নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কূটনীতিক গ্রেপ্তার: জামিনের অর্থ পরিশোধ না করায় মুক্তি পাননি

ভাইস কনসাল শাহেদুল ইসলাম

বর্ণমালা নিউজ: বিদেশে বিভিন্ন মিশন ও দূতাবাসে রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের ক্যাোর সার্ভিসের কর্মকর্তাদের অবজ্ঞার বহির্প্রকাশ দেখা গেল নিউইয়র্কের কন্স্যুলেট অফিসের ভাইস কনসাল শাহেদুল ইসলামকে জামিনে
মুক্ত করতে অবহেলা প্রদর্শনের মধ্যে দিয়ে। ১২ জুন সোমবার গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন শাহেদুল ইসলাম। ২৫ হাজার ডলার নগদ জামিনের অর্থ পরিশোধ করলে শাহেদুল ইসলাকে দিনে দিনে ছেড়ে দিতো কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট। কিন্তু রহস্যজনক কারনে কনসাল জেনারেলের অফিস সেই ব্যবস্থা না নেয়ায় আমেরিকায় বাংলাদেশের ভাবমূীর্ত ক্ষুন্ন হল। অথচ একই রকম অপরাধে ২০১৪ সালে কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী কূনৈতিক ইম্যিুনিটি পেয়েছিলেন এবং তাদের জামিনের জন্য বিশাল অংকের অর্থেরও সংস্থান হয়েছিল।

১৩ মাস পর গৃহকর্মী তাকে নির্যাতনের যে অভিযোগ এনেছিলো তার ভিত্তিতে ভাইস কনসাল শাহেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে নিউইয়র্ক পুলিশ। ভাইস কনসাল শাহেদের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ তিনি তার বাসায় উলে¬খিত গৃহকর্মী মোহাম্মদ রুহুল আমিন নামে বাংলাদেশি নাগরিককে তিন বছরের বেশি সময় ধরে সহিংস নির্যাতন ও হুমকি দিয়ে বিনা বেতনে কাজ করতে বাধ্য করেছেন। কুইন্স কাউন্টির অ্যাটর্নির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এই সংক্রান্ত বিশদ বিবরণও রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয় ওই গৃৃহকর্মী শ্রমিক যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর পরই অভিযুক্ত শাহেদুল ইসলাম তার পাসপোর্ট কেড়ে নেন এবং তাকে দিয়ে দৈনিক আঠারো ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য করান বলেও অভিযোগ এসেছে। এদিকে ১৩ মাস আগে গৃহকর্মী রুহুল আমিন পালিয়ে যাবার পর নিউইয়র্ক কন্স্যুলেটের পক্ষে বিষয়টি স্টেট ডিপার্টমেন্টকে জানানো হয়েছিলো বলে জানা গেছে।
নগদ ২৫ হাজার ডলার পরিশোধ করলে জামিনে মুক্ত হয়ে বেড়িয়ে আসতে পারতেন শাদেদুল ইসলাম অথচ নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শামিম আহসান কোন কোন মিডিয়াকে জানিয়েছেন ৫০ হাজার ডলার বন্ডে শাহেদকে জামিন আদেশ দেয়া হয়েছে তবে এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত তিনি এখনো মুক্ত হননি। মঙ্গলবার (১৩ জুন) শাহেদ জামিনে মুক্তি পাবেন। আগামী ২৮শে জুন তাকে আবারও আদালতে হাজির হতে হবে। এদিকে কন্সাল জেনারেল শামীম আহসান জানান, শাহেদুল ইসলামকে সোমবার বিকালেই কুইন্সের জ্যামাইকার একটি আদালতে হাজির করা হয়। আদালত শুনানী শেষে শাহেদুল ইসলামকে জামিন প্রদান করেন ২৫ হাজার ডলার নগদ এবং ৫০ হাজার ডলার বন্ডে।

নগদ ২৫ হাজার ডলার দিয়ে শাহেদুল ইসলামকে কেন জামিন বের করে আনা হলো না জানতে চাইলে কনসাল শামীম আহসান বর্ণমালা‘কে জানান, প্রথমমত: সময় স্বল্পতার জন্য তা করা যায়নি। তাছাড়া যে বিচারক জামিন দিয়েছিলেন তিনি রায় দিয়েই চলে যান, ফলে অফিসিয়াল ফর্মালিটি শেষ করার মত সময় ছিলো না। এছাড়াও জামিন পেতে হলে গ্র্যারান্টারের প্রয়োজন এক্ষেত্রে দুজন গ্যারান্টার পেতেও সময়ের প্রয়োজন। আগামী কাল (মঙ্গলবার) ৫০ হাজার বন্ডে তার জামিনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শামীম আহসান।
অভিযোগকারী রুহুল আমিন তার অভিযোগে জানিয়েছেন ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সালের মে মাস পর্যন্ত কোনও ধরনের অর্থ ছাড়াই শাহেদ তার বাসায় তাকে কাজ বাধ্য করেন। এরপর মোহাম্মদ আমিন নামে ওই ব্যক্তি গত বছর মে মাসে পালিয়ে যায় এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ জানায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here