ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেলের বিপর্যয়কে পূঁজি করে মিথ্যা সহযোগিতার কথা বলা হচ্ছে ‘গোঢাকাট্রাভেলডটকম’ কর্মকর্তা রিপা আহমেদ বলেন-

বর্ণমালা নিউজ: ২৯ বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেল সাভিসের পতনের পর কমিউনিটিতে বাংলাদেশী ট্রাভেল এজেন্সী নিয়ে এক ধরনের সংশয় ও আশংকার সৃষ্টি হয়েছে। আবার ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেলের বিপর্যয়কে পূঁজি করে কোন কোন ট্রাভেল এজেন্সী মিথ্যা সহযোগিতার কথা বলে নিজেদের ব্যবসা বাড়ানোর চেষ্ঠা করছে। অথচ এই ট্রাভেল এজেন্সীগুলোও একই

রিপা আহমেদ

অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে এসেছে বিগত বছরগুলোতে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাভেল এজেন্সী থেকে টিকিট কেনা ও তাদের করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ পেতে সাপ্তাহিক বর্ণমালা যোগাযোগ করে মূলধারার প্রতিষ্ঠান ‘গোঢাকাট্রাভেলডটকম’র বাংলাদেশী কর্মকর্তা রিপা আহমেদের সাথে। রিপা আহমেদ দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে মূলধারার বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সী যারা বিভিন্ন এয়ার লাইন্সের স্টক হোল্ডার তাদের সাথে কাজ করে আসছেন। ১৯৮১ সাল থেকে বাংলাদেশ বিমান ও পরে ব্রিটিশ এয়ার ওয়েজ এবং পরবর্তীতে আমেরিকার বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সীতে কাজ করার অভিজ্ঞতায় নিয়ে আমেরিকার বিশাল এয়ারলাইন্স ট্রাভেল নেটওয়ার্ক মন্ডি গ্রুপের সহযোগী ট্রান্সজুমের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ‘গোঢাকাট্রাভেলডটকম’এ সিনিয়র ম্যানেজার হিসাবে কাজ করছেন রিপা আহমেদ।
জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্ট্রীটের কাবাব কিংয়ের উপরে দোতালায় ‘গোঢাকাট্রাভেলডটকম’র অফিসে রিপা আহমেদের সাথে আলাপের শুরুতে তার অভিজ্ঞতার আলোকে রিপা আহমেদ বলেন, ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের মত দীঘদিনের পুরোনো একটি ট্রাভেল এজেন্সীর ব্যাংক্রাপ্সীর ঘটনা দু:খজনক। ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের এই ঘটনা থেকে অনেক শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। রিপা আরও বলেন ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের ঘটনার পর কোন কোন ট্রাভেল এজেন্সী প্রচার করছে তারা ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের কাছ থেকে প্রতারিত ৭/৮শ ক্রেতাকে সেবা দিয়েছে- কিন্তু এমন দাবী হাস্যকর। কারন এসব প্রতিষ্ঠানের কোনটিও এআরসি সদস্য নয়, আর যারা এআরসি সদস্য নয় তাদের কারো পক্ষে দুয়েকদিনে ৮শ টিকিট ইস্যু করা অবান্তর দাবী। রিপা আহমেদ জানান, ‘গোঢাকাট্রাভেলডটকম‘ সরাসরি ১৯২টি এয়ারলাইন্সের স্টকহোল্ডার। আর তাই তাদের কাছ থেকে সরাসরি টিকিট কিনলে শতভাগ নিশ্চয়তা পান ক্রেতারা।

রিপা আহমেদ বলেন বাংলাদেশী কমিউনিটিতে ট্রাভেল ব্যবসা সম্পর্কে সাধারন মানুষের ধারনা তেমন একটা নেই। আর তাই তারা সহজেই প্রতারিত হন ভূঁইফোঁড় ট্রাভেল এজেন্সীতে গিয়ে সেবা নিতে। সাধারনত: একটি ট্রাভেল এজেন্সীকে আন্তর্জাতিক এয়ার ট্রান্সপোর্ট এসোসিয়েশন (ওহঃবৎহধঃরড়হধষ অরৎ ঞৎধহংঢ়ড়ৎঃ অংংড়পরধঃরড়হ) সদস্য হতে হয়। যারা এর সদস্য না তারা স্বীকৃত ট্রাভেল এজেন্সী না। তেমনি যারা নিজেদেরকে স্টকহোল্ডার বলে দাবী করে তাদেরকে অবশ্যই এআরসি (অরৎষরহবং জবঢ়ড়ৎঃরহম ঈড়ৎঢ়ড়ৎধঃরড়হ) সদস্য হতে হয়। এআরসির সদস্য ট্রাভেল এজেন্ট থেকে ক্রেডিট কার্ডে টিকিট কাটলে কোন ট্যাক্স দিতে হয় না ক্রেতাদের বললেন রিপা আহমেদ। রিপা আহমেদ আরো জানালেন যেসব ট্রাভেল এজেন্সী তাদের নিজেদের টার্মিনালে ক্রেডিট কার্ড চার্জ করে তারা যে ট্র্যাক্স নেয় তা তাদের প্রয়োজনে নেয়। এটা সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স নেয় না। এয়ারলাইন্সের টিকিট নগদ অর্থে ও ক্রেডিট কার্ডে একই মূল্য- এটা ক্রেতাদের জানায় না বেশীরভাগ ট্রাভেল এজেন্সী। এদিক দিয়ে ‘গোঢাকাট্রাভেলডটকম’ পুরোপুরি স্বয়ং সম্পূর্ণ। এরা এআরসি ও আইয়েটার সদস্য। এছাড়া আমেরিকার সবচেয়ে বড় চারটি এয়ারলাইন্স টিকিট স্টকহোল্ডার প্রতিষ্ঠান স্কাইলাইন, হ্যারিওয়ার্ল্ড, ট্রান্সজুম ও সিএনএইচ সাথে যুক্ত রয়েছে ‘গোঢাকাট্রাভেলডটকম’। ফলে শুধু বাংলাদেশ ভ্রমন নয়, আমেরিকার যেকোন শহর এবং বিশ্বের যেকোন দেশ ভ্রমনে ‘গোঢাকাট্রাভেলডটকম’র উপর নিশ্চিন্তে নির্ভর করতে পারেন যাত্রীরা।

রিপা আহমেদ বলেন, এআরসি ভুক্ত নয় এমন ট্রাভেল এজেন্সী থেকে ক্রেডিট কার্ডে টিকিট কাটা আর নগদ অর্থে টিকিট কাটা একই কথা। আর এআরসি সদস্য নয় এমন প্রতিষ্ঠান থেকে টিকিট কেনার সময় ৫ থেকে ১০ পার্সেন্ট যে ট্যাক্স নেয়া হয় তা দেবার প্রয়োজন হয় না যদি এআরসি সদস্যভুক্ত ট্রাভেল এজেন্সী থেকে টিকিট কাটেন ক্রেতারা। প্রকৃতপক্ষে এয়ার লাইন্সগুলো ক্যাশ ও ক্রেডিট সিস্টেমে একই দাম রাখে টিকিটের। আর তারাই যাত্রীর পক্ষে সরকারী ট্রাক্স দিয়ে থাকে। যেসব ট্রাভেল এজেন্সী ক্রেডিট কার্ডে ট্যাক্স কাটে তারা তাদের নিজস্ব মেশিনে কার্ড চার্জ করে বলেই এই ট্যাক্স নেয়।

‘গোঢাকাট্রাভেলডটকম’ থেকে টিকিট কিনে এই গ্রীষ্মে নিশ্চিন্তে জন্মভূমি বাংলাদেশ ভ্রমনের আমন্ত্রণ জানিয়ে ‘গোঢাকাট্রাভেলডটকম‘-এর সিনিয়র ম্যানেজার রিপা আহেমদ বলেন, কষ্টের অর্থে দেশ ভ্রমনের সময় তাড়াহুড়া করে ভূঁইফোর ট্রাভেল এজেন্সীনামধারী প্রতিষ্ঠান থেকে টিকিট কেটে অনিশ্চয়তার মধ্যে না থেকে সরাসরি টিকিট ইস্যু প্রতিষ্ঠান ‘গোঢাকাট্রাভেলডটকম‘র জ্যাকসন হাইটস অফিসে এসে টিকিট কিনে নিশ্চিত থাকুন।

বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের গ্রীষ্মের বিশেষ সেল চলছে ‘গোঢাকাট্রাভেলডটকম’-এ। এরমধ্যে জুলাই-আগস্টে কুয়েত এয়ারের ঢাকা-নিউইয়র্ক রিটার্ন টিকেট মাত্র ৬৬৫ ডলার, ইতিহাদে ৭৭০ ডলার, এমিরাত ৮০৪ ডলার, কাতার ৮০৮ ডলার এবং টার্কিশ এয়ারলাইনে ৬৯৫ ডলার। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ও নভেম্বরে আরও কম মূল্যে টিকিট পাওয়া যাবে ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে জানালেন রিপা আহমেদ।

‘গোঢাকাট্রাভেলডটকম’ বাঙ্গালীর প্রাণক্রেন্দ্র জ্যাকসন হাইটসে ক্রেতাদের সরাসরি সেবা দিতে পূর্ণাঙ্গ অফিস স্থাপন করেছে। এই অফিসে আপনাদের সেবায় রয়েছেন

ও সেলস রিপ্রেজেন্টিভ ফারহানা রহমান। ‘গোঢাকাট্রাভেলডটকম’র ঠিকানা ৩৭-৪৭, ৭৩ স্ট্রীট জ্যাকসন হাইটস )সুইট নম্বর ২০৬)। টেলিফোন নম্বর ৯১৭-৩৩৮-৬৬৭।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here