নিউইয়র্কে উৎসব-আনন্দে বর্ষবরণ জ্যাকসন হাইাটস পরিণত হয়েছিলো এক টুকরো বাংলাদেশে

বর্ণমালা নিউজ: দেশের মত আমেরিকাতেও বাঙ্গালীরা শোভাযাত্রা করে বাঁধভাঙ্গা উচ্ছাসের মধ্যে দিয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করেছে। শুক্রবার পহেলা বৈশাখে মুখোশ ও বেলুন উড়িয়ে জ্যাকসন হাইটসের বেলোজিনো পার্টি হল প্রাঙ্গণে বৈশাখী মেলা আর অডিটোরিয়ামে গানে গানে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় নানা বয়সী বাংলাদেশীরা। তার আগে জ্যাকসন হাইটসের কয়েকটি সড়কে নানা রং বেরংয়ের মুখোশ-প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রদক্ষিণ করেন এর আয়োজক বাংলাদেশ সোসাইটির কর্মকর্তা ও সাধারন প্রবাসীরা। সোসাইটির সারাদিনের আয়োজনে জ্যাকসন হাইাটস পরিণত হয়েছিলো এক টুকরো বাংলাদেশে।

তার আগে সকালে জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশ প্লাজা অডিটোরিয়ামে সাংষ্কৃতিক সংগঠন ‘প্রকৃতি’র আয়োজনে রবীন্দ্রসঙ্গীতের মূর্ছনায় বরণ করে নেয় নিউইয়র্কের বাংলাদেশীরা।

আর রাতে ‘ড্রামা সার্কল’ তাদের চিরাচরিত আয়োজনে বরণ করে নেয় নতুন বছরকে।

এইসবগুলো আয়োজনেই ছিল প্রবাসীদের বাঁধভাঙা উপস্থিতি। পহেলা বৈশাখ পালনের মধ্যে দিয়ে এখন নিউইয়র্ক সহ আমেরিকার বাংলাদেশীরা মূলধারার বাংলা সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্য তুলে ধরছেন।

নিউইয়র্কের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল পান্তা-ইলিশ ভোজন, ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাংলাদেশিদের আমব্রেলা সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি প্রতি বছরের মতো এ বছরও বাংলা নববর্ষ উদযাপন করে। এ উপলক্ষে সন্ধ্যা ছয়টায় বের করা হয় বৈশাখী র‌্যালির। বাঙালি পোশাকে নানান সাজে সর্বস্তরের প্রবাসী বাঙালিরা র‌্যালিতে অংশ নেন। র‌্যালির সবার হাতে ছিল রঙ-বেরঙের ফেস্টুন ও প্লাকার্ড। র‌্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মেলা প্রাঙ্গণ জ্যাকসন হাইটসের বেলাজিনো পার্টি হলের পার্কিং লটে গিয়ে শেষ হয়। এরপর সেখানে বৈশাখী মেলাসহ নানান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশি বিভিন্ন পণ্য দিয়ে পসরা সাজায় স্টলগুলো। বিকেল তিনটা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে মেলার কার্যক্রম। চমৎকার আবহাওয়ার কারণে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি সপরিবারে ভিড় করেন মেলা প্রাঙ্গণে। সন্ধ্যার পর তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না অনুষ্ঠানস্থলে। রাতে হাজার মাহার মানুষকে পান্তা-ইলিশ-বেগুন ভর্তা দিয়ে অ্যাপ্যায়ন করা হয়।

বাংলাদেশ সোসাইটির বৈশাখী অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে আয়োজিত আনুষ্ঠানিকতায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন নিউইয়র্ক সফররত বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ মো. শাহাবুদ্দীন, এমপি, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান সহ অন্ররা। এসময় বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকীসহ সংগঠনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা থেকে আসা জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী রিজিয়া পারভিন, প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী শাহ মাহবুব, বাপ্পী সোম, রোকসানা মির্জা অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এছাড়া সুর-ছন্দ, সুর বাহার ও বাফা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয়।

নিউইয়র্কের সাংস্কৃতিক সংগঠন ড্রামা সার্কল প্রতি বছরের মত বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নিতে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এই প্রথম সাউন্ডভিউ’র চৌহদ্দীর বাইরে তারা উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে আয়োজন করে বর্ণাঢ্য বৈশাখ বরণ অনুষ্ঠানের। শত শত প্রবাসী বাংলাদেশী গভীর রাত পর্যন্ত এ অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। তবে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেকেই ব্যর্থ মনোরথে ফিরে গেছেন।

ড্রামা সার্কলের সভাপতি আবীর আলমগীরের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন নিউইয়র্ক সফররত বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ মো. শাহাবুদ্দীন, এমপি, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজেসেবক অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাসুদুল হাসানসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এর আগে স্বাগত বক্তব্য দেন ড্রামা সার্কলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নার্গিস আহমেদ।
ড্রামা সার্কলের অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল পান্তা-ইলিশ অপ্যায়ন, ফ্যাশন শো, শুভেচ্ছা বক্তব্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনায় অংশ নেন মীরা সিং, শারমীন মহসীন, শাহ মাহবুবু, কান্তা আলমগীর, লেমন চৌধুরী, চন্দ্রা রায়, সজল, মিথুন জব্বার, শাহরীন সুলতানা, ডা. নার্গিস রহমান, চন্দন চৌধুরী, বিপা, বাফা, নৃত্যশিল্পী মাইসা, লীনা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে আগতদের ইলশ-পান্তা দিয়ে অ্যপ্যায়ন করা হয়।

এর আগে শুক্রবার সকাল ১০টায় প্রভাতী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলা নতুন বছর পয়লা বৈশাখকে বরণ করে নেয় সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রকৃতি নিউইয়র্ক। জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশ প্লাজায় এ উপলক্ষে ‘প্রভাতে বর্ষবরণ’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঢাকার রমনার বটমুলে বর্ষবরণের আদলে প্রকৃতি নিউইয়র্কের শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবশনার মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বেলাল বেগ প্রমুখ।

নাজনীন সীমনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে প্রকৃতির শিল্পীরা একক ও দলগতভাবে সঙ্গীত পরিবেশন ও কবিতা আবৃত্তি করেন। এছাড়াও কবিতা আবৃত্তি করেন লুৎফুন্নাহার লতা। সঙ্গীত পরিবেশন করেন জলি কর, দিঠি হাসনাত, দেলোয়ার হোসেন, গোপন সাহা, জয়ন্তী ভট্টাচার্য্য, মৌগন্ধা আচার্য্য, রেজা রহমান, মিনি কাদির, অমিত দে, রূপালী ঘোষ, সুব্রত দত্ত, টিটো প্রমুখ। তবলা সঙ্গত ছিলেন পিণাকপানি গোস্বামী।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড. প্রদীপ রঞ্জন কর, উদীচী যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র সহ-সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস, ঠিকানার প্রধান সম্পাদক মুহম্মদ ফজলুর রহমান, সাপ্তাহিক বর্ণমালার প্রধান সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, নারী নেত্রী অধ্যাপিকা হুসনে আরা বেগম, বিশিষ্ট রিয়েলটর তৌফিক কাদের, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সহ-সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ সোহাগ, সাংবাদিক সনজীবন কুমার প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে অতিথিদের লুচি পরোটা ও ভাজি এবং চা দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here