কানেকটিকাটে বাংলাদেশী ট্যাক্সীচালক হত্যাকারীর ৬০ বছর কারাদণ্ড

বাংলা প্রেস, কানেকটিকাট থেকে : যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যে স্ট্যামফোর্ডে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে বাংলাদেশি ট্যাক্সিচালক মোহাম্মদ কামাল হত্যার দায়ে শোটা মেকোসভিলি নামে এক মার্কিন যুবককে ৬০ বছর কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার কানেকটিকাটের স্ট্যামফোর্ড সুপরিয়র কোর্টের বিজ্ঞ বিচারক জন ব্লাউয়ি এ রায় প্রদান করেন। সর্বোচ্চ শাস্তিপ্রাপ্ত শোটা মেকোসভিলি (৩২) জর্জিয়ার অভিবাসী। রায় ঘোষনার আগে ঘাতকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আদালতের সামনে স্থানীয় স্ট্যামফোর্ডের প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা বাংলা প্রেস।
২০১৪ সালের ২৭ আগষ্ট বুধবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে বাংলাদেশি ট্যাক্সি চালক মোহাম্মদ কামাল(৪৭) কে হত্যার পর রাস্তার পাশে লাশ ফেলে পালিয়ে যায় ঘাতক শোটা মেকোসভিলি। ডোলিট রোডের পাশে কর্মরত শ্রমিকরা প্রথমে কামালের লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। একই দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্ট্যামফোর্ড পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কামালের মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। নিহত কামালের দেহে ১১৭টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল পুলিশ উল্লেখ করেছে।  ছুরিকাঘাতের আগে নিহত কামালের সঙ্গে ঘাতকের দীর্ঘ সময় ধস্তাধস্তি হয়েছে। নিজের জীবন বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন কামাল। ঘাতক শোটা তার টাক্সির যাত্রী ছিলেন। নিহত কামালের স্ত্রী রাজিয়া শালিয়া বুধবার সকাল ৭টার দিকে রাতে তার স্বামী ঘরে না ফেরার বিষয়টি স্ট্যামফোর্ড পুলিশকে জানান। ঘটনার ১৩ ঘণ্টা পর পুলিশ খুনি শোটা মেকোসভিলি(২৯) কে গ্রেপ্তার করেন। ওইদিন তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে খুনের সাথে জড়িত থাকার কিছু আলামত উদ্ধার করে। তার কাছ থেকে রক্তমাখা ডলার উদ্ধারের পর কামাল হত্যার সাথে তার জড়িত থাকার ব্যাপারে পুলিশ নিশ্চিত হন। পরদিন তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। শোটা মেকোসভিলি আদালতে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন। স্ট্যামফোর্ড সুপরিয়র কোর্টের বিজ্ঞ বিচারক তার বিরুদ্ধে এক মিলিয়ন ডলারের জামিন নামা ধার্য করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। দু’দিন পর শুক্রবার আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষুব্ধ প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে বিজ্ঞ বিচারক খুনি শোটা মেকোসভিলির জামিন নামায় আরও ২ লক্ষ ডলার বাড়িয়ে দেন।
গত ২৫ জুলাই মঙ্গলবার বাংলাদেশি ট্যাক্সিচালক মোহাম্মদ কামাল হত্যার রায় ঘোষনার পর তার স্ত্রী রাজিয়া শালিয়া তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, নিহত কামালের খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি ৬০ বছর কারাদণ্ড প্রদান করায় তিনি খুশি হয়েছেন। এর ফলে কামালের আত্মা শান্তি পাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। রায় প্রদানের সময় কামাল দম্পতির একমাত্র ছেলে শাফায়েত (৭) আদালতে সামনের সারিতে বসে ছিলেন।
মামলার রায় প্রদানের পর বিজ্ঞ বিচারক জন ব্লাউয়ি বলেন, খুনি শোটা মেকোসভিলির সর্বোচ্চ শাস্তি ৬০ বছরের কারাদন্ড নিহত কামালের পরিবারের জন্য যথেষ্ট নয়। যে একজন নিরীহ মানুষকে ১২৭ বার ছুরিকাঘাতে খুন করতে পারেন তার জন্য এ শাস্তি একেবারেই নগণ্য।
সিনিয়র অ্যাসিষ্ট্যান্ট ষ্টেট এটর্নি জেমস বার্নার্ডির পক্ষে নিহত কামালের মামলা পরিচালনা করেন সুজান ক্যাম্পবেল। তিনি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এ ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। খুনি শোটা মেকোসভিলি নির্মমভাবে আঘাতের পর আঘাত করে তাকে হত্যা করেছে। কামালের দেহে ১২৭ টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এটা একটি বিরল ঘটনা। ঐদিন রাতে নিহত কামালের স্ত্রী সারারাত তার স্বামীর অপেক্ষায় ছিলেন কিন্তু স্বামীর আর ঘরে ফেরেনি।
ঘাতক শোটা মেকোসভিলি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন নর্ম প্যাটিস। এ মামলা প্রসঙ্গে তিনি কোন মন্তব্য করেতে রাজি হননি।
অপর দিকে মামলার রায় ঘোষনার আগে ঘাতকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আদালতের সামনে স্থানীয় স্ট্যামফোর্ডের শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। সমাবেশে থেকে কামালের খুনি শোটা মেকোসভিলির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান হয়। স্থানীয় বখতিয়ার সুন্নি সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকা্র আয়োজনে বিক্ষোভকারী সবার হাতে ছিল নানা লেখাযুক্ত প্লাকার্ড ও ফেস্টুন।
নিহত কামাল ১৯৯২ সালে ডিভি লটারি পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে কানেকটিকাটের স্ট্যামফোর্ড শহরে বসবাস করছেন। তাঁর স্ত্রী ও ৪ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। তাঁর দেশের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা থানার চিপাতলী বখতিয়ারপাড়ায় বলে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here