বাংলাদেশ দূতাবাস ডেনমার্কে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালন

0
104

ডেনমার্ক: যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালন উপলক্ষে ১৭ মার্চ ২০১৭ বাংলাদেশ দূতাবাস কোপেনহেগেন, ডেনমার্কের ভারপ্রাপ্ত রাস্টদুত শাকিল শাহরিয়ার সভাপতিত্বে ও দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মোহাম্মাদ ফাহিমের সঞ্চারনায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটির উপলক্ষে আনুষ্ঠানিক ভাবে ভারপ্রাপ্ত রাস্টদুত কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় ও উপস্থিত সকলের সম্মেলিত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয়। আলোচনা সভার শুরুতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয় এবং মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক এক প্রামান্য চিত্র প্রদশর্ন করা হয়।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেনঃ ভারপ্রাপ্ত রাস্টদুত শাকিল শাহরিয়ার, মাহবুবুল হক, খোকান মজুমদার, মাহবুবুর রহমান , লিঙ্কন মোল্লা, শোয়েব সাইদ।বক্তারা বলেনঃ ১৯৭১ এর ১৭ এপ্রিল। বেলা ১১টা। এই দিন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার মুক্তাঞ্চল ভবের পাড়ায়, বৈদ্যনাথ তলায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী মুজিবনগরে বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয়। অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী জনাব তাজউদ্দীন আহমদ, অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কর্ণেল ওসমানী ও অন্যান্যদের নিয়ে বৈদ্যনাথ তলায় মঞ্চে এলেন। আশেপাশের গ্রাম থেকে চেয়ার আনা হয়েছে। সংগৃহীত চেয়ারগুলোর একটাও পূর্ণাঙ্গ নয়। কোনটার হাতল নেই, কোনটার বা পা নেই। ক্যাপ্টেন মাহবুব আর জনাব তওফিক এলাহী চৌধুরী তখন অনুষ্ঠানসূচি প্রণয়নে ব্যস্ত। গার্ড অব অনার দেয়ার জন্য আনসার বাহিনী প্রস্তুত। ক্যাপ্টেন মাহবুব তাদের নিয়ে গার্ড অব অনার দিলেন অস্থায়ী সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতিকে। প্রায় হাজার দুই লোক এসেছিল অনুষ্ঠানদর্শক হিসেবে। শতাদিক বিদেশী সাংবাদিক, ফটোগ্রাফার ও টিভি ক্যামেরাম্যান এসেছেন। গার্ড অব অনার ও জাতীয় সঙ্গীতের পর নেতৃবৃন্দ মঞ্চে বসলেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রী জনাব তাজউদ্দিন আহমদ স্বাধীনতা সনদের স্বপক্ষে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপস্থিত জনতা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর মন্ত্রিসভা-সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি ভাষণে বলেন, পৃথিবীর মানচিত্রে আজ যে নতুন রাষ্ট্রের জন্ম লগ্নের সূচনা হলো তা চিরদিন থাকবে। পৃথিবীর কোন শক্তি তা মুছে দিতে পারবে না।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনার পর মুজিবনগর সরকার গঠনের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে এ সরকারের হাত ধরেই বাংলাদেশ স্বাধীন ও স্বার্বভৌম রাষ্ট্রে পরিনত হয়। তিনি তাঁর বক্তব্যে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এবং জাতীয় চার নেতা ও ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকারের সকল সদস্যদের ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।আলোচনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ সহ দূতাবাস কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here