ঈদ আমেজে নিউইয়র্কে নতুন প্রজন্মের মেহদী উৎসব

0
144

নিউইয়র্ক থেকে : মসজিদ থেকে ঈদুল ফিতর উদযাপনের ঘোষণার পরই তরুণীরা মেহদী উৎসবে মেতে উঠলো। বাঙালি সংস্কৃতির আমেজে ঈদ-উৎসবের এ দৃশ্য বহুজাতিক সিটি নিউইয়র্কের বৈচিত্রকে আরো বর্ণাঢ্য করছে গত ৫/৬ বছর থেকেই। নতুন প্রজন্মের বাঙালি-আমেরিকানদের এ আয়োজনে কোন পরিকল্পনা যেমন থাকে না, তেমনি এজন্যে কোন মুরুব্বিয়ানাও চোখে পড়ে না। অথচ ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকার ফুটপাত দখল করেই বসছে শতশত তরুণী মেহদী রাঙানোর নানা সরঞ্জাম নিয়ে। পুলিশ কিংবা সিটির অন্য কোন কর্তৃপক্ষেরও এটি গা সওয়া হয়ে গেছে অর্থাৎ একটি জাতিগোষ্ঠির ধর্মীয় সংস্কৃতির প্রতি তাদেরও সহনশীলতা তৈরী হয়েছে। যদিও একেকটি হাতে মেহদী রাঙানোর জন্যে নির্দিষ্ট হারে অর্থ নেয়া হচ্ছে।

উত্তর আমেরিকায় বাঙালিদের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে খ্যাত জ্যাকসন হাইটসের ৭৩, ৭৪ এবং ৭৫ স্ট্রিটেই শুধু নয় দু’পাশে অর্থাৎ ৩৭ এভিনিউ এবং ৩৬ রোডে ডাইভার্সিটি প্লাজাতেও একই দৃশ্য। ইফতারের আগে শুরু হওয়া এ মেহদী রাঙানোর উৎসব চলে ভোর রাত অবধি। রাত যত বাড়ে ততই ভীড় বাড়ে গৃহিনী আর মধ্য বয়েসী নারী-পুরুষের। ঈদকে আনন্দময় করতে এটি এখন প্রবাসী বাঙালিদের একটি অংশে পরিণত হয়েছে। নতুন পোশাক-আশাকের ন্যায় হাত ও পায়ে মেহদী রাঙানোর বাজেটও রাখতে হচ্ছে প্রতি পরিবারে। একইভাবে যে পরিবারে স্কুল-কলেজগামি মেয়ের সংখ্যা বেশী, সে পরিবারের জন্যে বাড়তি একটি আয়ও হচ্ছে এই কাজ থেকে। কেউ কেউ সারারাতে ৩০০ ডলার পর্যন্ত আয় করে থাকে।

মেহদী রাঙানোর এ হাট পরিদর্শনকালে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১ এর মহাসচিব, লেখক-সাংবাদিক হারুন হাবীব বলেন, ‘সুদূর এই প্রবাসে বাংলাদেশী বংশোদ্ভ’তদের মধ্যে বাঙালি সংস্কৃতির এই প্রবাহ আমাকে অভিভ’ত করেছে। এই ধারাকে বহমান রাখতে প্রথম প্রজন্মকে আরো যতœবান হতে হবে। একইভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকেও প্রবাস প্রজন্মে বিচ্ছূরণ ঘটাতে নিরলসভাবে কাজ করতে হবে সকলকে।’

হারুন হাবীব উল্লেখ করেন, ‘রাজধানী ঢাকাতেও এমন উৎসব-আমেজে মেহদী রাঙানো উৎসব দেখিনা। নিউইয়র্কের এই উৎসব বিশ্ব বাঙালির অহংকারের প্রতিক এবং বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি প্রবাসীদের অগাধ মমতবোধেরই বহি:প্রকাশ।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here