশকে আসে ‘ক্রিশ্চিয়ান প্যাট্রিয়ট ডিফেন্স লিগ’, ‘টেক্সাস ইমার্জেন্সি রিজার্ভ’, ও ‘হোয়াইট প্যাট্রিয়ট পার্টি’। ১৯৯০-এর দশকে এই ধরনের গোষ্ঠীর সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। সেই সময়ই আমরা একাধিক ঘটনা দেখতে পাই, যার মধ্যে ওকলাহোমাতে ফেডারেল বিল্ডিংয়ে টিমোথি ম্যাকভেইর বোমা বিস্ফোরণ গুরুত্বপূর্ণ।
শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী সহিংস গোষ্ঠীগুলোর বিকাশের পাশাপাশি আমরা দেখতে পাই যে কেন্দ্রীয় সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, মার্কিন সমাজের ভেতরে থেকে প্রতিরোধের একটি ধারা শক্তিশালী হয়ে উঠছে। ১৯৫৪ সালে ব্রাউন বনাম বোর্ড অব এডুকেশনের মামলা থেকে ১৯৬৮ সালে প্রেসিডেন্ট লিনডন জনসন কর্তৃক সিভিল রাইটস অ্যাক্টে স্বাক্ষর করা পর্যন্ত ১৪ বছরের ইতিহাস আমাদের দেখিয়ে দেয়, জনসমাজের বা সিভিল সোসাইটির নাগরিক অধিকার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অধিকার আদায় ও তা রক্ষার একটি শক্তিশালী ধারা এই দেশে বিরাজমান। এই সংগ্রামের অংশীদার সংগঠনগুলো গড়ে উঠেছে বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই—১৯১০ সালে ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব কালারড পিপল (এনএএসিপি), ১৯২০ সালে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ), ১৯২৮ সালে দ্য লিগ অব ইউনাইটেড লাতিন আমেরিকান সিটিজেনস (লুলাক), ১৯৩৯ সালে লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ড (এলডিএফ), ১৯৬৬ সালে ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর উইমেন (নাউ) নাগরিকের অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে আইনি লড়াই চালিয়েছে, জনসচেতনতা তৈরি করেছে, গণসম্পৃক্ত আন্দোলন সৃষ্টি করেছে। এই সব আন্দোলনের চেহারা হচ্ছে বহু বর্ণের, বহু ধর্মের। একইভাবে ১৯৭০-এর দশকে ভিয়েতনামের যুদ্ধের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন, সেটি কোনো গোষ্ঠীর নয়, বিশেষ রাজনৈতিক দলের নয়। ১৯৭১ সাল থেকে বর্ণবাদ, অভিবাসীদের অধিকার এবং হেইট ক্রাইমের বিরুদ্ধে সাদার্ন পভার্টি ল সেন্টারের (এসপিএলসি) কাজ এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য। এসব কেবল যে গত শতাব্দীর বিষয় তা নয়, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর দেশে হেইট ক্রাইমের বিরুদ্ধে নাগরিক সমাজের অবস্থানও স্মরণ করা দরকার।
মার্কিন সমাজের ইতিহাস থেকে আমরা দেখতে পাই, মার্কিন সমাজে উগ্রপন্থার ও রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষায় তিনটি বিষয় কাজ করেছে। এগুলো হচ্ছে প্রথমত মার্কিন প্রশাসনিক ব্যবস্থা—রাষ্ট্রের যে তিনটি প্রতিষ্ঠান আছে, তার মধ্যে ভারসাম্য, যাকে আমরা চেক অ্যান্ড ব্যালান্স বলে বর্ণনা করি; নির্বাহী বিভাগ (প্রেসিডেন্ট), আইন প্রণয়নকারী বিভাগ (কংগ্রেস) ও বিচার বিভাগের (আদালত) মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি সাংবিধানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে অন্য দুই বিভাগ সব সময় সক্রিয় থেকেছে। দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, অর্থাৎ প্রশাসনে কর্মরত ব্যক্তিদের পেশাদারত্ব। তৃতীয়টি হচ্ছে জনসমাজ বা সিভিল সোসাইটির শক্তিশালী ভূমিকা, যা এই সব প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কার্যকর থেকেছে। এর বাইরেই তার প্রকাশ ঘটেছে, যেমন অকুপাই ওয়ালস্ট্রিট আন্দোলন। তবে জনসমাজের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে গণমাধ্যম; সরকার, রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিবিদদের জবাবদিহির ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অসামান্য।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম বিবেচনার ক্ষেত্রে এটা উল্লেখ করা দরকার, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন। ভিন্নতার দিক পাঁচটি। প্রথমত, সমাজে অসহিষ্ণুতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে সাদার্ন পভার্টি ল সেন্টারের হিসাব মতে, দেশে মোট হেইট গ্রুপের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১৭, একই সময়ে আমরা মুসলিমবিরোধী গোষ্ঠীর সংখ্যা তিন গুণ বাড়তে দেখেছি—২০১৫ সালে ৩৪টি থেকে ২০১৬ সালে বেড়ে ১০০টিতে দাঁড়িয়েছে। শুধু তা-ই নয়, এই অসহিষ্ণুতার বৈশ্বিক দিকও আছে। ইউরোপসহ অন্যত্রও আমরা একই প্রবণতা লক্ষ করছি। দ্বিতীয় দিকটি হচ্ছে, অসহিষ্ণুতা এখন মূলধারায়, বিশেষত প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে কেবল জায়গাই করে নিয়েছে তা-ই নয়, তাদের একধরনের পক্ষপাতও লক্ষ করা যাচ্ছে। শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীরা অতীতে সমাজের ফ্রিঞ্জ বা ক্ষুদ্র গোষ্ঠী বলে বিবেচিত হতো। কিন্তু এবারের নির্বাচনী প্রচারণা এবং পরবর্তীকালে প্রশাসনে ব্রেইটবার্ট ওয়েবসাইটের লোকজনের, বিশেষত স্টিভ বেনানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থেকে এটা স্পষ্ট, এই প্রশাসনের রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা তাদের দ্বারাই নির্ধারিত হচ্ছে। এটি ইতিমধ্যেই উগ্র দক্ষিণপন্থীদের জন্য একধরনের উৎসাহ হিসেবে কাজ করেছে। একাধিক ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিককে হত্যা, ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের সেন্টার ও সেমেটারি এবং বিভিন্ন মসজিদে হামলার পর হোয়াইট হাউসের নীরবতা এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।
তৃতীয়ত, কংগ্রেসে রিপাবলিকান দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা। কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠতাই নয়, রিপাবলিকান দলের সদস্যরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এখনো সুস্পষ্টভাবে ভিন্নমত প্রকাশে অনীহ বলেই প্রতীয়মান। চতুর্থত, ট্রাম্পের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক বক্তৃতা ও কর্মকাণ্ডে এটাই দেখা যাচ্ছে, তিনি কর্তৃত্ববাদী নেতাদের কেবল পছন্দই করেন না, তিনি নিজেও সেইভাবেই দেশ চালানোয় উৎসাহী। পঞ্চম বিষয়টি হচ্ছে রাষ্ট্রকাঠামো প্রশ্নে এই প্রশাসনের নীতিগত অবস্থান। স্টিভ বেনন কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সে বলেছেন, তাঁদের লক্ষ্য হচ্ছে ‘প্রশাসনিক রাষ্ট্র ভেঙে ফেলা’(ডিকনস্ট্রাকশন অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ স্টেট)। যার অর্থ হচ্ছে, এত দিন ধরে গড়ে ওঠা ব্যবস্থাকে তাঁরা অকার্যকর করে ফেলতে চান, যা প্রকারান্তরে ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে নির্বাহী বিভাগকে শক্তিশালী করে তুলবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ধরনের নির্বাহী আদেশ সেই দিকেই ইঙ্গিত দেয়। আর তা যে কারও জন্যই উদ্বেগের।

আলী রীয়াজ: ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক

(প্রথম আলো থেকে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here