প্রবাস সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ কোথায়? পরিবার ও সাঈদ বলছেন হাসপাতালে : বিডিনিউজ বলছে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার করেছে

বর্ণমালা নিউজ: নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক প্রবাস পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ কোথায়? তাকে কি ইমিগ্রেশন

সাপ্তাহিক প্রবাস পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ

কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার করেছে নাকি তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন? নিউইয়র্কে এখন এটিই ‘টক অব দ্য কমিউনিটি’। গত ২৪ মে থেকে মোহাম্মদ সাঈদ তার কর্মস্থল জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্ট্রীটের সাপ্তাহিক প্রবাস অফিসে অনুপস্থিত রয়েছেন। এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত (বৃহস্পতিবার সারাদিন) তিনি অফিসে আসেননি। কর্মস্থলে তার এই অনুপস্থিতির কারন হিসাবে তার পরিবার থেকে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের জানানো হয়েছে তিনি অসুস্থ হয়ে নিউজার্সীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিন্তু নিউজার্সীর কোন শহরের কোন হাসপাতালে তিনি ভর্তি হয়েছেন তা তার পরিবার থেকে জানানো হচ্ছে না। তাদের এই রহস্যময় আচরন গুজবের ডালপালা গজানোর সুযোগ তৈরী করে দিয়েছে। এছাড়া তার কুইন্সের ইস্ট এলমহাস্টের বাসায় গিয়ে খোঁজ খবর নিতে গিয়ে তার সহকর্মী ও বন্ধুদের কেউ কেউ তার বাড়ীতে প্রবেশ করতে না পেরে ব্যর্থ মনোরথে ফিরে এসেছেন। মোহাম্মদ সাঈদের অফিসে অনুপস্থিতির রহস্যের জাল যখন ভেদ করা যাচ্ছিল না তখন পহেলা জুন ঢাকার বিডিনিউজ টোয়েন্টি ফোর ডটকম তাদের নিউইয়র্ক প্রতিনিধির বরাত দিয়ে খবর প্রকাশ করে যে মোহাম্মদ সাঈদকে ’অবৈধ অভিবাসনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে নিউজার্সির হাডসন কাউন্টি কারাগারে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিসের জনসংযোগ কর্মকর্তা রাচায়েল ইয়ং জানিয়েছেন। তবে কখন তাকে অভিবাসন আদালতের সামনে হাজির করা হবে সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি তিনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম আরো জানায়, ’বাংলাদেশের নাগরিক মোহাম্মদ সাঈদ যুক্তরাষ্ট্রে বেআইনিভাবে প্রবেশ করেছেন। অভিবাসনের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ২৪ মে নিউইয়র্ক সিটির ফ্লাশিং এলাকা থেকে আইসিই‘র এজেন্টরা তাকে গ্রেপ্তার করে।”

নারায়ণগঞ্জের সন্তান মোহাম্মদ সাঈদ (৫২) বিশ বছর ধরে নিউইয়র্কে আছেন। তিন বছর আগে ‘সাপ্তাহিক প্রবাস’ প্রকাশনা শুরু করার আগে সাঈদ ‘সাপ্তাহিক আজকাল’ পত্রিকায় নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। তার আগে নিউইয়র্কের সাউন্ডভিউ ব্রডকাস্টিংয়ের অধীনে বাংলাভিশন টেলিভিশনে এবং তারও আগে নিউইয়র্ক থেকে সম্প্রচারিত স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল এসএ টিভিতেও কাজ করেছেন মোহাম্মদ সাঈদ।

এদিকে যারা তার বাসায় গিয়ে প্রবেশ করতে পারেননি তাদের কাউকে কাউকে টেলিফোন করে মোহাম্মদ সাঈদ নিজে জানিয়েছেন যে তিনি নিউজার্সীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কিন্তু যাদেরকে ফোন করেছেন তারা হাসপাতালের নাম জানতে চাইলে সাঈদ সেটা জানাননি বলেছেন তারা। আর তাই যারা সরাসরি তার সাথে কথা বলেছেন তারাও বিভ্রান্তিতে পরেছেন- তাদের কথা যদি তার পরিবার এবং সাঈদের নিজের ভাষ্য অনুযায়ী তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন তাহলে কেন জানাচ্ছেন না কোন হাসপাতালে তিনি অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছেন?

এদিকে তার পত্রিকা অফিস সাপ্তাহিক প্রবাসের কর্মীরাও রয়েছেন ঘোর বিভ্রান্তিতে। তারাও জানেন না তাদের সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ আসলে কোথায়? প্রবাস অফিসে গিয়ে প্রতিদিন কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ তাদের কাছে জানতে চাইছেন সাঈদ প্রসঙ্গে। কিন্তু তারাও বলছেন, ‘আপনারা যা জানেন তার চেয়ে একবিন্দু বেশী কিছু আমরাও জানি না’।

বিডিনিউজে তার গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশের দিনও (বৃহস্পতিবার) সাঈদের সাথে টেলিফোনে কথা হয়েছে জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্টুরেন্টের কর্ণধারের সাথে। তিনি তার পরিচিত জনদের জানিয়েছেন সাঈদ তাকে তার নম্বরে কল করে জানান যে তিনি নিউজার্সীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার কি রোগ বা সমস্যা সেটা জানাননি মোহাম্মদ সাঈদ। কোন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন জানতে চাইলে সেই রেস্টুরেন্ট কর্ণধারকে সাঈদ বলেছেন, মেইন হসপিটালে তিনি ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু এই হাসপাতালের কোন ঠিকানা দেননি তাকে সাঈদ।

বিডিনিউজ ছাড়াও নিউইয়র্ক থেকে পরিচালিত এনআরবি নিউজ নামে একটি বার্তাসংস্থার বরাতে একইদিন বিভিন্ন ওয়েব পোর্টালে মোহাম্মদ সাঈদকে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার করেছে- এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর কমিউনিটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একজন পত্রিকা সম্পাদককে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তারের ঘটনা বাংলাদেশী কমিউনিটিতে এই প্রথম। আর সেই সংবাদ জেনে সাধারন প্রবাসীদের মধ্যে যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই তারা দারুণ দুশ্চিন্তায় পরেছেন।

মোহাম্মদ সাঈদের গ্রেপ্তারের খবর জেনে ওয়াশিংটন বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস সেক্রেটারী শামীম আহমেদ সাপ্তাহিক বর্ণমালায় ফোন করে তার উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কন্স্যুলেটের ভাইস কন্সাল শাহেদুল ইসলামও বর্ণমালায় ফোন করে তার উৎকন্ঠা প্রকাশের পাশাপাশি সব রকমের সহযোগিতা প্রদানের কথা জানান।

কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের মত নিউইয়র্কের সংবাদ মাধ্যমেও যারা কাজ করেন তাদের কারও কারও বৈধ কাগজপত্র নেই এবং এমনটি হওয়া কোন বিচিত্র ঘটনা না। কিন্তু মোহাম্মদ সাঈদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় নিউইয়র্কের কিছু মিডিয়াকর্মীর মধ্যেও কিছুটা আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই আতঙ্ক আরো বাড়িয়ে দিয়েছে এনআরবি নিউজে সাঈদের গ্রেপ্তারের সংবাদে নিউইয়র্কের কয়েকজন সম্পাদক ও সাংবাদিকের দীর্ঘদিন ধরে বৈধ কাগজপত্রহীনভাবে পত্রিকা প্রকাশনা ও সাংবাদিকতার খবর প্রকাশে।

এদিকে কয়েকমাস আগে নিউইয়র্কের সাংবাদিকদের একটি প্রেসক্লাব ‘আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লার’-র বিভক্ত একটি অংশের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের কয়েকদিনের মাথায় মোহাম্মদ সাঈদ সেই দায়িত্ব থেকে অব্যহতি নেবার পর কানাঘুষায় শোনা গেছে যে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় সংগঠনের সভাপতির পদ ছেড়ে দেন মোহাম্মদ সাঈদ। অবশ্য সাঈদ তার দায়িত্ব থেকে অব্যহতি নেবার বিষয়টি তার মায়ের পরামর্শে নিয়েছেন বলেছেন অনেককে।

আমেরিকায় বসবাসের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় সভাপতির দায়িত্ব ছেড়ে দিলেও শেষ পর্যন্ত কি সেই বৈধ কাগজপত্র না থাকার কারণেই ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ মোহাম্মদ সাঈদকে গ্রেপ্তার করেছে- এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here