যুক্তরাষ্ট্রের ঈদ জামাতে মানবতার শান্তি ও আর সমৃদ্ধির সংকল্পে পরস্পরের সহযোগী হয়ে কাজের অঙ্গিকার

0
138

নিউইয়র্ক থেকে : মুসলিমসহ সারাবিশ্বের মানবতার শান্তি আর সমৃদ্ধির প্রত্যয়ে পরস্পরের সহযোগী হয়ে কাজের সংকল্প ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে আমেরিকায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। ২৫ জুন রোববার ২৬ শতাধিক মসজিদ ছাড়াও খোলা মাঠ এবং বিলাসবহুল হোটেলের বলরুমে অনুষ্ঠিত হয় ঈদ জামাত। প্রায় প্রতিটি জামাতের আশপাশেই ছিল নিরাপত্তা বেষ্টনী। ফলে এক ধরনের টেনশনের মধ্যেই নতুন পোশাকে নারী-পুরুষেরা ঈদের কোলাকুলি করেন।

নিউইয়র্কে ঈদের সবচেয়ে বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয় কুইন্সে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের আয়োজনে। একটি স্কুলের খেলার মাঠে এ জামাত অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশীদের নেতৃত্বে। ১৫ হাজারের অধিক মুসল্লী এতে অংশ নেন বলে আয়োজকরা উল্লেখ করেন। এর পরের বহৃৎ জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হয় ওজোনপার্কে মসজিদ আমান, এস্টোরিয়ায় আল আমিন মসজিদ, ব্রুকলীনে বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টার ও বায়তুল জান্নাহ মসজিদের ব্যবস্থাপনায়।

মুসলিম আমেরিকানদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশন্স’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সর্বত্র শান্তিপূর্ণভাবেই ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রায় প্রতিটি এলাকার প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুসলমানদের সর্ববৃহৎ এই ধর্মীয় উৎসবের সমর্থনে আন্তরিকতাপূর্ণ সহায়তা ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষেত্রে এক অনন্য নজির বলে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে ঈদ উপলক্ষে নিউইয়র্ক সিটির বাংলাদেশী অধ্যুষিত কুইন্সের জ্যামাইকা, জ্যাকসন হাইটস, ওজোনপার্ক, ব্রুকলীনের চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড, ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার এলাকায় ভিন্ন এক আমেজ পরিলক্ষিত হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রায় সকলেই নতুন পোশাকে নিকট প্রতিবেশীদের বাসায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। জ্যাকসন হাইটসের ‘নিউ মেজবান’ নামক একটি রেস্টুরেন্টে ব্যাচেলরদের স্বার্থে বিনামূল্যে ঈদের সেমাই বিতরণ করা হয়। জামাতের আগে ও পরে এই সেমাইয়ের পরিবেশনা ছিল অনন্য এক সংযোজন। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, নিউইয়র্কসহ প্রায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই গ্র্যাজুয়েশন পার্টি সমাপ্ত হবার সাথে সাথে শিক্ষাবর্ষেরও শেষ লগ্নে হওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যে ঈদের আনন্দ অনেক বেশী। নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলসমূহে ঈদের দিন ছুটি ছিল। কিন্তু সেটি কাজে লাগলো না রোববার ঈদ হওয়ায়। কারণ, শনি ও রোববার হচ্ছে সাপ্তাহিক ছুটির দিন।

এবারও যুক্তরাষ্ট্র থেকে কমপক্ষে ৫০ হাজার বাংলাদেশী-আমেরিকান স্বজনের সাথে ঈদ করার জন্যে বাংলাদেশে গেছেন। তাদের প্রায় সকলেই ফিরবেন ঈদুল আযহার পর। এবারও বাংলাদেশের কয়েকজন জাতীয় নেতা যুক্তরাষ্ট্রে ঈদ উদযাপন করছেন। এর মধ্যে রয়েছেন সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের মহাসচিব সাংবাদিক-লেখক হারুন হাবীব, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দিন আহমদ, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ, বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা প্রমুখ।

এদিকে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সাক্রামেন্টো মসজিদের সামনে ফেঞ্চে কে বা কারা পবিত্র কোরআন শরিফে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে অগ্নিদগ্ধ সেই কোরআনের পৃষ্ঠাগুলোতে শূকরের মাংস ও রক্ত মিশিয়ে রাখে। এ ঘটনাকে স্থানীয় পুলিশ ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here