ফিনল্যান্ডে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে ঈদ

0
71

হেলসিংকি থেকে: ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। একমাস রোজা রাখার পর ফিনল্যান্ড জুড়ে মুসলমানরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আর উৎসাহের মধ্য দিয়ে রবিবার উদযাপন করছে ঈদুল ফিতর।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় শাওয়ালের এক ফালি চাঁদ যেন ডালি ডালি খুশির বার্তা নিয়ে আসে। তারই আবাহনে আজ (রবিবার) ঈদের সকালে সবাই নতুন পোশাক পরেছে। শিশুদের চোখমুখে ফুটে উঠেছে আনন্দ আর উচ্ছ্বাস। তারা সবাই তো এই দিনটিরিই প্রতীক্ষায় ছিল গত একমাস। অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান হল ২৫ই জুন রবিবার। গ্রীষ্মের রৌদ্রোজ্জল সকালে ফিনল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সমবেত হয় ঈদের জামাতে।

ইসলামী রীতি অনুযায়ী রাজধানী হেলসিংকিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদের প্রধান দুইটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে সকাল ৯টায় কনতুলা স্কুল মিলনায়তনে ও হাকানিয়েমীর মেরী হাকা পাল্লোহাল্লিতে। হাকানিয়েমীতে ইমামতি করেন হেলসিংকির দারুল আমান মসজিদের খতিব আবদুল কুদ্দুস খান ও কনতুলার জামাতে ইমামতি করেন বশির আহমেদ।ঈদের জামাত শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মার শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া মোনাজাত করা হয়।

ফিনল্যান্ডের সর্বস্তরের প্রবাসী বাংলাদেশিরা জামাত দুটিতে অংশ নেন। ঈদ জামাতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বদরুল মনির, নাজমুল হুদা, কামরুল আলম কমল, নাসির খান, আরিফ হক, জহুরুল ইসলাম সিকদার, রফিকুল হায়দার টিপু, জামান সরকার, মবিন মোহাম্মদ, রুবেল ভূঁইয়া, আবুল হাসেম চৌধূরী, আতাউর রহমান খান, এম এ হারুন, এম এ মান্নান, বদরুম মুনীর ফেরদৌস, সামসুল গাজী, মিজানুর রহমান মিঠু, মোস্তফা আজাদ বাপি, মোস্তাক সরকার, খালেদুল ইসলাম জিতু, সাহিন মোহাম্মদ, সাজ্জাদ মুন্না, আতাউর রহমান রুহেল, হাদি, হাসান, তাপস খান, মাসুদ আবদুল্লাহ, আনোয়ার হোসেন খান, ফাহমিদ উস সালহীন, ফাহাদ, সুলতান দাউদ হোসেন, পাভেজ মনোয়ার, লাবিব, লামিয়া, সহিদুল ইসলাম, সবুজ, মোরসালীন, তাজুল ইসলাম, সপনীল, আনোয়ার হোসেন, নাজমুল হাসান লিটন, হাসিব সরকার, আকরাম, ওয়াহিদ, জসিম, আবুল কালাম আজাদ, সরোয়ার, খায়রুল আহসান, জসিম, আনিসুর রহমান, জায়ান, আরিয়ান প্রমুখ।

বরাবরের মত এবারেও বাঙালিদের ঈদ উৎসবে ছিল বিভিন্ন ধরনের দেশি-বিদেশি খাবার, একে অপরের বাড়িতে নিমন্ত্রণ খাওয়া, মাতৃভূমি বাংলাদেশে টেলিফোন করে পরিবারের ও আত্নীয়স্বজনের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও খোঁজ-খবর নেওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। ঈদের এই আনন্দে একে অপরের বাড়িতে নিমন্ত্রণ খাওয়ার রেওয়াজ একাধারে ৩-৪ দিন চলতে থাকে। মোটকথা মাতৃভূমির মায়া আর দেশে ফেলে আসা স্বজনদের জন্য ভালবাসা বুকে চেপে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের প্রবাসীরা সবাই পরষ্পর ভাগাভাগি করছেন আনন্দ। সুযোগ মতো ফোনে, ফেসবুকে, স্কাইপে যোগাযোগ হচ্ছে নিজ নিজ দেশে। অনেকেই অশ্রুসজল হয়ে পড়ছেন শয্যাশায়ী মা-বাবার জন্য, কেউ সন্তানের কচিমুখ মনে করে চোখ মুছছেন। তবে সবকিছু ছাপিয়ে সবাই হাসিমুখেই উদযাপন করছেন ঈদকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here