গন্তব্য: সুন্দরবনের হাড়বাড়িয়া ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র

0
462
সুন্দরবন নিয়ে আমাদের অনেকেরই আছে এক ধরনের মুগ্ধতা। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের বেশিরভাগটাই বাংলাদেশে পড়েছে, কিছু অংশ পড়েছে ভারতে। এখানে দেখা যায় বাঘ, হরিণ, বানর থেকে শুরু করে নানা রকম জীব ও শতেক রকম পাখি। সুন্দরবন এতটাই বিশাল যে এটাকে পূর্ণভাবে অনুভব করতে হলে থাকতে হয় বেশ কদিন।
কিন্তু সবার তো এতটা সময় থাকে না, আবার কয়েকদিনের সুন্দরবন ট্যুরে খরচও অনেক বেশি। তাই যারা এক দিনে সুন্দরবনের স্বাদ নিতে চান, তারা চাইলে ঘুরে আসতে পারেন হাড়বাড়িয়া ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র।
কোথায়: সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের অধীনে বনবিভাগের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয় হাড়বাড়িয়া ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র। খুলনা থেকে ৭০ কিলোমিটার এবং মংলা বন্দর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে এই কেন্দ্রের অবস্থান।
হাড়বাড়িয়া যাবার পথে নদীপথ। ছবি: মাসুদ পারভেজ।
কীভাবে: ঢাকা থেকে সরাসরি যেতে হবে মংলা বন্দর, বেশ কিছু বাস আছে ঢাকা থেকে যাবার জন্য। মংলা থেকে সকালে হাড়বাড়িয়া গিয়ে সন্ধ্যার মধ্যেই আবার ফিরে আসা যায়, ফিরতি পথে রাতের বাসে ঢাকা ফিরে যাওয়া সম্ভব। এছাড়াও খুলনা কিংবা বাগেরহাট থেকে বাসে করে আসতে পারেন মংলা। মংলা থেকে ইঞ্জিন বোট নিয়ে হাড়বাড়িয়া যেতে সময় লাগবে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। এখানে পাঁচ থেকে ত্রিশ-জন চলাচলের উপযোগী বিভিন্ন রকম ইঞ্জিন নৌকা পাওয়া যায়। রকমভেদে সারাদিনের জন্য একটি নৌকার ভাড়া পনেরশ টাকা থেকে ৩ হাজার ৫শ’ টাকা। নৌকাগুলো ছাড়ে মংলা ফেরি ঘাট থেকে। নৌকায় উঠার আগে অবশ্যই নিশ্চিত হয়ে নেবেন যে নৌকায় লাইফ-জ্যাকেট আছে কি না।
কী দেখবেন: সুন্দরবনের হাড়বাড়িয়া টহল ফাঁড়ির পাশেই ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র। এর সামনের খালটি কুমিরের অভয়ারণ্য, প্রায়ই লোনা পানির কুমিরকে রোদ পোহাতে দেখা যায় এই খালের চরে। তবে কুমির দেখার ভালো সময় ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি।
হাড়বাড়িয়ায় সুন্দরবনের বিরল মায়া হরিণেরও দেখা মেলে। এখানকার ছোট ছোট খালগুলোতে আছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছরাঙ্গা-সহ নানান জাতের পাখি। হাড়বাড়িয়ার খালে পৃথিবীর বিপন্ন মাস্ক ফিন ফুট বা কালোমুখ প্যারা পাখিও দেখা যায়।
হাড়বাড়িয়া খালের পাড়ে দেখা যাবে ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রের সোনালী নাম-ফলক। এর পরে একটু সামনে এগোলেই বন কার্যালয়। এরপরে ছোট খালের উপরে রয়েছে ঝুলন্ত সেতু। সামনের দিকে জঙ্গলের গভীরতা ক্রমশ বেড়েছে। ঝুলন্ত সেতু পেরিয়ে একটু সামনে বিশাল এক পুকুর। পুকুরের মাঝে গোলপাতার ছাউনি সমেত একটি বিশ্রামাগার। ঘরটির চারপাশে বসার জন্য বেঞ্চ পাতা। পুকুরের পাড় থেকে কাঠের তৈরি সেতু গিয়ে ঠেকেছে ঘরটিতে। বন বিভাগের অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধি প্রকল্পের আওয়ায় ১৯৯৭-৯৮ সালে বীর শ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্মরণে খনন করা হয় এই পুকুর।
গুগল ম্যাপে হাড়বাড়িয়া ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র।
পুকুরের দুই পাশ থেকে সামনে চলে গেছে ইট বিছানো পথ। অল্প দূরত্বের দুটি পথই শেষ হয়েছে কাঠের তৈরি হাঁটাপথে। যে কোনও একদিক দিয়ে হাঁটা শুরু করলে অন্য-প্রান্তে এসে শেষ হবে এই পথ। তবে হাতের ডান দিকের ইট বিছানো পথের শেষে রয়েছে তিনতলা বিশিষ্ট একটি জঙ্গল পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। কাঠের তৈরি এই টাওয়ার উঠে উপর থেকে জঙ্গলের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। তবে বেশ পুরোনো অবকাঠামো বিধায় এটাতে ওঠা একটু ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। হাড়বাড়িয়ার জায়গাটিতে বাঘের আনাগোনা বেশি। প্রায়ই বাঘের পায়ের তাজা ছাপ দেখা যায়। এছাড়া চিত্রা হরিণ ছাড়াও অন্যান্য বন্য প্রাণীও এখানে দেখা মিলবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here