নিউিইয়র্কে বাংলাদেশীদের শান্তির জনপদ ব্রঙ্কস এখন আতঙ্কের জনপদ

বর্ণমালা নিউজ : অসংখ্য কাগুজে বাঘ মূলধারার নেতাপদবীধারীদের দোদন্ড (!) প্রতাপের মধ্যেই ব্রঙ্কসে একের পর এক বর্ণবাদী হামলার হেইট ক্রইমের) শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশীরা। সর্বশেষ গত সমপ্তাহে দুর্বৃত্তের ‘হেইট ক্রাইমের শিকার’ হলেন বাংলাদেশি ইমাম কামাল উদ্দিন। দু‘সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ নেতা শাহ গোলাম রাহিম (শ্যামল)। তার আগে ১৯ মে শুক্রবার সন্ধ্যা ব্রঙ্কসে হেইট ক্রাইমের শিকার হলেন আরেক বাংলাদেশি ক্যাব চালক সুপন চৌধুরী।

গত বছর বছর রমজানের তারাবিহ নামাজ পড়ে গিয়ে পার্কচেস্টার মসজিদের সামনেই তিন যুবকের হামলার শিকার হয়েছিলেন বাংলাদেশি আতিক আশরাফ এবং স্টারলিংয়ে প্রকাশ্য ঘটনার শিকার হন সোহেল চৌধুরী। একের পর এক সন্ত্রাসী হামলায় বাংরাদেশীদের আক্রান্ত হবার ফলে এক সময়ের বাংলাদেশীদের জন্য শান্তির জনপদ ব্রঙ্কস এখন আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে।
গত ১৫ জুন বৃহস্পতিবার ইফতার পরবর্তী সময়ে হিস্পানিক বংশোদ্ভূত একাধিক যুবক মোবাইল দোকান থেকে ইমাম কামাল উদ্দিনকে জোরপূর্বক টেনে হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়। এসময়ে তাদের উপর্যুপরি আঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। আহত অবস্থায় ওই ইমামকে ব্রঙ্কসের জ্যাকবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ব্রঙ্কসের বাংলাবাজারের কর্নার ঘেঁষে ইউনিয়ন পোর্ট রোডের ওপরে গড়ে উঠেছে দেশীয় মালিকানাধীন একটি মোবাইল ফোন ও উপহার সমাগ্রীর দোকান। ‘ফোনস ক্লাব নামক এই দোকান থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে নেয়া হয় বাংলাদেশি ইমাম কামাল উদ্দিনকে। এরপর তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ফোনস ক্লাবের সিসিটিভিতে ধারণকৃত ফুটেজে দেখা যায়, সাদা টি-শার্ট পরা দুই যুবক বাংলাদেশি ইমাম কামাল উদ্দিনকে জোরপূর্বক দোকানের বাইরে নিয়ে যায়। তাদের সঙ্গে ছিল আরও কয়েকজন সহযোগী। হামলাকারীদের হাত থেকে ছুটে ফের মোবাইল দোকানে ঢুকে পড়েন কামাল উদ্দিন। সেখানেও তার ওপর চড়াও হন উচ্ছৃঙ্খল ওই যুবকেরা।

১৬ জুন শুক্রবার হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় ফিরে গেছেন কামাল উদ্দিন। বাংলাবাজার মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে অতর্কিত হমলার কথা তুলে ধরেন তিনি।

ব্রঙ্কসের বাংলাদেশি অধ্যুষিত পার্কচেস্টার ক্যাসেলহিলের স্টারলিং অ্যাভিনিউতে বাংলাদেশিদের শক্ত অবস্থান থাকার পরও একের পর এক এসব হামলা ভাবিয়ে তুলেছে পুরো কমিউনিটিকে। তারা বলছেন, কমিউনিটি বোর্ডসহ বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানে পদ লাভ এবং স্ত্রী ও সন্তানদের উচ্চ বেতনের চাকুরী ব্যবস্থা করার জন্য একাধিক সংগঠন সৃষ্ঠিকারী নেতানামধারীদের নাকের ডগায় একের পর হামলার শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশীরা। সেইসব নেতারা এই সমস্যার সমাধান করার যোগ্যতা রাখেন না অথচ বিভিন্ন সভা সেমিনারে তারা বড় বড় বুলি আউড়ে বিশাল বিশাল সমস্যা সমাধানে তাদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য আহ্বান জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here