‘ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন এ্যাওয়ার্ড’ পেলেন সায়মা ওয়াজেদ

সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের পক্ষে এওয়ার্ড গ্রহণ করছেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

এনা, নিউইয়র্ক থেকে: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক এ্যাডভাইজারি প্যানেলের বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশের অটিজম বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিদের কল্যাণে নিরবচ্ছিন্ন ও উদ্ভাবনীমূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ গত ২৫ জুলাই ‘ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন এ্যাওয়ার্ড’এ ভূষিত হলেন।

প্রিন্সটন ক্লাব অব নিউইয়র্কে আয়োজিত সিমা কলাইনু নামে নিউইয়র্কভিত্তিক একটি শিশু অটিজম কেন্দ্র, স্কুল এবং এর আন্তর্জাতিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘আই কেয়ার ফর অটিজম’র বার্ষিক প্রাত:রাশ অনুষ্ঠানে এ এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের পক্ষে এ্যাওয়ার্ডটি গ্রহণ করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

উল্লেখ্য, সিমা কলাইনু নিউইয়র্কের প্রথম শিশু অটিজম কেন্দ্র ও স্কুল যা ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে নিউইয়র্কের ৫টি বোরোর সকল সম্প্রদায়ের অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত সহ¯্রাধিক শিশুকে তাদের অটিজম সেন্টার, স্কুল ও হোম সার্ভিসের সেবা দিয়ে আসছে।

এ্যাওয়ার্ড গ্রহণকালে রাষ্ট্রদূত মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে অটিজম ও অন্যান্য নিউরো-ডেভোলাপমেন্টাল ডিজঅর্ডার আক্রান্ত মানুষের অধিকার রক্ষা ও কল্যাণে কাঙ্খিত সফলতা অর্জন করে চলেছে। তিনি আরো বলেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সায়মা ওয়াজেদ হোসেনকে অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার এর ক্ষেত্রে ‘গ্লোবাল রিনাউন্ড চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া গতমাসে সংস্থাটির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক কার্যালয় এ অঞ্চলের ১১টি দেশের জন্য সায়মা ওয়াজেদ হোসেনকে অটিজম বিষয়ক ‘শুভেচ্ছা দূত’ হিসেবে নিয়োগ দেয়।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের এপ্রিলে ভূটানে অনুষ্ঠিত অটিজম বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অটিজম ও অন্যান্য নিউরো ডেভোলপমেন্ট ডিজঅর্ডারের জন্য ‘থিম্পু ডিক্লারেশন’ গ্রহণে মিস সায়মার অবদান অনস্বীকার্য। বাংলাদেশে অটিজম বিষয়টি সামনের সারিতে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক কার্যালয় ২০১৪ সালে মিস সায়মাকে “এক্সিলেন্স ইন পাবলিক হেলথ্্ অ্যাওয়ার্ডে” ভূষিত করে। ‘ঢাকা ঘোষণা’ এবং সাউথ এশিয়ান অটিজম নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠায় তাঁর প্রচেষ্টা অটিজমকে এ অঞ্চল এবং অঞ্চলের বাইরে সামনের সারিতে এনে দিয়েছে।

এই এ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত মোমেন সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা পাঠ করেন। বার্তাটিতে মিস সায়মা বলেন, “অটিজম সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সিমা কলাইনু’র এই স্বীকৃতির জন্য আমি সম্মানিত বোধ করছি। অটিজম সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সিমা কলাইনু’র মতই বাংলাদেশ ও এশিয়া অঞ্চলে এ সংক্রান্ত পেশার মানুষের জন্য পরিকল্পিত এবং ব্যাপকভিত্তিক প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টিতে আমি কাজ করছি। অটিজম কোন ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও আর্থ-সামাজিক সীমারেখার মধ্যে আবদ্ধ নয়, এ কারণেই এর জন্য বিশেষ ধরনের সেবা ও কর্মসূচির প্রয়োজন রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একজন শুভেচ্ছা দূত হিসেবে অটিজম নেটওয়ার্ক নিয়ে আমি সকলের সাথে কাজ করতে চাই।
স্থায়ী প্রতিনিধি আরো বলেন, ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর গৃহীত “অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার ও অন্যান্য নিউরো ডেভোলাপমেন্ট ডিজঅ্যাবিলিটি নিয়ে বসবাসকারী ব্যক্তি তাদের পরিবার ও সমাজের আর্থ-সামাজিক চাহিদা সম্বলিত জাতিসংঘের রেজুলেশন ৬৭/৮২ গ্রহণে বাংলাদেশ নেতৃস্থানীয় ভূমিকা রেখেছিল।

রাষ্ট্রদূত দাবি করেন, অটিজম বিষয়ক জাতীয় সচেতনতা সৃষ্টি, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও অটিজমের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে তার জন্য বাংলাদেশ গর্ব করতে পারে। তিনি আরও বলেন, “অটিজম বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টির সাথে সাথে যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা যুক্ত হয় তাহলে তা অটিজম এবং এ সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষের জীবনে বৈচিত্র নিয়ে আসতে পারে”।

এ প্রাত:রাশ অনুষ্ঠানে সায়মা ওয়াজেদ হোসেনসহ নিউইয়র্ক সিটির কাউন্সিল মেম্বার ব্রাডল্যান্ডার, কাউন্সিল মেম্বার মার্ক লেভিনি, নিউইয়র্ক সিটির কাউন্সিলের স্পিকার মেলিচ্ছা মার্ক-ভিভারিতো’র কমিউনিটি লিয়াজো কার্যালয়ের কর্মী মিজ জেনি বার্গার ও কলবি হেয়ার্ড নামে নয় বছর বয়সের একটি অটিস্টিক বালককেও এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, কলবি হেয়ার্ড নামের এই বালক পূর্ণবয়স্ক কোন মানুষের সাড়া দেওয়ার আগেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফ্লোরিডার একটি পুকুরে সাতরানোর সময় ডুবে যাওয়া একটি শিশুর প্রাণ রক্ষা করেছিল।
উল্লেখ্য, নিউইয়র্কের এই শিশু অটিজম কেন্দ্র ও স্কুল সম্মানিত সকল অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের অটিষ্টিক শিশুদের আঁকা চিত্রকর্ম এ্যাওয়ার্ড হিসেবে প্রদান করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here