বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রতিবাদ করায় ৭৫ সালে গ্রেফতার হয়েছিলাম : ডঃ সিদ্দিকুর রহমান

ড. সিদ্দিকুর রহমান, সভাপতি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ

ওমর আলী (এনআরবি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ সভাপতি ডঃ সিদ্দিকুর রহমান বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রতিবাদ করায় ১৯৭৫ সালে সামরিক বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। দেওয়ানগঞ্জে আর্মি হেড কোয়ার্টারে দিনভর আটকে রেখে তাকেসহ তার সহকর্মী দের নির্যাতন করা হয়েছিল।

ডঃ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘তখন আমি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) শিক্ষকতা ও গবেষণার পাশাপাশি টিচার্স কাউন্সিলের সাধারন সম্পাদক ছিলাম (তখন শিক্ষক সমিতি ছিলনা)। সেদিন ছিল শুক্রবার। সকালের দিকে রেডিও মারফতে ক্যাম্পাসে এই দুঃসংবাদ পাই। বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। মুহুর্তেই ক্যাম্পাস থমথমে হয়ে পড়ে। একজন মুজিব সৈনিক হিসেবে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ জানানোর উদ্যোগ নেই। ওইদিনই বিকেলে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং কয়েকশ ছাত্র আমার আহবানে সাড়া দেয়। তাদের নিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করি। মিছিল শেষে সমাবেশ করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে, এ খবর চলে যায় তৎকালীন সামরিক প্রশাসনের কাছে। আর্মি এসে আমাকে তুলে নিয়ে যায়। তারপর একে একে আমার সহকর্মী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এ কে এম সাইদুল হক চৌধুরী, প্রয়াত অধ্যাপক শরফুদ্দীন আজাদ, ঢাকা ওয়াসার সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রহমত উল্লাহ, বাকৃবির রেজিষ্টার নজিবুর রহমান এবং বাকৃবির তৎকালীন ভিপি মোহাম্মাদ আলীকে ধরে নিয়ে যায়। আমাদেরকে আটকে রাখে দেওয়ানগঞ্জ আর্মি হেড কোয়ার্টারে। সারাক্ষণ অজানা আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম। জিজ্ঞাসাবাদের নামে দফায় দফায় অকথ্য নির্যাতন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিনা অপরাধে ধরে নিয়ে আর্মি ক্যাম্পে নির্যাতনের ঘটনা কোনো স্বাধীন দেশে ওইসময় ছিল নজরিবিহীন। এক পর্যায়ে ক্যাম্পাসে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে ছাত্র বিক্ষোভের আশঙ্কায় আমাদের ছেড়ে দেয়া হয়।’

ডঃ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, তারপর ওপরের মহলের নির্দেশে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে বাদ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে প্রশাসন। অগত্যা বাধ্য হয়ে বিদেশে পাড়ি জমাই। এরপর একে একে কেটে গেছে ৪২ বছর। আগষ্ট মাস এলেই সেদিনের কথা মনে পড়ে। আমরা বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে পারিনি। দেশ স্বাধীন হবার পর নিজভূমে জাতির পিতাকে এভাবে জীবন বিসর্জন দিতে হবে কেউ কখনো কল্পনাও করতে পারেনি।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে তিন যুগ ধরে শিক্ষকতার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছি। নিউইয়র্কে ১৫ আগষ্টে দোয়া মাহফিলের উদ্যোগ সর্বপ্রথম আমি গ্রহণ করি। জামাইকা মসজিদে এরশাদের আমল থেকেই প্রতি বছর মিলাদ মাহফিল আয়োজন করেছি। তারপর খালেদা জিয়ার আমলেও মিলাদ করেছি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের উদ্যোগে প্রতিটি ষ্টেটে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল করা হয়। আগষ্টের প্রথম প্রহরে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী শোক পালন করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here