সুইডেনে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উৎযাপন

0
110

স্টোকহোল্স (সু্ইডেন) : বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, সুইডেন শাখার উদ্যোগে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহান স্থপতি , শান্তির জুলি ও কুরি, রাজনীতির কবি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৭ তম জন্মবার্ষিকী গভীর শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার সাথে পালন করা হয়েছে।গতকাল রবিবার বিকালে স্টোকহোল্মের ফ্লেমিংবেরী এলাকায় বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, সুইডেন শাখার সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুর ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাছান খানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব সামসুদ্দিন আহমেদ খেতু মিয়া, উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মশিউল আলম ।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন সুইডেন শাখার নেতৃবৃন্দ : শফিকুল আলম লিটন, লাভলু মনোয়ার, কাজী মিরাজ, ডাঃ শাহনেয়াজ বিপ্লব, হেদায়েতুল ইসলাম শেলী , মুজাহিদুল ইসলাম নওরোজ ,সাইফুল ইসলাম চুন্নু প্রমুখ।উপস্থিত বক্তারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন কর্মের উপর আলোকপাত করেন ।বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মশিউল আলম বঙ্গবন্ধুর জীবন পঞ্জিকা পড়ে শুনান এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সকল সৈনিকদের মাঝে অনেক অজানা তথ্য তুলে ধরেন । তিনি বঙ্গবন্ধুকে পোশাকে নয় অন্তরে ধারণ করেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর শোকে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব সামসুদ্দিন আহমেদ খেতু ভাই তার বক্তব্যে বলেন ” জাতির জনকের জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না৷ উনার ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বাংলাদেশের স্বাধীনতারই অনানুষ্ঠানিক ঘোষণা। এরকম মহান মানুষের জন্মদিন পুরো জাতির জন্যই গৌরবের। “মুজাহিদুল ইসলাম নওরোজ তার বক্তব্যে বলেন “বঙ্গবন্ধু তার মেধা, প্রজ্ঞা, নেতৃত্ব , সততা এবং বাঙালির ভালোবাসায় পরিনিত হয়েছেন খোকা থেকে মুজিব, মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির জনক ।”ডাঃ শাহনেয়াজ বিপ্লব তার বক্তব্যে বলেন “বঙ্গবন্ধু আমাদের অসাম্প্রদায়িক , প্রগতিশীল ও আধুনিক সোনার বাংলা বিনির্মানে অফুরান শক্তির উৎস। ”

লাভলু মনোয়ার তার বক্তব্যে বলেন “জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্র জীবন থেকেই ছিলেন দুরন্ত, সাহসী এবং প্রতিবাদী। অন্যায়কে কখনো তিনি প্রশ্রয় দিতেন না। জাতির জনকের সাহসিকতার উপর ভর করেই বাংলাদেশ আজ স্বাধীন হয়েছে। বিবিসির জরিপে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ঘোষণা তার ত্যাগের স্বীকৃতি। ”

নাজমুল হাছান খান তার বক্তব্যে বলেন “বঙ্গবন্ধু জন্ম দিন পালন করেন না। জন্মদিনে মোমবাতি জ্বালান না এবং কেকও কাটেন না ! জনগণই ছিল বঙ্গবন্ধুর চিন্তা-চেতনার কেন্দ্রবিন্দু। নিজের জন্মদিন বা মৃত্যু নিয়ে ভাববার সময় তাঁর ছিল না। ” জনাব নাজমুল বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মশাল বঙ্গবন্ধুর সকল সৈনিকদের মধ্যে জ্বালিয়ে দেয়ার আহবান জানান ।

ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুর ভূঁইয়া তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন “বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে এনে দিয়েছেন বিজয় – উপহার দিয়েছেন ‘স্বাধীনতা’ নামে একটি শব্দ , সাথে একটি লাল সবুজের পতাকা , প্রানপ্রিয় জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা , আমি তোমায় ভালোবাসি’ । তিনি বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ ” সোনার বাংলা ও অর্থনৈতিক মুক্তি , সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ” এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার পলাতক খুনিদের খুঁজে বের করে সাজা কার্যকরী করার উপরে জোর দেন । তিনি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সকল সৈনিকদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান৷ আলোচনা শেষে জন্মদিনের কেক কাটার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here