‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেল’র পতন টিকিট কাটা অসংখ্য যাত্রী ফিরে আসছেন জেএফকে এয়ারপোর্ট থেকে

তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেল সার্ভিসেস’কে দেওলিয়া (ব্যাংক্রাপ্সি) ঘোষনা করে এর কর্ণধার নাজমুল হুদা এমুহূর্তে নিউইয়র্ক বাংরাদেশী কমিউনিটিতে সবচেয়ে আলোচিত ও নিন্দিত ব্যক্তি।

বর্ণমালা নিউজ: ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেল’ উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশীদের সবচেয়ে পুরোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আজকে সেই প্রতিষ্ঠানটি ‘দেওলিয়া’ হয়ে গেছে। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে দেওলিয়া (ব্যাংক্রাপ্সি) ঘোষনা করে এর কর্ণধার নাজমুল হুদা এমুহূর্তে কমিউনিটিতে সবচেয়ে আলোচিত ও নিন্দিত ব্যক্তি। ঠিক ঈদের আগে তার প্রতিষ্ঠানের দেওলিয়া প্রক্রিয়া শুরু করায় কয়েক‘শ প্রবাসীর দেশে যাওয়া শুধু বিঘিœত হয়নি- প্রতিদিন জেএফকে এয়ারপোর্ট থেকে বুকিং ক্যান্সেল হওয়া যাত্রীরা হয়রানীর শিকার হয়ে ফিরে আসেছেন। জ্যাকসন হাইটসের ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের প্রধান অফিসে এসে ফিরে যাচ্ছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।
গত ১৯ জুন সোমবার জ্যাকসন হাইটস অফিসের সামনে ক্ষুদ্ধ যাত্রীরা সমেবত হয়ে তাদের সাথে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ভীড় জমান। এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত বৃহস্পতিবার রাত ৯ টায় জ্যাকসন হাইটস অফিসে আলো জ্বললেও তা তালাবদ্ধ ছিলো। এই প্রতিবেদকের সামনেই চার পাঁচজন এসে অফিস তালাবদ্ধ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন। তার আগে ইফতারের পর পরই ৭৩ স্ট্রীটের হাটবাজারের সামনে সাংবা

জ্যাকসন হাইটসে ওয়াল্ড ওয়াইড ট্রাভেলের সামনে বৃহস্পতিবার ক্ষুদ্ধ ক্রেতা-যাত্রীদের বিক্ষোভ দমাতে পুলিশ আসে

দিকদের জটলা দেখে এগিয়ে এসে একব্যক্তি তার বুকিং করা ইটিকিট দেখিয়ে বললেন চারিদিকে গুঞ্জন শুনে তিনি জেএফকে এয়ারপোর্টে গিয়ে কুয়েত এয়ারওয়েজে খোঁজ নিয়ে দেখেন যে তার টিকিটের বুকিং বাতিল করে দিয়েছে ওয়ার্ল্ড ওয়া্িড ট্রাভেলস। ১১ জুলাই তার কুয়েত এয়ারওয়েজে ক

রে দেশে যাবার কথা জানালেন সাখাওয়াত হোসেন শেখ। তিনি জানান একটি নিউইয়র্ক-ঢাকা রিটার্ন টিকিট ৬৫০ ডলারে এবঙ ওয়ান ওয়ে ঢাকা টিকিট ৩৯০ ডলার নগদ অর্থে কিনেছিলেন। এখন তা বাতিল হওয়ায় চোখে সর্ষে ফুল দেখেছেন তিনি। শুধু সাখাওয়াত নন এমন অনেক যাত্রীই প্রতিদিন ওয়াল্ড ওয়াইড ট্রাভেলের জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা ও ব্রুকলীনের অফিসে ভীড় জমাচ্ছেন। বুধবার জেএফকে এয়ারপাের্ট থেকে ৪/৫ টি পরিবার ফিরে এসেছেন। এয়ারপোর্টে গিয়ে তারা দেখেন যে তাদের বুকিং বাতিল হয়ে গেছে- কিন্তু এ সম্পর্কে ওয়াল্ড ওয়াইড কর্তৃপক্ষ তাদেরকে কিছুই জানাননি।

কিন্তু কেন ২৯ বছরের একটি পুরোনো প্রতিষ্ঠান এভাবে তার ক্রতাদের সাথে প্রতারণা করলো তা নিয়ে কমিউনিটিতে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। ইফতার পার্টি থেকে চায়ের আড্ডায় ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেল’ এর কথা উঠে আসছে। যে ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেল’ ছিলো এতোদিন কমিউনিটির আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠান তার এমন পরিণতি কউিনিটির ব্যবসায়ী মহল ও নেতৃবৃন্দের মধ্যে উদ্বোগ উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছে। জ্যাকসন হাইটস বাংরাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দও হতবাক ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেল’র এই পতনে।

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেলের কর্ণধার নাজমুল হুদার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে হুদা বলেন, আমি কয়েকদিন ধরে অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে আছি। এর মাঝে টিকিট বুকিং বিপর্যযের ঘটনা ঘটেছে। তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম এটাকে বিপর্যয় বলছেন কেন? এটাতো আপনারা করেছেন বলে যাত্রীদের জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট এয়ার লাইন্সগুলো। উত্তরে নাজমুল হুদা বলেন, ব্যবসায়ে ক্রমাগত লোকসান দিতে দিতে আর পারছিলাম না, তাই শেষ পর্যন্ত কোম্পানী ব্যাংক্রাপ্সী করেছি। এর প্রক্রিয়া চলছে। আর হ্যা এরমধ্যে অনেক যাত্রীর বুকিং সমস্যা হয়েছে। চারিদিকে গুঞ্জন আপনি ইচ্ছকৃতভাবে যাত্রীদের এই ভোগান্তিতে ফেলেছেন- উত্তরে নাজমুল হুদা বলেন, ঈদের আগে প্রায় সব যাত্রীই তাদের গন্তব্যে গেছেন, তবে কেউ কেউ এয়ারপোর্ট থেকে ফিরে এসেছেন এটা জানার পর তাদের জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি।

এ ঘটনায় মো. মনিরুজ্জামান নামে প্রতারিত এক ব্যক্তি বুধবার ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেল সার্ভিসেস-এর বিরুদ্ধে ম্যানহাটানের সিভিল কোর্টে মামলা করেছেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হুদা বলেন, এটা তিনি জানেন এবং এ বিষয়ে তার কিছু করার নেই। কারন তিনি ব্যাংক্রাপ্সী করেছেন। অন্যরাও যদি এমন মামলা করে তখন কি একই কথা বলবেন জানতে চাইলে নাজমুল হুদা কিছু বলেননি।

তার প্রতিষ্ঠান ব্রাংক্রাপ্সী করেছে সেটা তার আইনগত অধিকার কিন্তু সাধারন নিরীহ যাত্রীদের কেন এই ভোগান্তিতে ফেলেছেন জানতে চাইলে হুদা বলেন, আমি প্রথমত: দুঃখিত এই পরিস্থিতির জন্য। আমি যত সম্ভব সবার টিকিট ঠিক করে দেবার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। না পারলে অর্থ ফেরত দিবো।

তাদের টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে এয়ারপোর্ট থেকে ফিরে আসা যাত্রীদের পরামর্শ দেয়া হতো যার তার কাছ থেকে টিকিট না কেটে ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেল’ থেকে টিকিট কেটে নিশ্চিন্তে দেশে যেতে। আজকে ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেল’ নিজেই তার বিজ্ঞাপনকে হাস্যকর প্রতিপন্ন করেছে। কিন্তু এতো কিছুর পরও যারা ঈদে দেশে যেতে পারেননি তাদের জন্য আসলেই কিছু করতে পারবে ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেল’? এমন ভাবার আর কোন সুযোগ নেই। কারন দেওলিয়া প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে কিছু পাবার সম্ভাবনা খুবই কম। যদিও ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেল’র কর্ণধার নাজমুল হুদা বলেছেন সবার টিকিটের অথৃ তিনি ফেরত দিবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here