‘বাংলাদেশ সরকারকেই সংখ্যালঘূদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে’ বলেছেন কংগ্রেসওমেন তুলসী গ্যাবার্ড

ইউএস কংগ্রেসের প্রথম নির্বাচিত হিন্দু সদস্য কংগ্রেসওমেন তুলসি গ্যাবার্ডের্ সাথে নেতৃবৃন্দ

বর্ণমালা ডেস্ক: বাংলাদেশে হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুরা ক্রমাগত নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। সৈন্য পাঠিয়ে বা যুদ্ধ করে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। যে আদর্শের কারনে মৌলবাদী ওয়াহাবি-সালাফিরা বিশ্বব্যাপী এই জঘন্য সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে সেই আইডিওলজিকে আঘাত করতে হবে। প্রগতিশীল সকল শক্তির সমন্বয়ে এই অশুভ চক্রকে উৎখাত করতে হবে। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্ব সেদেশের সরকারের। সরকারকে মানবতার বিরুদ্ধশক্তির দমনে অবশ্যই তৎপর হতে হবে- এসব কথা বলেছেন ইউএস কংগ্রেসের প্রথম নির্বাচিত হিন্দু সদস্য কংগ্রেসওমেন তুলসি গ্যাবার্ড। গত ২৪ জুন শনিবার নিউইয়র্কে তার সম্মানে আয়োজিত এক সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন কংগ্রেসওমেন তুলসী গ্যাবাড। রিচমন্ডহীলের রিচি রীচ পার্টি হলে এই সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী ও ভারতীয় হিন্দুধর্মাবলম্বীরা উপস্থিত থেকে ইউএস কংগ্রেসে নির্বাচিত কংগ্রেসওমেনের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেন। আমেরিকান বাঙ্গালী হিন্দু ফাউন্ডেশন ও মহামায়া মন্দিরের প্রেসিডেন্ট শ্যামল চক্রবর্তীর শ্রীমদ্ভাগবত গীতার শ্লোক উচ্চারন ও প্রার্থনার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। এরপর নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি দেবরাজ নাথ এর নেতৃত্বে সকলে দাঁড়িয়ে বুকে হাত রেখে মার্কিন পতাকার প্রতি সম্মান স্বরূপ প্লেজ অফ এলিজেন্স বাক্যপাঠ করেন। সেই সাথে আমেরিকান বাঙ্গালী হিন্দু ফাউন্ডেশন ও মহামায়া মন্দিরের জেনারেল সেক্রেটারি প্রদীপ দাস বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর চলমান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হামলা ও তাদের জীবনের নানান দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেন। একই সাথে তিনি বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক নির্যাতনের বিরুদ্ধে কংগ্রেসওমেন তুলসী গ্যাবার্ড এর বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ও কংগ্রেসে এই বিষয়ে তার পূর্বাপর ভুমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা ও সাধুবাদ জানান। দীপা নাথ এবং আলপনা চক্রবর্তী কংগ্রেসওমেন এর গলায় মালা পড়িয়ে স্বাগতম জানান। এই সময় নিউ আমেরিকান ভোটার এসোসিয়েশন এর প্রেসিডেন্ট ও আমেরিকান বাঙ্গালী হিন্দু ফাউন্ডেশন ও মহামায়া মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ডের মেম্বার সেক্রেটারি দিলীপ নাথ মার্কিন কংগ্রেসের একমাত্র হিন্দু প্রতিনিধিকে সকলের মাঝে উপস্থাপন করেন এবং তার জীবন ও রাজনৈতিক উত্থানের উপর বিস্তারিত আলোকপাত করেন। এ পর্যায়ে উপস্থিত সকলে আগামী ২০২০ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসওমেন তুলসীকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ড্রাফ্ট তুলসী স্লোগান আর মুহুর্মুহু করতালি দিতে থাকেন।

সমবর্ধনার জবাবে কংগ্রেসওমেন তুলসী তার বক্তব্যের শুরুতেই গীতার কর্মযোগের অবতারনা করেন এবং বলেন একুশ বছর বয়সে যখন আমি স্টেট এসেম্বলিতে নির্বাচন করি তখন আমাকে অনেকেই বলতো তুমি জীবন উপভোগ করো, এখনই রাজনীতির বয়স তোমার হয়নি। কিন্তু আমি কর্মে বিশ্বাসী, দেশ ও জনগনের সেবা করাই আমার ধ্যান ও জ্ঞান। এরপর তিনি মার্কিন আভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন। এরপর তিনি দর্শকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহন করেন সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ এর প্রেসিডেন্ট প্রবীর রায় ও আরও কয়েকজন মূলধারার রাজনীতিবিদ। প্রবীর রায় বাংলাদেশের সংখ্যালগুদের অবস্থা তুলে ধরে কংগ্রেসওমেনকে আরও তৎপর হবার আহবান জানান।

কিংস কাউন্টি থেকে নির্বাচিত স্টেট সিনেটর রক্সেন পারসদ বলেন, ড্রাফ্ট তুলসী মুভমেন্টের সাথে এখনই সকলে যুক্ত হয়ে দেখিয়ে দিন দক্ষিন এশিয়ান আমেরিকান নাগরিকরাও এদেশকে নেতৃত্ব দিতে পারে। বিনোদন পর্বে, একক ও যৌথ নৃত্য পরিবেশন করেন প্রীতু সাহা, সূচনা ও সেঁজুতি দে, মেঘা দাস এবং রশ্মিকা চক্রবর্তী। তারপর উপস্থিত সকলকে নৈশভোজে আপ্যায়ন করা হয়। পরিবারবর্গ সহ বিশিষ্টজনদের মাঝে আরও উপস্থিত ছিলেন আমেরিকান বাঙ্গালী হিন্দু ফাউন্ডেশন ও মহামায়া মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য প্রনবেন্দু চক্রবর্তী ও তাপস দে, সুজিত সাহা, বাংলাদেশ পূজা সমিতির বিষ্ণু গোপ, এটর্নি অশোক কর্মকার, মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য কুমার রঞ্জন সাহা, সেনাবাহিনীর সদস্য জয় চক্রবর্তী, বেদান্ত এসোসিয়েশন অফ নিউ ইয়র্কের পীযূষ বর্ধন, রাধা-মাধব মন্দিরের রমেশ নাথ, আওয়ামী লীগ নেতা চন্দন দত্ত, কম্যুনিটি নেতা সুভাষ মজুমদার, এবং মূলধারার রাজনিতিবিদ, ইউনিয়ন নেতা, মোহাম্মদ হক, জর্নাল সিং ও বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি । পরিশেষে, ডঃ দিলীপ নাথ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানটির সার্বিক সমন্বয় ও তত্ত্বাবধানে ছিলেন দিলীপ নাথ এবং সহযোগিতায় ছিলেন রোকেয়া আক্তার। সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রদীপ দাস। – সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here