মুক্তিযোদ্ধা ও আবৃত্তিশিল্পী কাজী আরিফের শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ শনিবার দুপুর ১২:৫৫ মিনিটে নিউইয়র্কে চিকিৎসকরা খুলে নেন লাইফ সাপোর্ট

বর্ণমালা নিউজ, নিউইযর্ক থেকে: মুক্তিযোদ্ধা ও আবৃত্তি শিল্পী কাজী আরিফের শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ। চিকিৎসকরা শনিবার ২৯ এপ্রিল নিউইয়র্ক সময় দুপুর ১২:৫৫ মিনিটে তার কন্যা অনুশুয়া ও দুই বোন বেলা ও লীনার উপস্থিতিতে খুলে নেন লাইফ সাপোর্ট। সেই সাথে জীবনাবসান ঘটে বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী এই মুক্তিযোদ্ধা-স্থপতি ও বাংলাদেশের সেরা বাচিকশিল্পীর। এসময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন ও কনসাল জেনারেল শামীম আহসান।
মৃত্যুর আগে তার শেষ ইচ্ছা ঢাকার উত্তরায় মায়ের করবের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়- বলেছিলেন বলে জানান কাজী আরিফের ছোট বোন বেলা। বেলা এই প্রতিনিধিকে বলেন, তখন আমি তাকে ধমক দিয়ে বলেছিলাম এসব বলতে নেই ভাই- তুমি ভাল হয়ে যাবে। দীর্ঘদিন নিউইয়র্কে অবস্থানের সময়ে কাজী আরিফ তার আরেক বোন লীনার নিউইয়র্কের ব্রুকলীনৈর বাসায় অবস্থান করেছেন। ভাইবোনদের মধ্যে কাজী আরিফ ছিলেন তার বাবা-মা‘র চার সন্তানের মধ্যে বড়। তার ছোট আসিফ লস এঞ্জলেসে বসবাস করেন।
এদিকে আগেরদিন শুক্রবার রাত ১১ টার পর নিউইয়র্কে ছড়িয়ে পড়ে কাজী আরিফের মৃত্যুসংবাদ। কিন্তু তখনও তিনি চিকিৎসকদের ভাষায় মৃত নয় ’ক্লিনিক্যালি ডেড’ ছিলেন। রাতে মুক্তিযোদ্ধা ও আবৃত্তি শিল্পী কাজী আরিফের মৃত্য সংবাদ প্রাচারের পর পরই হাসপাতালে অবস্থানরত সাংষ্কৃতিক জোট উত্তর আমেরিকার সভাপতি মিথুন আহমেদ জানান, চিকিৎসকরা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে মৃত ঘোষনা করেননি।
এর আগে কাজী আরিফ ম্যানহাটনের মাউন্ট সিনাই সেন্ট লিওক্স হাসপাতালে চিকিৎসার জন্ধীয ভর্তি হন। তার হার্টের একটি ভাল্ব অকেজো হয়ে হলে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্টারী সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পরলে গত ২৫ এপ্রিল মঙ্গলবার তার ভাল্ব পুনঃস্থাপন এবং আর্টারীতে বাইপাস সার্জারী করা হয়। এর পর থেকেই তিনি চিকিৎসকদের নিবীড় পর্যবেক্ষনে ছিলেন।
সফল অপারেশনের পর সবাই যখন আশা করছিলেন কৃতি এই আবৃত্তিকার আবার ফিরে আসবেন তার কণ্ঠের মাধুর্য্য ছড়াতে ঠিক তখনই তিনি সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
কাজী আরিফের জন্ম ৩১ অক্টোবর ১৯৫২ সাল। ছোটবেলায় জন্মস্থান চট্টগ্রাম শহরে বেড়ে উঠেন তিনি। শুরুতে এখানেই তার পড়াশুনা, রাজনীতি, শিল্প-সাহিত্য এসব কিছুরই হাতেখড়ি হয়। তিনি একাধারে একজন সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ত্ব, আবৃত্তিকার, লেখক ও মুক্তিযুদ্ধ সংগটক।
এছাড়া তিনি ১৯৭১সালে ‘১ নম্বর সেক্টর’ এর মেজর রফিকের কমান্ডে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন তিনি। এরপর যুদ্ধ শেষে বুয়েটে পড়াশুনা শুরু করেন আর সাথে সমান তালে এগিয়ে যেতে থাকে তার শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here