কাগজপত্রহীন-অভিবাসীদের গোপন তথ্য সিটির কাছে নেই: মেয়র ব্লাজিও

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র বিল ডি ব্লাজি গত ৮ জুন রিগো পার্কের লস্ট ব্যাটালিয়ন হল মিটিংয়ে বক্তব্য রাখছেন

বর্ণমালা ডেস্ক: নিউইয়র্ক সিটির ‘আইডি-এনওয়াইসি’ কার্ডপ্রাপ্ত কাগজপত্রহীন-অভিবাসীদের গোপন তথ্য সিটির কাছে নেই। তাই ট্রাম্প প্রশাসনের সেগুলো জেনে যাবারও সুযোগ নেই।

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র বিল ডি ব্লাজিও গত ৮ জুন রিগো পার্কের লস্ট ব্যাটালিয়ন হলে অনুষ্ঠিত এক টাউনহল বৈঠকে বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদারের এক প্রশ্নের জবাবে উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
ডিস্ট্রিক ২৯’এর কাউন্সিল মেম্বার ক্যারেন কসলোউইটজ’এর আহ্বানে আয়োজিত এ বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্টেট সিনেটর টবি  স্ট্যাভিস্কি, এ্যাসেম্বলীম্যান ডেভিড ওয়েপ্রিন ও এ্যান্ড্রু  হ্যাভেসি, বরো প্রেসিডেন্ট মিলেন্দা কাট্জ প্রমুখ।
মেয়র ব্লাজিও সিটির বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি আপনাদের সমস্যার কথা জানতে এসেছি। আপনারা খোলামেলা কথা বলতে প্রশ্ন করতে পারেন। সিটির আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করে সেগুলো নিরসনে সিটির গৃহীত পদক্ষেপসমূহ বিভিন্ন কমিউনিটির দুই শতাধিক প্রতিনিধির কাছে তুলে ধরেন।  তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই সিটিতে সব ধরনের অপরাধ প্রবণতার আগের অবস্থা থেকে অনেক হ্রাস পেয়েছে। শিক্ষার সুযোগ বেড়েছে, যা ভবিষ্যতে আরো বৃদ্ধি পাবে। নি¤œ আয়ের নগরবাসীদের সুবিধার্থে দুই বছরের মধ্যে বাড়ি ভাড়া যাতে বাড়ানো না হয়, তেমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিজের বক্তব্য শেষে মেয়র বিভিন্ন প্রতিনিধিদেরকে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের জবাব দেন। বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার মেয়রের কাছে জানতে চান যে, সিটি কর্তৃক প্রদত্ত ‘আইডি-এনওয়াইসি’ প্রদানকালে কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের যেসব ব্যক্তিগত ও স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ করা হয়, সেগুলো ট্রাম্প প্রশাসন হস্তগত  করলে অভিবাসীদের বহিষ্কার করতে ব্যবহার করতে পারবে কি না।  হাওলাদারের এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র ব্লাজিও প্রশ্নটিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, আমরা অত্যন্ত সাবধানতার সাথে সিটি আইডি কার্ড প্রদান করেছি। পরিচয়পত্র গ্রহণকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা আশাতীত সাফল্য অর্জন করি।

আইডির ব্যাপারে আমরা আমাদের নীতি পরিবর্তন করেছি। প্রথমত: আগের আইডি’র সব তথ্য মুছে ফেলেছি। নিউইয়র্ক সিটির আইডি কার্ডপ্রাপ্ত কাগজপত্রহীন-অভিবাসীদের গোপন তথ্য সিটির কাছে নেই। তাই ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে সেগুলো জেনে যাবারও সুযোগ নেই।  দ্বিতীয়ত নতুন আবেদনকারীর কাছ থেকে তেমন কোন তথ্য জানতে চাওয়া হয় না, যা তাদের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।  বাংলাদেশ সোসাইটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনিকা রায় বাংলাদেশ সোসাইটির উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড’ আয়োজনে সিটির সহযোগিতা চাইলে মেয়র সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিভাগীয় কর্মকর্তারা সাথে সাথে মনিকা রায়ের কাছে এসে তার সাথে বাংলাদেশ প্যারেডের ব্যাপারে যোগাযোগ করা হবে বলে তাকে জানান।

এ বৈঠকে বাংলাদেশী কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুব ডেমোক্র্যাট নেতা জয় চৌধুরী, এটর্নী সুমা সাঈদ, তৌহিদ আহমেদ, কণিকা দাস, ফারূক শাহীন প্রমুখ।*

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here