লেজের দাপটে টিকে গেল শ্রীলঙ্কা

0
89

স্পোর্টস ডেস্ক: মুশফিকদের অপেক্ষার পালাটা একটু দীর্ঘ হলো। ১৯০ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের দাপটে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংস গড়ালো পঞ্চম দিন পর্যন্ত। ৩টি করে উইকেট তুলে নিয়েছেন সাকিব আল হাসান এবং মুস্তাফিজুর রহমান। রানের চাইতেও এখন সময় কাটাতে চাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। যাতে তাদেরকে সফলই বলা যায়। এই টিকে থাকার লড়াই থেকে বাংলাদেশের অনেক শেখার আছে। ৯ম উইকেটে লড়ে চলছেন দিলরুয়ান পেরেরা (২৬) এবং সুরিন্দ্রা লাকমল (১৬)। চতুর্থ দিন শেষে তাদের দলীয় রান ৮ উইকেটে ২৬৮। টাইগারদের বিপক্ষে তাদের লিড হয়েছে ১৩৯ রানের।

মোসাদ্দেকের করা শেষ ওভারের শেষ বলে লাকমলের উইকেটটি নিয়ে যথেস্ট সন্দেহের অবকাশ আছে। আম্পায়ার আলিম দার প্রথমে সাড়া দিলেও পরে আবার ডিসিশন ফিরিয়ে নেন। তার আগেই লাকমল হাঁটা শুরু করে পরে আবার ফিরে আসেন। । এমন ঘটনায় হতবাক বাংলাদেশ রিভিউ নেয়। রিভিউতে বল ব্যাটে লাগার স্পষ্ট আওয়াজ পাওয়া গেলেও আউট দেওয়া হয়নি! ঘটনা যাই ঘটুক, শততম ম্যাচটি জিততে হলে পঞ্চম দিন সকালে যত দ্রুত সম্ভব বাকী ২ উইকেট তুলে নিতে হবে টাইগারদের। কারণ, যেকোনো সময় ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা এই দলটির আছে।  সকালে উইকেট হারিয়েও ঘুরে দাঁড়িয়েছিল শ্রীলঙ্কা। দিনের শুরুতেই মেহেদী মিরাজের দারুণ এক বলে বোল্ড হয়ে যান উপুল থারাঙ্গা। আউট হওয়ার আগে তিনি ২৬ রান করেন। লাঞ্চের পর আঘাত হানেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। কুশল মেন্ডিসের ৯১ বলে ৩৬ রানের ইনিংসটি শেষ হয় মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসবন্দী হয়ে। করুণারত্নের সঙ্গে তার দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আসে ৮৬ রান। যা বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে বের করে দিচ্ছিল।

এরপর আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান দিনেশ চান্দিমালকে নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন দ্য ফিজ। অনেক বাইরে দিয়ে যাওয়া বলটি সাধারণ ছিল। সেই বল তাড়া করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন চান্দিমাল। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে দারুণ ক্যাচ নেন মুশফিকুর রহিম। ৫ রানেই ফিরতে হয় চান্দিমালকে। এরপরই মঞ্চে আবির্ভাব ঘটে সাকিব আল হাসানের। সাকিবের সোজা বল পা বাড়িয়ে না খেলে ছেড়ে দেন গুণারত্নে। বল পায়ে লাগলে জোড়ালো আবেদন হয়। ৭ রান করেই ফিরতে হয় গুণারত্নেকে।

১ রানের ব্যবধানে আবারও কাটার মাস্টারের আঘাত। মুস্তাফিজের ফুল লেংথের বলটি খেলতে গিয়ে দ্বিধায় পড়ে যান ধনঞ্জয়। তাতে বল ব্যাটে লেগে সোজা চলে যায় মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসে। এরপরই ১৬৮ বলে ৯ চার এবং ১ ছক্কায় তিন অংকে পৌঁছান ওপেনার করুণারত্নে। তার নতুন সঙ্গী নিরোশান ডিকাভিলা ৫ রান করতেই শিকার হন সাকিবের ঘূর্ণির। লঙ্কান উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানকে মুশফিকের গ্লাভসবন্দী করে ইনিংসে দ্বিতীয় উইকেট শিকার করেন সাকিব।

এরপর আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে স্বাগতিকরা। ২৭ রানের জুটিও গড়ে ফেলেছিলেন করুণারত্নে এবং দিলরুয়ান পেরেরা। কিন্তু সাকিব আল হাসান তো আছেন। সেঞ্চুরিয়ান করুণারত্নেকে ফিরিয়ে নিজের তৃতীয় উইকেট তুলে নেন সাকিব। দারুণ চাপ মাথায় নিয়ে খেলা লঙ্কান ওপেনারের ২৪৪ বলে ১২৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংসটি শেষ হয় সৌম্য সরকারের তালুবন্দী হয়ে। পরের শিকারীর নাম তাইজুল ইসলাম। দীর্ঘক্ষণ পরে বোলিংয়ে এসে দ্বিতীয় বলেই রঙ্গনা হেরাথকে (৯) ফিরিয়ে দেন তিনি। এখন ব্যাটে-বলে আর ধৈর্য্যে টাইগারদের অগ্নিপরীক্ষা নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করে আছে পঞ্চম দিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here