নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সম্পর্কিত সেমিনার পন্ড আওয়ামী বাঁধার মুখে আয়োজনের মূল লক্ষ্য কি যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেমের পুত্রের মুক্তি দাবী?

বর্ণমালা ডেস্ক : দর্শক-শ্রোতাদের তুমুল প্রতিবাদের মুখে পন্ড হয়ে গেল ‘বাংলাদেশ ডেমক্র্যাসী কনফারেন্স’। ২৯ মার্চ বুধবার রাতে নিউইয়র্ক সিটির বার্নার্ড কলেজের মিলনায়তনে ‘আর্চার ব্লাড সেন্টার ফর ডেমক্র্যাসী’ এবং ‘ক্লাব বাংলা’র যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন, মানবাধিকার ও শ্রমিক অধিকার, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা, রাজনৈতিক উগ্রবাদ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয়ে এই কনফারেন্সের আয়োজন করা হলেও মূলত: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধে ফাঁসিতে দন্ডিত মীর কাসেম আলীর পুত্র মীর আহমেদ বীন কাসেম আরমানের মুক্তির বিষয়টি ছিল আলোচকদের প্রধান আলোচ্য বিষয়।

আলোচকদের মধ্যে ছিলেন হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো লিসা কার্টিস, মানবাধিকার বিষয়ক এটর্নী সমতলী হক, ভারতের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ড. জয়ীতা ভট্টাচার্য এবং বাংলাদেশের ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. দীনা সিদ্দিকী। হোস্ট সংগঠন ‘আর্চার ব্লাড সেন্টার ফর ডেমক্র্যাসী’র প্রেসিডেন্ট হিসেবেও পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় ড. দীনা সিদ্দিকীকে। আর্চার ব্লাড সেন্টার ফর ডেমক্র্যাসীর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দাবি করে এ আলোচনার সূত্রপাত ঘটান কাউসার মুমিন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক হুমায়ূন কবীরকে ‘লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স’র দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রচারপত্র ও আমন্ত্রণ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল। তিনি যথাসময়ে নিউইয়র্কে আগমণ করা সত্বেও অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। এ প্রসঙ্গে কাউসার মুমিন সূচনা বক্তব্যেই উল্লেখ করেন যে, ‘হুমায়ূন কবীর বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের লোক হওয়ায় শেষ মুহূর্তে আমরা তাকে বাদ দিয়েছি’। উল্লেখ্য, এই হুমায়ূন কবীর যে বিএনপির নেতা এবং লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানের উপদেষ্টা, লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিক্সের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ নন-এ ব্যাপারটি পূর্বাহ্নেই আয়োজকরা জানা সত্বেও গোপন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আলোচনা হবার কথা বার্ণার্ড কলেজের হেল্ড লেকচার হলে সন্ধ্যা ৭ থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। নির্দিষ্ট সময়ে ঐ লেকচার হলে কাউকে পাওয়া যায়নি। এক পর্যায়ে সোয়া ৭টায় ‘ক্লাব বাংলার’র কো-প্রেসিডেন্ট আলেমা বেগম সেখানে উপস্থিত হয়ে ঐ লেকচার হলের দরজায় একটি নোটিশ লাগান। সেখানে বলা হয় যে, অনুষ্ঠানের স্থান ও সময় পরিবর্তিত হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টার স্থলে রাত ৯টায় শুরু হবে এবং ভেন্যু হচ্ছে ‘মেথম্যাটিক্স বিল্ডিং-এর ৩১২ নম্বর কক্ষে।

এ আলোচনা হচ্ছে বার্ণার্ড কলেজে, অথচ আগে প্রচার করা হয়েছে ‘কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে। বার্নার্ড কলেজ হচ্ছে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত শুধুমাত্র মহিলাদের জন্যে কলেজ। শুধু তাই নয়, ‘আর্চার বøাড সেন্টার ফর ডেমক্র্যাসী’ নামক কোন থিঙ্কট্যাংকেরও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি এখন পর্যন্ত। ‘অস্তিত্বহীন থিঙ্কট্যাংকের নামে বিশেষ মতাদর্শের লোকজনকে নিয়ে বিশেষ রাজনৈতিক দলের পারপাস সার্ভের চেষ্টা করা হচ্ছে’-এমন অভিযোগ করেন নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী। ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের সমাবেশে জাকারিয়া কর্তৃক সুনির্দিষ্টভাবে এ অভিযোগের পর ঐ সমাবেশের প্রধান অতিথি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান দলীয় নেতা-কর্মীদের সজাগ থাকতে বলেছিলেন। সে আহবানে সাড়া দিয়েই অর্ধ শতাধিক নেতা-কর্মী জড়ো হন কথিত এই থিঙ্কট্যাংকের আলোচনা সভা তথা সেমিনারে। আওয়ামী লীগের বাইরে ছিলেন বিএনপির ৭/৮ জন, ঐক্য পরিষদের দু’জন। দল-নিরপেক্ষ ৫ জন। অর্থাৎ পুরো অডিটরিয়াম আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দখলে ছিল।

আলোচকরা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নাম-নিশানা নেই, যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে বিরোধী দলীয় নেতাদের ফাঁসি দেয়া হচ্ছে, জঙ্গি দমনের নামে বিরোধী রাজনীতিকদের খতম করা হচ্ছে, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নামে বাংলাদেশের পরিবেশ ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে সরকার, বাংলাদেশের মিডিয়া সঠিক সংবাদ প্রকাশ বা প্রচারে সক্ষম হচ্ছে না, গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিরাপত্তায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে সরকার সীমাহীন কৃপণতা প্রকাশ করছে ইত্যাদি অভিযোগ করতে থাকেন। এ অবস্থায় দর্শকের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করার সুযোগ চাইলে আয়োজকরা জানান যে, প্যানেলিস্টদের আলোচনা শেষে প্রশ্নের সুযোগ দেয়া হবে। সে অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, যুবলীগ নেতা জামালউদ্দিনসহ কয়েকজন প্যানেলিস্টদের কাছে প্রশ্ন করে জানতে চান যে, তারা কেন সত্যিকারের পরিস্থিতি গোপন করেছেন। এ সময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মাসুদুল হাসান দাঁড়িয়ে নিজের ফিরিস্তি দিতে থাকলে আয়োজকরা তাকে থামতে বলার পরই সকলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এবং আলোচনাটি পন্ড হয়ে যায় তুমুল বাদ-বিতন্ডার মধ্যে। এক পর্যায়ে পুলিশ ডাকাও হয়েছিল।

অনুসন্ধানকালে জানা যায়, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকায় মার্কিন কন্স্যুলার ছিলেন আর্চার ব্লাড। পাক হায়েনাদের নৃশংসতার বিস্তারিত তথ্য তিনি ওয়াশিংটন প্রশাসনকে অবহিত করেছেন। তেমন একজন ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে যে থিঙ্কট্যাংকের কথা বলা হচ্ছে তার কোন অস্তিত্ব নেই জেনে এ সংবাদদাতার পক্ষ থেকে কাউসার মুমিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি লিখিতাকারে জানান, ‘এটি এ বছরের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম, এবং ট্র্যান্সপারেন্সী ইন্টারন্যাশনালের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন সভাপতি ফ্রাঙ্ক ভোগল। বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে রয়েছেন ডক্টর দীনা সিদ্দিকী এবং নির্বাহী পরিচালক হিসেবে কাউসার মুমিন।’ কথিত এই থিঙ্কট্যাংকের কার্যক্রম সম্পর্কে কাউসার মুমিন আরো উল্লেখ করেছেন, ‘আর্চার ব্লাড সেন্টার ফর ডেমক্র্যাসী মূলত: জাতিসংঘের ‘ইন্টারন্যাশনাল কোভিনেন্ট অন সিভিল এন্ড পলিটিক্যাল রাইটস’ বাস্তবায়নে দক্ষিণ এশীয় গণতন্ত্রগুলোর অবস্থান ও কার্যক্রম পর্যালোচনা করে। এছাড়া গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও মানবাধিকার বাস্তবায়নে জাতিসংঘের থার্ড কমিটির প্রস্তাবনার নিরিখে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আহবান জানায়। সংগঠনের ওয়েবসাইটের কাজ চলছে এবং আমরা আশা করছি আমাদের আগামী (এই )অনুষ্ঠানের কার্যক্রম দিয়েই আমরা ওয়েবসাইটটি উম্মুক্ত করতে পারবো।’ কাউসার মুমিন আরো উল্লেখ করেছিলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর আগামী মার্চের ২৯ তারিখে (আজ) কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠেয় সেমিনারটিই হবে প্রথম আয়োজন’। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ই-মেইল, টেলিফোন এবং স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচারনা চালানো হয় এই অনুষ্ঠানের। যদিও মঞ্চের পেছনে কোন ব্যানার দেখা যায়নি। এমনকি শ্রেণীকক্ষের বোর্ডটিও ছিল এ্যলজাবরায় পরিপূর্ণ।

২০১৪ সালের শেষার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৬ কংগ্রেসম্যানের স্বাক্ষর জাল করে তারেক রহমান তথা বিএনপির পক্ষে একটি ভ’য়া বিবৃতি তৈরীর পর তা বিভিন্ন মিডিয়ায় বিতরণ করেছিলেন লন্ডনে বসবাসরত বিএনপি নেতা হুমায়ূন কবীর। এতদসত্বেও তাকে কেন লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিক্সের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমন্ত্রণ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি জানতে চাইলে কাউসার মুমিন এ সংবাদদতাকে লিখিতাকারে জানান, ‘আমাদের একজন প্যানেলিস্ট হুমায়ূন কবীরের রাজনৈতিক পরিচয়টি তার কাছেই জিজ্ঞাসা করতে পারেন। সেটিই উত্তম। তবে আমরা তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি দক্ষিণ এশিয়ার বিশেষজ্ঞ হিসেবেই। তিনি যদি কোন রাজনৈতিক দলের লোক হয়েও থাকেন, তা এখানে বিবেচ্য নয়।’

লন্ডন থেকে তিনি এসেছেন এ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার জনে। তবে তাকে শেষ মুহূর্তে নিষেধ করা হয় সেখানে উপস্থিত না হতে।
অনুসন্ধানকালে আরো জানা গেছে, কাউসার মুমিন বিএনপি আমলে পররাষ্ট্র সচিব শমসের মোবিন চৌধুরী বীরবিক্রমের নিয়োজিত স্টাফ ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। সেখান থেকে তাকে ২০০৪ সালে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনে প্রেরণ করা হয়। ২০০৯ সালে তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রকাশ ঘটে যে, তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের ক্যাডার ছিলেন এবং জাতিসংঘ মিশনের স্টাফ হিসেবে তাদের পারপাসই সার্ভ করেছেন। এ অবস্থায় তাকে ঢাকায় বদলি করা হয়। তিনি ঢাকায় ফিরে যাবার জন্য মিশন থেকে বিমান ভাড়ার অর্থ গ্রহণ করেও দেশে ফিরে না গিয়ে নিউইয়র্কেই অবস্থান করছেন। এ বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কে আরেকটি সেমিনার হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ করে এবং সেই ঘটনাকে ‘বিশ্বের বৃহত্তম ব্যাংক ডাকাতি’ উল্লেখ করে। সরকারের শীর্ষপর্যায়ের লোকজন জড়িত বলেও কথিত সেই সেমিনার থেকে উল্লেখ করা হয়। সেই সেমিনারের হোস্ট ছিল ‘ইন্টারন্যাশনাল কমিটি এগেইনস্ট ফিনান্যান্সিয়াল ক্রাইমস’ (আইসিএএফসি)। আর এই আইসিএএফসি’রও পরিচালক এবং মুখপাত্র হিসেবে সেই সেমিনার পরিচালনা করেছেন এই কাউসার মুমিন। এবং তার সাথে এই অনুষ্টান আয়োজনে মূখ্য ভ‚মিকা পালন করেন সাপ্তাহিক প্রবাসের প্রধান সম্পাদক ওলিউর রহমান।

বদলি করার পর বাংলাদেশে ফিরে না যাওয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাউসার মুমিনকে ‘পলাতক’ হিসেবে নথিভুক্ত করা আছে বলে জাতিসংঘে বাংলাদেশের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) নূরএলাহি মিনা এ সংবাদ মাধ্যমকে জানান।

কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ক্লাব বাংলা’র সদস্য সংখ্যা শতাধিক। তবে এ অনুষ্ঠানে ছিলেন মাত্র ৩ জন। কো-প্রেসিডেন্ট আলেমা বেগম এ সংবাদদাতাকে জানান যে, ‘কাউসার মুমিন তার আত্মীয়। তার অনুরোধেই তিনি তার ক্লাবকে কো-হোস্ট হিসেবে সম্পৃক্ত করেছেন, এর বেশী কিছু জানেন না তিনি। বাংলাদেশের রাজনীতির ব্যাপারে তার কোন ধারণা নেই বলেছেন আলেমা বেগম। এবারের সেমিনারটির আয়োজনের সাথেও সম্পৃক্ত রয়েছেন সাপ্তাহিক প্রবাসের প্রধান সম্পাদক ওলিউর রহমান। এছাড়াও সাংবাদিক ইমরান আনসারীও কাউসার মোমিনকে সহযোগিতা করেছেন এই সেমিনার আয়োজনে।

এদিকে, রাজনৈতিক মতলব হাসিলের জন্যে বাংলাদেশের ইমেজ বিনষ্ট হয়, এমন যে কোন অপতৎপরতা রুখে দিতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবার বদ্ধ পরিকর বলে উল্লেখ করেছেন সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী সেমিনার পন্ড হবার পর এ সংবাদদাতাকে বলেন, ‘৬ কংগ্রেসম্যানের স্বাক্ষর জালিয়াতির পর সেই একই চক্র বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণের ষড়যন্ত্র এবং পরবর্তীতে নিউইয়র্কস্থ একটি ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে ইসরাইলি নাগরিক মেন্দি সাফাদির সাথে জয়ের কাল্পনিক বৈঠকের অপপ্রচার চালানো হয়। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে লাগাতার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই কলম্বিয়ার মত বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে জামাত-শিবিরের পারপাস সার্ভের আরেকটি প্লট করা হয়েছিল। কিন্তু সচেতন প্রবাসীরা তা রুখে দিলেন।

জামাত-শিবিরের পারপার্স সার্ভের অভিপ্রায়ে ভূইফোঁড় সংগঠনের ব্যানারে এমন আলোচনার এ অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশী আমেরিকান ডেমক্র্যাটিক লীগের সভাপতি খোরশেদ খন্দকার, আওয়ামী লীগ নেত্রী শাহানারা রহমান, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের আহবায়ক তারেকুল হায়দার চৌধুরী ও সদস্য সচিব বাহার খন্দকার সবুজ প্রমুখ। অপরদিকে, বিএনপির নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন গোলাম ফারুক শাহীন, পারভেজ সাজ্জাদ এবং মতিউর রহমান লিটু। বিএনপির এই নেতারা অবশ্য এ সংবাদদাতাকে বলেন, ‘এই প্রবাসেও আওয়ামী লীগের লোকজন অগণতান্ত্রিক আচরণ করলেন।’

অপরদিকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত মানবাধিকার এটর্নী অশোক কর্মকার এ সংবাদদাতাকে বলেন, ‘দর্শকদের মধ্য থেকে প্রচন্ড আপত্তির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি পন্ড হয়ে গেছে।’

পরিস্থিতি সম্পর্কে কাউসার মুমিনের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হয় কিন্তু স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর রাত একটা পর্যন্ত (এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত) তাকে পাওয়া যায়নি।

-সংবাদসূত্র: এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক ও কালের কণ্ঠ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here