২৫জুন রবিবার যুক্তরাষ্ট্রে পবিত্র ঈদুল ফিতর

শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন: আগামী ২৫ জুন রবিবার যুক্তরাষ্ট্রে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। ওয়াশিংটনের সবচাইতে বড় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অ্যাডাম সেন্টার তাদের ওয়েব সাইটে এই ঘোষনা দিয়েছে। ঘোষনা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ২৫ জুন শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত। গত ২৭ মে পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিবস শুরু হয়েছে এবং শেষ হবে ২৪ জুন শনিবার। ২৫ জুন রবিবার পবিত্র শাওয়াল মাসের প্রথম দিবস এবং ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শাওয়াল মাসের প্রথম দিবসেই পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়।
বছর ঘুরে আবার এলো ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা শেষে আগামী ২৫ জুন রবিবার ঈদের আমেজ ছড়িয়ে পড়বে সবখানে। ঘরে ঘরে বইবে আনন্দের বন্যা। পথে পথে ছড়িয়ে পড়বে খুশির ঝিলিক। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার মনে আনন্দের কোন সীমা থাকবে না। আশরাফ আতরাফ ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক কাতারে ঈদের নামাজে শরিক হবেন। গাইবে সাম্যের গান। নতুন জামাকাপড় পরে সবাই ছুটে যাবে ঈদগাহে। ঈদের নামাজ আদায় করতে যাওয়ার আগে সেমাই, পায়েস, খেজুর, খোরমা অথবা মিষ্টান্ন খেয়ে রওনা হবে। গোসল করে নতুন পোশাক পরে আতর-সুরমা লাগিয়ে ঈদের মাঠে গমন করবে। নামাজ শেষে পথে পথে প্রিয়জনদের সঙ্গে সালাম বিনিময় ও কোলাকুলিতে শরিক হবে। জানাবে ঈদ মোবারক। তাই কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন ঈদ এসেছে দুনিয়াতে শিরনি বেহেশতী, দুষমনে আজ গলায় গলায় পাতালো ভাই দোস্তী, জাকাত দেবো ভোগ-বিলাস, আজ গোস্বা বদমস্তি, প্রাণের তশতরীতে ভরে বিলাব তৌহিদ। চলো ঈদগাহে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় যুক্তরাষ্ট্রেও ঈদ-উল- ফিতরই হলো মুসলিম সম্প্রদায়ের বৃহত্তম উৎসব। ঈদ উপলক্ষে পুরো রমজান মাস ধরে কেনাকাটা চলে। অধিকাংশ পরিবারে ঈদের সময়েই নতুন পোশাক কেনা হয় সাধ্যমতো। ঈদের দিন প্রত্যেক মুসলমানের ঘরে ঘরে সাধ্যমতো বিশেষ খাবারের প্রস্তুতিও রয়েছে। ঈদের দিনে সেমাই বা অন্যান্য মিষ্টি নাস্তা না হলে চলে না। ঈদ-উল-ফিতরকে আরবীতে রোজা ভাঙার দিবস অভিহিত করা হয়ে থাকে। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের দুটো সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের একটি। দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখা বা সিয়াম সাধনার পর বিশ্বের মুসলমানেরা এই দিনটি ধর্মীয় কর্তব্যপালনসহ খুব আনন্দর সঙ্গে পালন করে থাকে। সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যরে বন্ধনেও আবদ্ধ করে সবাইকে।
ঈদ মুসলমানদের জীবনে শুধুমাত্র আনন্দ-উৎসবই নয়, বরং এটি একটি মহান ইবাদত যার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা খুঁজে পায়। সব শ্রেণী ও সকল বয়সের নারী-পুরুষ ঈদের জামাতে শামিল হয়ে মহান আল্লাহ শোকর আদায়ে নুয়ে পড়ে। ইসলামী বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদ-উল-ফিতরের দিনে খুশি প্রকাশ করা মুসলমানের জন্য মুস্তাহাব। যখন ঈদের দিন ভোর হয় তখন আল্লাহ্ তাআলার আপন ফেরেস্তারা সব শহরে, সব গলি ও রাস্তাগুলোর মাথায় দাঁড়িয়ে যায়। আল্লাহ তাআলাও তাঁর বান্দাদের এভাবে সম্বোধন করেন, হে আমার বান্দারা! চাও, কি চাইতে ইচ্ছে হয়! আমার সম্মান ও মহত্ত্বের শপথ! আজকের দিনে এ জমায়েতে (ঈদের নামাজে) তোমাদের আখিরাত সম্পর্কে যা কিছু চাইবে তা পূরণ করব। আর যা কিছু দুনিয়া সম্পর্কে চাইবে তাতে তোমাদের মঙ্গলের দিক দেখব। আমার সম্মানের শপথ! তোমরা যতক্ষণ পর্যন্ত আমার বিধানাবলীর প্রতি যত্মবান থাকবে আমিও তোমাদের ভুলত্রুটিগুলো গোপন রাখব। আমার সম্মান ও মহত্ত্বের শপথ, আমি তোমাদের সীমালংঘনকারীদের সঙ্গে অপমানিত করব না। তোমাদের ঘরের দিকে ক্ষমাপ্রাপ্ত হিসেবে ফিরে যাও। তোমরা আমাকে সন্তুষ্ট করেছে। আমিও তোমাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে গেছি।
ফিতরা : ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। এটি এক ধরনের সাদকা বা দান। যা রোজার ভুলত্রুটি দূর করার জন্য আদায় করা হয়। ঈদের নামাজের পূর্বেই ফিতরা আদায় করার বিধান রয়েছে। ফিৎরার ন্যূনতম পরিমাণ ইসলামী বিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট করা থাকে। সাধারণত ফিতরা পরিমাণ আটা বা অন্য শস্যের (যব, কিশমিশ) মূল্যের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়। সচরাচর আড়াই সের আটার স্থানীয় মূল্যের ভিত্তিতে ন্যূনতম ফিতরার পরিমাণ নিরূপণ করা হয়। এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে জন প্রতি সর্বনিম্ন ফিতরার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ ডলার এবং সর্বোচ্চ ১৫ ডলার। যে কেউ ইচ্ছা করলে সর্বনিম্ন এই হার থেকে সর্বোচ্চ হারে ফিতরা আদায় করতে পারবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here