নিউইয়র্কে সাংবাদিকতার সংকট ঢাকার মিডিয়ায় নিউইয়র্কের ‘ফরমায়েশী’ রিপোর্ট বাছ-বিচার না করে প্রকাশ করে তখন তার দায় তাদের উপরও বর্তায় ......

বর্ণমালা নিউজ (নিউইয়র্ক): নিউইয়র্কের গণমাধ্যমে কর্মরত: সাংবাদিকদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। এর কারন একই সাংবাদিক যখন তার কর্মস্থলের মিডিয়ায় যখন কোন রিপোর্ট করেন তার মূলকথা বা রিপোর্টিংয়ের ‘ধারা’ যে রকম হয় তার উল্টোটা লিখছেন তিনি যখন বাংলাদেশের মিডিয়াতে সেই একই বিষয়ে রিপোর্ট করেন বা পাঠান। এতে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে একই নিউজ কিভাবে একজন সাংবাদিকের কলমে দুই মতধারায় বা দু‘ভাবে লেখা হয়। আর এই ধরনের সংবাদ লিখে তারা এখানকার দুই ধারার রাজনীতিবিদদের একটি অংশ যারা প্রকৃতপক্ষে যা নন তাদেরকে সেভাবে তুলে ধরার যে প্রক্রিয়া বেছে নিয়েছেন তাকে কোনভাবেই সৎ এবং সুস্থধারার সাংবাদিকতা বলা যায় না। একইভাবে কিছু প্রচারলোভী ব্যবসায়ী ও ব্যবসায়ী কাম রাজনীতিবিদ যারা নিজেদের সাফল্যকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তুলে ধরার জন্য কিছু অর্থ ব্যয় করেন তাদেরকেও ’সেবা’ দিয়ে যাচ্ছেন এই শ্রেণীর সাংবাদিকরা। সাংবাদিকতার এই অনৈতিক পরিস্থিতির জন্য দুর্বল আর্থিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত স্থানীয় মিডিয়া কর্তৃৃৃৃপক্ষকে যতটা দোষ দেয়া যায়, তার চেয়ে বেশী দোষারোপ করছেন অভিজ্ঞজনরা ঢাকার বিশাল পূঁজির মিডিয়াগুলোকে। ঢাকার পেশাদারী মিডিয়ায় যখন এরকম ‘ফরমায়েশী’ রিপোর্ট কোন বাছ-বিচার না করে প্রকাশ করে তখন তার দায় তাদের উপরও বর্তায় বলে মনে করেন তারা।

এমন দ্বিমূখী অনৈতিক রিপোর্টিংয়ের কারনে বিভ্রান্ত হচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা। কারন তাদের নেতারা নিউইয়র্কে সেসব সাংবাদিকদের মিডিয়ায় তাদের দলের আদর্শ বিরোধী অবস্থান থেকে তাদের সংগঠনের সংবাদ প্রচার করেন তাকে তারা কোন গুরুত্ব দেন না- অভিযোগ ক্ষুদ্ধ নেতা-কর্মীদের। নেতারা শুধু গোনায় ধরেন সেই একই সাংবাদিকের ঢাকায় পাঠানো তাদের সংগঠনের সেই বিষয়ের রিপোর্টকে। আর ঢাকায় প্রকাশিত সেসব রিপোর্টে সম্পূর্ণ উল্টো গীত গান এসব সাংবাদিকরা। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ দিক হচ্ছে সেসব প্রতিবেদনে এসব নেতাদের এমন ভাবে উপস্থাপন করা হয় যাতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বা সরকারের দায়িত্বশীলদের নজরে আসতে পারেন তারা। এটা ছাড়াও সেসব সাংবাদিকরা এমনভাবে রিপোর্ট লিখেন যেখানে দেখা যায় এসব নেতারা কোন অনুষ্ঠানে যা বলেননি ঢাকার পত্রিকায় সেসব কথা প্রকাশ হচ্ছে। আবার কখনও কখনও এমন হয় হয় নিউইয়র্কের রিপোর্টে যার উপস্থিততির কথা নেই ঢাকার রিপোর্টে ভৌতিকভাবে সেই ব্যক্তির উপস্থিতি দেখানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষন করলে একটি বড় রাজনৈতিক দলের যুক্তরাষ্ট্র শাখার এক নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, আমার দলের শীর্ষনেতারা নিউইয়র্কের কোন সাপ্তাহিক পত্রিকায় কি লেখা হয় তাদের নিয়ে বা সংগঠন নিয়ে, তাতে মাথা ঘামান না। তারা শুধু চান ঢাকার পত্রিকায় তাদেরকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরার জন্য ‘ফরমায়েশী’ রিপোর্ট। আর এজন্য তারা নগদ ডলার খরচ করছেন দেদারছে। আর তাই নিজের মিডিয়ায় তার অথবা ‘পত্রিকার মতাদর্শ’ (যা সম্পূর্ণ বিপরীত) অনুযায়ী রিপোর্ট লেখার পর একই সাংবাদিক ‘ফরমায়েশী’ রিপোর্ট লেখেন যখন তখন তাতে তাদেরকে সাংবাদিকতার চেয়ে পাবলিক রিলেশন্স অফিসারের ভূমিকায় দেখা যায় বেশী করে। পাবলিক রিলেশন্স অফিসারের মত তোষামোদীতে ভরা রিপোর্টগুলো ঢাকায় কিভাবে কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রচার হচ্ছে তা নিয়েও রহস্যের গন্ধ খুঁজে পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে ঢাকার কোন কোন সাংবাদিক বা সম্পাদক যারা ঘন ঘন বিভিন্ন উপলক্ষ্যে নিউইয়র্ক সফর করেন তাদের মিডিয়াতেই এসব ফরমায়েশী সংবাদ বেশী বেশী ছাপা হ্েচ্ছ বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আরও অভিযোগ এসব সাংবাদিক ও সম্পাদকরা নিউইয়র্কে আসলে বিভিন্ন সময়ে নানা দামী উপঢৌকন গ্রহন করেন তাদেরকে যারা সংবাদ পাঠায় তাদের কাছ থেকে। আর যেসব নেতাদের ফরমায়েশী সংবাদ ছাপান তারা তাদের কাছ থেকেও তারা উপহার এবং কখনও কখনও প্লেনের রির্টান টিকিটও পেয়ে থাকেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের একটি বড় দলের শাখার সবচেয়ে বড় পদের নেতা তার দলের বিভিন্ন কর্মসূচীর সফলতার জন্য এখন আর কোন নেতাকর্মীর প্রতি তেমন আস্থা রাখেন না বলে জানিয়েছেন সে দলটির ক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা। তারা বলেন, ঢাকার মিডিয়ায় এবং দু‘য়েকটি ওয়েবভিত্তিক সংবাদ পোর্টরালে তার সংবাদ প্রচার হলেই তিনি চরম তুষ্টিতে ভোগেন। এক সময়ে নিউইয়র্কের কোন কোন সাপ্তাহিকের সমর্থন নিয়ে দলে নিজের অবস্থান সংহত করা এই বড় নেতা এখন নিউইয়র্কের ছোট-বড় সব সাপ্তাহিক পত্রিকাগুলোকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেন। শুধু নিয়ম রক্ষার জন্য এবং লোক দেখানো মনোভাব থেকে তার দলের সংবাদ সম্মেলনে অথবা কর্মসূচী কভার করতে এই নেতা সাংবাদিকদের আমন্ত্রন করেন বলে বলেছেন দলটির কিছু মধ্যম সারির নেতা।

সাংবাদিকতার এই ক্রান্তিকালে যখন সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা অপসাংবাদিকতাকে রুখে দাঁড়ানোর কথা তখন নিউইয়র্কের দুটি প্রেসক্লাবের একটি ’বাংলাদেশ-আমেরিকা প্রেসক্লাব’ বিভক্ত হয়ে দুটি কমিটি ঘোষণা দিয়ে নিজেদের মধ্যে কাঁদা ছোড়াছুড়ি করছে। আর রাজনৈতিক দলের সেইসব নেতা ও ভূঁইফোঁড় ব্যবসায়ীরা বিভক্তির প্রেসক্লাবের দুটি অংশকে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে বিভিন্নভাবে সমর্থন দিয়ে তাদের উদ্দেশ্য হাসিলে পরিস্থিতিকে ব্যবহার করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here