যে কারণে বাংলাদেশে বারবার পাহাড়ধস

0
12

নিউজ ডেস্ক: আর্থ-সামাজিক, পরিবেশগত এবং রাজনৈতিক সমস্যার কারণেই পাহাড়ধস ঘটছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল এবং পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক স্বদিচ্ছার মাধ্যমেই এর সমাধান করতে হবে।

ড. শহীদুল ইসলাম পাহাড়ধসের কারণ নির্ণয়বিষয়ক সম্প্রতি গঠিত কারিগরি কমিটির একজন সদস্য এবং এর আগে ২০০৭ সালেও একইধরনের একটি কমিটির হয়ে তিনি এনিয়ে গবেষণা করেছিলেন। তিনি বিবিসি বাংলার সাথে এক সাক্ষাৎকারে পাহাড়ধসের কারণ হিসেবে তিনটি বিষয় উল্লেখ করেন। তার মতে, যে তিনটি কারণ পাহাড়ধস হয় সেগুলো হলো

১. বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়গুলো বালুময় পাহাড় এবং এসব পাহাড়ের ভেতরে অনেক ফাটল থাকায় অতিবৃষ্টির ফলে প্রাকৃতিকভাবেই ‘পাহাড়ের ফাটলে পানি ঢুকে ধস হতে পারে’।

২. দ্বিতীয় কারণটি মানবসৃষ্ট, অবৈধভাবে প্রচুর পরিমাণ পাহাড় কাটার ফলে পাহাড়ধস হচ্ছে এবং পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী অনেকে মারা যাচ্ছেন।

৩. পাহাড়ের বনে গাছ কেটে বন উজাড় করার কারণে এবং পাহাড়ের প্রচলিত কৃষি ব্যবস্থা জুম চাষের পরিবর্তে লাঙ্গল-কোদালের চাষ করার ফলে ধস বাড়ছে।

সর্বশেষ শুক্রবার চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডে পাহাড়ধসে পড়ে তিন শিশুসহ পাঁচজন নিহত হন। টানা বর্ষণের ফলে বেশ দুর্গম একটি এলাকায় পাহাড় কেটে বানানো কয়েকটি টিনের তৈরি ঘরের ওপর মাটি ধসে পড়ে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

তবে যেসব জায়গায় বসতি নেই সেখানেও পাহাড় ধস হচ্ছে।  তিনি বলেন, গত ১৩ জুন আমরা দেখলাম যেসব জায়গায় লোকবসতি নেই সেখানেও ভূমিধস হচ্ছে। যদিও সেসব জায়গায় কেউ মারা যায়নি।

কিন্তু পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো থেকে মানুষকে সরানো যায় না কেন? এ বিষয়ে অধ্যাপক ইসলামের মতে, এর পুরো কারণটিই আর্থ-সামাজিক।

ছিন্নমূল এসব মানুষদের কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকায় তারা কম খরচে এসব ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাতেই বসবাস করছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্থানীয় এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে এ ঘরগুলো তৈরি করেন।  যেহেতু এটার সাথে একটি গভীর আর্থ-সামাজিক এবং রাজনৈতিক প্রসেস জড়িত, সে জন্য চাইলেও তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না, বলেন অধ্যাপক ইসলাম।

পার্বত্য জেলাগুলো, চট্টগ্রাম জেলা, এমনকি শহরেও পাহাড় ঘেঁষে তৈরি করা অনেক বসতি রয়েছে ঝুঁকিতে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান বলছেন, তারা ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদের কাজ শুরু করেছেন এবং তারা জরিপ চালিয়ে দেখেছেন এসব বসতির অধিকাংশই অবৈধ।

ঝুঁকির কারণে অনেকে সাময়িকভাবে এসব জায়গা থেকে সরে গেলেও ফিরে এসে আবার সেখানেই বসতি করেন। আর এ কারণে পাহাড়ে মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না।
সূত্র : বিবিসি বাংলা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here