ঘুরে আসুন সেন্ট মার্টিন, কিন্তু দায়িত্বের সাথে

0
277
নীল সমুদ্রের মাঝে ছোট্ট প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন আমাদের অনেক বড় একটি সম্পদ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অনন্য এই দ্বীপটিতে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের বাস। সমুদ্রের মাছ ধরেই নির্বাহ হয় তাদের জীবিকা। মাছ ধরা নৌকাগুলোর আকৃতি খুব মজার। সমূদ্রের ঢেউয়ের সাথে তাল মিলিয়ে ভেসে বেড়াতে সক্ষম করতেই তাদের এমন আকৃতি।

সমুদ্রের মাছ ধরা নৌকা। ছবি- সংগৃহীত

প্রবালময় এই দ্বীপের সৈকত। খুব কাছে ছেঁড়া দ্বীপ। ভাটার সময় কোরালের পথ বেয়ে হেঁটে হেঁটে চলে যাওয়া যায় এখানে। সেখান থেকে দেখা সূর্যাস্ত এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। দ্বীপের জেটিতে বসে নীল সমুদ্রের হাওয়া খেতে খেতে মনে হয়, জীবনে যেন আর কোন কাজ নেই। কাজ এটুকুই, এখানে বসে থাকা।
সমুদ্রের মাছ খেতে ভালোবাসেন? তাজা মাছ রান্না, ভাজা, বার্বিকিউ যা চাইবেন তাই পাবেন। খেতে পারবেন কাঁকড়া, লবস্টার সহ মজার সব সামুদ্রিক প্রাণী। আর বড় বড় ডাবের তো অভাবই নেই এখানে।
হুমায়ূন আহমেদ পড়তে ভালোবাসেন। তার একটি চমৎকার বাড়ি আছে এখানে। প্রবেশ করা যায় না! কিন্তু ভক্তদের জন্য দূর থেকে দেখাই বা কম কি!
সেন্ট মার্টিনের নীলচে সবুজ জলরাশি। ছবি- সংগৃহীত।
গাঢ় নীল জলরাশির এই দ্বীপে ভ্রমণকারীদের প্রবেশাধিকার মাত্র অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত। এর আগে পরে আপনি যেতে পারবেন না তা নয়। কিন্তু সম্ভাবনা রয়েছে সামুদ্রিক ঝড়ে পড়ার। সমুদ্র এ সময় এমনিতেও উত্তাল থাকে। টেকনাফের সাথে দ্বীপ বাসীর যোগাযোগের একমাত্র উপায় তখন নৌকা। যেমন ওঠে সাগরের ঢেউ তেমনি উঠে সেই নাও, যেমনি ঢাউ আছড়ে পরে আরেক ঢেউয়ের গায় তেমনি নাও আছড়ে পড়ে সমূদ্রে। সে এক ভয়াবহ কান্ড!
শীত পেরিয়ে বর্ষা এলে এমনই রূপ বদলায় সমুদ্র। প্রায়ই ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হয় দ্বীপকে। দানবের সাথে সেই লড়াইয়েও জিতে যায় সেন্ট মার্টিন। কিন্তু মানুষের নির্যাতন দ্বীপটির জন্য হয়ে উঠছে আরও ভয়াবহ। ভ্রমণকারীদের সৌন্দর্য পিপাসাকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা পর্যটন ব্যবসাই দ্বীপের ক্ষতির প্রধাণ কারণ। এখানে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে অসংখ্য হোটেল, রিসোর্ট। সব মিলিয়ে ৩৮টি অবৈধ হোটেল ভেঙ্গে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

গুগল ম্যাপে দেখে নিন সেন্ট মার্টিন দ্বীপের অবস্থান।

দ্বীপের দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করতে এলাকাবাসীকেও সহযোগিতার আহবান জানানো হয়েছে। সামুদ্রিক প্রবাল, পাথর, শামুক, ঝিনুক, শৈবাল আহরন নিষেধ হলেও নিষেধাজ্ঞা মানছেন না তারা। ফলে নষ্ট হচ্ছে দ্বীপের প্রাকৃতিক ভারসাম্য। দ্বীপ রক্ষায় সচেতন হতে হবে সবার।
ভ্রমণকারীদেরও পাস্টিকজাতীয় কিছু এমনকি সিগারেটের শেষ অংশ দ্বীপে ফেলা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে। দেশ আমাদের, দ্বীপ আমাদের একে রক্ষার দায়িত্ব আমাদের। দায়িত্ববোধ নিয়েই হোক প্রতিটি ভ্রমণ, আবার জাহাজ ভাসুক সমুদ্রে, সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে শত শত সৌন্দর্য পিপাসুদের নিয়ে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here