গন্তব্য: কিশোরগঞ্জের কুতুব শাহী মসজিদ

0
181
প্রাচীন বাংলার এক গুরুত্বপুর্ণ ঐতিহ্যের নাম হল কুতুবশাহী মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত।

কিশোরগঞ্জের কুতুব শাহী মসজিদটি আবিষ্কারের সময় এটিতে কোন শিলালিপি বা লেখনী পাওয়া যায়নি বলে সঠিকভাবে এর নির্মাণকাল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্য রীতি ও অন্যান্য দিক বিবেচনা করে প্রত্নতত্ত্ববিদগণ ধারণা করেন এটি ১৬শ শতকে সুলতানী আমলে নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদটির পাশেই একটি কবর রয়েছে যা কুতুব শাহ-এর বলে ধরণা করা হয়ে থাকে। তার নামানুসারে মসজিদটিকে কুতুব মসজিদ বা কুতুব শাহী মসজিদ বলে ডাকা হয়। ১৯০৯ সালে তৎকালীন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটিকে সংরক্ষিত স্থাপনা হিসেবে নথিভুক্ত করে।

চারকোণা কুতুব মসজিদের ৪টি কোণেই রয়েছে ৪টি বুরুজ যা অষ্টভূজ আকৃতির। এটি উত্তর-দক্ষিণ দিকে লম্বা ও পূর্ব-পশ্চিমে প্রশস্ত। অষ্টভূজ আকৃতির বুরুজের উপর রয়েছে ৪টি মিনার। এছাড়াও মসজিদটিতে রয়েছে মোট ৫টি গম্বুজ। পশ্চিম দেয়াল ছাড়া এর তিনটি দেয়ালেই প্রবেশপথ রয়েছে। এই প্রবেশপথের সংখ্যা মোট ৫টি যার মধ্যে পূর্বদিকে রয়েছ ৩টি।
কুতুব মসজিদের বাইরের দেয়ালে বিভিন্ন নকশা করা রয়েছে। সুলতানী আমলের এ মসজিদটির ছাদের কার্নিশ বক্রাকার। তৎকালীন ময়মনসিংহ অঞ্চলের এটিই টিকে থাকা সুলতানী আমলের সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদ বলে ধারণা করা হয়।
কুতুব শাহী মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত।
কোথায়: কুতুব মসজিদ বা কুতুব শাহী মসজিদ কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলায় অবস্থিত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও বাংলাদেশের একটি প্রাচীন মসজিদ। মসজিদটি সুলতানী আমলে নির্মিত বলে ধারণা করা হয়।
কীভাবে যাবেন: সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ট্রেনে যাওয়া। প্রতিদিন সকাল ৭ টায় এগারসিন্দুর প্রভাতী (বুধবার বন্ধ) ছাড়ে কিশোরগন্জের উদ্দেশ্যে। এতে উঠে কুলিয়ারচর নেমে পড়ুন। এছাড়া সায়েদাবাদ থেকে তিশা এবং গুলিস্তান,  ফুলবাড়িয়া থেকে বিআরটিসি বাসে করেও কুলিয়ারচর যাওয়া যায়। যারা ভৈরব হয়ে যেতে চান তারা ভৈরব নেমে সিএনজিতে করে কুলিয়ারচর যেতে পারেন। শেয়ারে ভাড়া নেবে জনপ্রতি ৫০-৮০ টাকা। কুলিয়ারচর নেমে একটা রিক্সা নিয়ে চলে যান লঞ্চঘাট। এখান থেকে প্রতিদিন সকাল ৬ টা, ৮ টা, ৯ টা, ১১ টা এমনি করে ৩ টা পর্যন্ত লঞ্চ ছেড়ে যায় অষ্টগ্রাম। সময় লাগবে সাড়ে ৩ ঘন্টা। তারপর অষ্টগ্রাম থানা বা ডাকবাংলোর কাছ থেকে ১০ টাকা অটো ভাড়ায় ঐতিহাসিক কুতুব শাহী মসজিদে যাওয়া যায়।
বাংলাদেশের একটা চমৎকার প্রাচীন ঐতিহ্য হল এই কুতুবশাহী মসজিদ। কিশোরগঞ্জ গেলে একবার ঘুরে আসতে ভুলবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here