৪১ বছরে আমেরিকায় ১৪৪৬ জনের মৃত্যুদন্ড কার্যকর বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদন্ডে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ‘র উদ্বেগের পেছনে রহস্য কি?

-মাহফুজুর রহমান

মাহফুজুর রহমান

আমেরিকা ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বাংলাদেশে মৃত্যুদন্ড রহিত করার আবেদন করেই যাচ্ছে। আর তা করতে গিয়ে তারা মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার শুরুর পর থেকে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত সকল যুদ্ধাপরাধীর রায় ঘোষণার সাথে সাথে তাদের ‘মৃত্যুদন্ড’ না দিতে আহŸান জানিয়ে যাচ্ছে। এবার হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ২০০৪ সালে বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার মূল হোতা মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকর স্থগিত করার আহŸান জানিয়েছে। ব্রিটিশ হাইকমিশনারের উপর হামলার অভিযোগে মুফতি হান্নানসহ দুই জঙ্গি মৃত্যুদন্ড কার্যকরের অপেক্ষা করছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বাংলাদেশে মানবতা বিরোধী অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদন্ডের বিরোধিতা করলেও খোদ আমেরিকার ৫০টি স্টেটের মধ্যে ৩১টিতে মৃত্যুদন্ড বহাল থাকলেও তা বন্ধের বিষয়ে কোন উচ্চবাচ্য করে না। ১৯৭৬ সাল থেকে এপর্যন্ত ১৪৪৬ জনকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করেছে আমেরিকা জানিয়েছে ওয়াশিংটন ভিত্তিক ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টার (ডিপিআইসি)। চলতি বছর ৫জনকে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার অপেক্ষায় রয়েছে দেশটির ভিভিন্ন স্টেট। আর ২০১৬ সালের জুলাই পর্যন্তু মোট ২৯০৫ জনকে মৃত্যুদন্ডর রায় দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিচার্স সেন্টার।
আমেরিকায় সবচেয়ে বেশী মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয় টেক্সাস স্টেটে। গত ৪১ বছরে শুধু টেক্সাস স্টেটেই ৫৪০ জনের মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়েছে।
বাংলাদেশে অপরাধীদের শাস্তি দেয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে স্বীকার করেও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে মৃত্যুদন্ড দিয়ে বাংলাদেশ ভুল পথে যাচ্ছে অথচ যে দেশটিতে এর সদর দপ্তর সেদেশ আমেরিকায় এবছর যে ৫জনকে মৃত্যুদন্ডে প্রাণ কেড়ে নেয়া হবে জেনেও তাদের বিষয়ে কোন উদ্বেগ নেই হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নামের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানটির। তাদের এই দ্বিমূখী নীতি অর্থ্যাৎ আমেরিকার ক্ষেত্রে সাধারন হত্যা ও খুনের বিচারে মৃত্যুদন্ডে বিচলিত না হওয়া এবং বাংলাদেশে মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদন্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করার পেছনে কি রহস্য রয়েছে তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে বলে মনে করেন আমেরিকায় বসবাসকারী বাংলাদেশীরা। কারন যে দেশে বসে তারা বাংলাদেশ বা অন্য দেশের মৃত্যুদন্ডেরে বিরোধিতা করছেন সেইদেশের ৩১টি স্টেটে মৃত্যুদন্ড প্রচলিত থাকলেও তােেত তাদের কেন উদ্বেগ নেই? গত ৪১ বছরে আমেরিকায় সাধারন খুন ও হত্যার ঘটনায় ১৪৪৬ জনকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করে প্রাণ নেয়ার ঘটনায় যে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নামের প্রতিষ্ঠানটিকে কঠোরভাবে বিচলিত হতে দেখা যায়নি তারাই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানী বর্বর সেনাবাহিনীর গণহত্যার সহযোগীদের আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালে বিচার করে মৃত্যুদন্ড দেয়ার ঘটনায় ইতলা হতে দেখে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে এই সংগঠনটি কি মৃত্যুদন্ড রহিতের দাবীর চেয়ে যুদ্ধপরাধীদের পক্ষে বেশী সাফাই গাচ্ছে না? কারন যুদ্ধাপরাধী ও মুফতি হান্নান ছাড়াও বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশে সাধারন খুন ও হত্যার জন্য অনেককেই ফাঁিসতে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে। কিন্তু তাদের বেলায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে তেমন সোচ্চার হতে দেখা যায়নি।
তাছাড়া বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা নিয়েও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় অভিমত অভিজ্ঞমহলের। মুফতি হান্নান ও তার দুই সহযোগী বিপুল ও রিপনের মৃত্যুদন্ড রায়কে সমালোচনা করে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে যে প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে তা মূলত আসামীদের স্বীকারোক্তি। কিন্তু অভিযুক্তরা দাবি করেছে পুলিশি নির্যাতনের মাধ্যমে জোর করে তাদের আদালতের সামনে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়। জঙ্গী ও উগ্র মৌলবাদী দলের সদস্য এসব আসামীদের দ্বারা সংগঠিত অপরাধকে আমলে না নিয়ে তাদের দাবীকে গুরুত্ব দিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার উপর পর্যবেক্ষণকে চাপিয়ে দেবার যে প্রয়াস দেখাচ্ছে তা কোনভাইে গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন অভিজ্ঞমহল।

মাহফুজুর রহমান , প্রধান সম্পাদক সাপ্তাহিক বর্ণমালা, নিউইয়র্ক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here