যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগ বহির্বিশ্বে সবচেয়ে শক্তিশালী কমিটি- ড. সিদ্দিক

ড. সিদ্দিকুর রহমান

বর্ণমালা নিউজ: যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নিয়ে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সব সময়েই কোন না কোন বিতর্ক লেগেই থাকে। আর এই বিতর্কের জন্ম হয় নানা গ্রুপের নিজেদেরকে ক্ষমতার বলয়ের সাথে সম্পৃক্ত করার প্রতিযোগতিা থেকে। এই প্রতিযোগিতায় থাকে কখনও আঞ্চলিকতা, কখনও নির্দিষ্ট নেতার পদোন্নতির প্রতিযোগিতা, আবার কখনও কোন অঙ্গ সংগঠনের বা স্টেট কমিটি গঠনে প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তারের লড়াই। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে ৭ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কান্ডারীর ভূমিকা পালন করে আসছেন সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। এই দীর্ঘ সময়ে দায়িত্ব পালনকালে উপদলীয় কোন্দলে কখনো আঞ্চলিকতার গ্রুপিং, কখনও কোন কোন অধস্তন নেতার ক্রোধ বা বিরোধিতা মোকাবিলা করে কাজ করে যাচ্ছেন সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ পরিবারে নানা মেরুকরণ ও তার বিরুদ্ধে কার্যকরী কমিটির কোন কোন সদস্যের ক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিয়ে কথা হয় সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের সাথে সাপ্তাহিক বর্ণমালা‘র।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নানা মেররুকরণ অর্থাৎ কখনও একটি গ্রুপের মূল কমিটির সাথে ঘনিষ্ঠতা এবং আরেকটি গ্রুপের বিচ্ছিন্নতা নিয়ে জানতে চাইলে ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এমনটি সব বড় রাজনৈতক দলেই হয়ে থাকে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগেও এমন ধারা রয়েছে। সেই ধারা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগেও প্রবাহিত হয়। কিন্তু ঘনিষ্ঠতা ও বিচ্ছিন্নতা দলের ঐক্যকে কোনভাবেই বিভক্তি হিসাবে চিহ্নিত করা যায় না। কারন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ঐক্যের প্রতীক হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় যিনি একাধারে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অভিভাবকও। তার নির্দেশনায় পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগে কোন বিভেদ নেই। আর অতীতে যে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছিলো তার অবসান হয়েছে চলতি বছরে জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভায় সকল বহিষ্কারাদেশ ও শোকজ প্রত্যাহার করে নিয়ে- জানালেন সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। বহিষ্কারাদেশ ও শোকজ প্রত্যাহারের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ শুধু শক্তিশালী হয়নি বহির্বিশ্বে সবচেয়ে শক্তিধর ও সক্রিয় কমিটি হিসাবে স্বীকৃত হচ্ছে কেন্দ্রের কাছে- একথা বলে সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আর তাই রমজান মাসে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর ইফতার অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার সাথে ৫ মিনিটেরও বেশী কথা বলেছেন। আবার দলের দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তি সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আমাকে ইফতারে আমন্ত্রন করেন। দলের দুই শীর্ষ নেতৃত্বের আমাকে এভাবে সম্মানিত করার মধ্যে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের প্রতি তাদের আস্থার বহির্প্রকাশ ঘটেছে।

ঢাকায় কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদকের সাথে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের আগামী আগস্টে বঙ্গবন্ধুর শাহাদত বার্ষিকী পালনের জাতীয় শোকদিবসের অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে বলে জানালেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি। এসময়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ অনুমোদিত সব স্টেট ও সিটি কমিটির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকদের নিয়ে একটি যৌথসভা আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানালেন ড. সিদ্দিকুর রহমান।

ড. সিদ্দিকুর রহমান জানান এবার অনেক আগেভাগেই প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘে সফরের সময়ে গণসমবর্ধনা আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রীর সফরের তারিখের সাথে সমন্বয় করে ২১ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারিত করা হয়েছে সমবর্ধনার জন্য। ম্যানহাটানের ম্যারিয়ট মার্ক্যুয়েজ ও হিলটন হোটেলে সমবর্ধনা আয়োজনের ইচ্ছা থাকলেও ২১ সেপ্টেম্বর এদুটি হোটেলের কোন বলরুম খালি পাওয়া যাচ্ছে বলে জানালেন সভাপতি সদ্দিকুর রহমান। ফলে এবার অন্য ভেন্যুতে প্রধানমন্ত্রীর গণসমর্বধনা অনুষ্ঠিত হতে পারে বললেন সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।

কার্যকরী কমিটির সদস্যদের মধ্যে ঐক্যের সুর নেই- এমন প্রশ্নের উত্তরে যুক্তরাষ্ট্র আওয়মী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমাদের ঐক্যের মূলসূত্র হচ্ছে আমরা সবাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী। আর যুক্তরাষ্ট্রে মুজিব আদর্শের সবাই নিবেদিতপ্রাণ আওয়ামী লীগার। তারা বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে সব রকম ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। তারপরও গত এপ্রিলে মুজিবনগর দিবস পালন অনুষ্ঠানে সংঘর্ষ এবং পরবর্তীতে ১৬ নেতার বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ জারীর বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কার্যকরী কমিটির সভায় কেউ কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বহিষ্কারের সুপারিশ করলেও তা অনুমোদন পায়নি। এছাড়া সেই অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য দায়ীরাও পরবর্তীতে তাদের কর্মকান্ডের জন্য অনুতপ্ত হয়েছেন বলেই জানি। দলের ঐক্যের স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেবার পক্ষে ছিলাম আমি। আর এখন তাই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগে কোন বিভক্তি নেই। সবাই এখন কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদকের আগস্টে নিউইয়র্ক সফর ও সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর গণসমর্বধনা সফল করতে কাজ করে যাচ্ছেন। আর যারা নিজেদেরকে দূরে সরিয়ে রাখবেন তাদের পক্ষে দলীয় প্রধান ও সাধারন সম্পাদকের অনুষ্ঠানে সম্পৃক্ত থাকার সুযোগ থাকবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here