নিউইয়র্কে সঙ্গীতশিল্পী শম্পা জামান গ্রেপ্তার অভিযোগ ৩০ সদস্যের ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি চক্রের সহযোগী ছিলেন শম্পা

বর্ণমালা নিউজ: নিউইয়র্কের বাংলাদেশী কমিউনিটিতে সঙ্গীতশিল্পী হিসাবে প্রতিষ্ঠা পাবার চেষ্ঠা করে যাওয়া শম্পা জামানকে নিউইয়র্ক পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াত চক্রের সহযোগী হিসাবে। কুইন্স ডিস্ট্রিক এটর্নী রিচার্ড ব্রাউনের অফিস সূত্রে জানা গেছে কুইন্সের একটি বিশাল ক্রেডিট কার্ড জালিয়াত চক্রকে গত দু‘বছর ধরে পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধন্ধান প্রক্রিয়ার পর ৩০ সদস্যের একটি জালিয়াত চক্রকে ৯ মার্চ বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন জ্যামাইকায় বসবাসকারী বাংলাদেশী সঙ্গীতশিল্পী শম্পা জামান সহ তিন বাংলাদেশী পুরুষ। এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে কমপক্ষে ৭ বছর জেলবাস করতে হবে।

বাংলাদেশী দলনেতা মোহাম্মদ রানার নেতৃত্বে ৩০ সদস্যের এই জালিয়াত চক্র বিভিন্ন মানুষের পচিয় ও জীবন বৃত্তান্ত চুরি করে ক্রেডিট কার্ড তৈরী ও ক্রেডিট লাইন বৃদ্ধি করে তা ব্যবহার করে বিভিন্ন নামীদামী স্টোর থেকে বিশাল অংকের ডলারের পেষাক-িপরিচ্ছদ, অলঙ্কার ও ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী শপিং করতেন। এভাবে চক্রটি ৩৫ লক্ষ ডলার হাতিয়ে নেয়।

ডিস্ট্রিক এটর্নী রিচার্ড ব্রাউন জানিয়েছেন এই প্রতারক দলটিকে ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৭ সালের জানুয়ারী মাস পর্যন্ত নিবীড় পর্যবেক্ষণ ও কড়া নজরদারীতে রাখে নিউইয়র্ক পুলিশের আইডেন্টিটি থেপট স্কোয়াড।

এদিকে বাংলাদেশী কমিউনিটির অনেকেই শিল্পী শম্পা জামানের গ্রেপ্তরের খবর শোনার পর তার সাম্প্রতিক সময়ের বিলাসী ও বৈভবপূর্ণ জীবন যাপনের রহস্য খুঁজে পেয়েছেন। এদের মধ্যে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন তিনি প্রায়ই শম্পাকে কুইন্স মল মেসি স্টোরে হাজার ডলারের কেনাকাটা করতে দেখেছেন। আরেক জন বলেছেন তার আয়ের সাথে সঙ্গতিবিহীন দামী ব্রান্ডের ওভারকোর্ট, ব্রান্ডেড ভ্যানিটি ব্যাগ ব্যবহার করতে দেখেছেন শ্পাকে যার একেকটির মূল্য হাজার ডলারেরও উপরে।

৩০ অপরাধীর এই চক্রটিতে বাংলাদেশী, গায়নিজ ও ভারতীয়রা রয়েছেন। দলটির নেতার মোহাম্মদ রানাও জ্যামাইকা বসবাস করেন এবং ওজন পার্কে। তার একটি দোকান রয়েছে। আরও রয়েছেন ভ্যালি স্ট্রীমের মোহাম্মদ ইকবাল (৩০), ব্রায়ারউডের মোহাম্মদ হাসান (৫৬) জ্যামাইকা ১৭২ স্ট্রীটের জাভেদ মালিক (৬০), ইন্দরজিত সিং (২৪), রণভি সিপারসাদ (২৫), সোনম কুকরিজা (২৬), রণজিৎ সিং (৩০), বলবিন্দর সিং (৩৬), অংকিত চাধা (২৯), জন ডো (বয়স অজ্ঞাত), কমলজত সিং (২৪), সিঙ্গারা সিং (২৮), সুখজিন্দার সিং (বয়স অজ্ঞাত), তাজিন্দার সিং (২৫), তানভির সিধু (২৫), মহসীন খান (৫৯), আলেজান্দ্রো গয়েসো (৪৬), গৌরব চাবরা (৩৩), প্রদীপ গ্রোভার (৪৬), ক্যাপ্টেন সিং (২০), বারিন্দার সিং (২৭), হিলদা কোয়াডরোজ (২৯), সলোমান ক্যাস্টিলো (২৬), আদেল নাবিল (৫১), জামি রিওস (৫২),  গুরবাচন সিং (৫৫) সহ অনেকে।

প্রতারণার বা জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার বা সাজার ঘটনায় শম্পা জামান প্রথম বাংলাদেশী মহিলা নন। শম্পা জামানের আগে আরেক বাংলাদেশী মহিলা নীরা রব্বানী চার বছর আগে মটর্গেজ প্রতারণার সহযোগী হিসাবে গ্রেপ্তার হয়ে জেল খেটেছেন। জ্যাকব মিল্টন ওরফে সাব্বির আহেমদের সাথে সেই মটর্গেজ প্রতারণার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন নীরা রব্বানী। ইদানিং নীরা রব্বানী যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সক্রিয় অংশ গহণ করছেন। তার আগে নাসরিন নামে এক  বাংলাদেশী মহিলা রিয়েল এস্টেট এজেন্ট মটর্গেজ প্রতারণার অভিযোগ গ্রেপ্তার হয়ে ৬ মাস জেল খাটেন। বর্তমানে নাসরিন একটি প্রতিষ্ঠিত মটর্গেজ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।  আর প্রায় একযুগ আগে নিউইয়র্কের আরেক মহিলা সিগারেটের ব্যান্ডরোল (ট্রাক্স) ফাঁকি দেবার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সেটিই ছিল প্রথম কোন বাংলাদেশী মহিলার আমেরিকায় বড় রকমের অপরাধে জড়িত হবার ঘটনা।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here