নিউইয়র্কে বাংলাদেশী পুলিশ অফিসারের আত্মহত্যা

ইউএনএ (নিউইয়র্ক) : গৃহবধু শিকার নাদিয়া আফরোজ সুমির দু:খজনক আত্মহত্যার শোকের রেশ না কাটতেই নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের বাংলাদেশী তরুণ অফিসার মোহাম্মদ হেমায়েত উদ্দীন সরকার (২৬) আত্মহত্যার ঘটনায় কমিউনিটি হতবিহ্বল। পারিবারিক অশান্তির জের হিসেবে হেমায়েত আত্মহনণের পথ বেছে নেন বলে অভিযোগ করেছেন তার নিকট আত্মীয়রা। গত ১৩ আগষ্ট রবিবার দুপুরে নিজ ঘরে নিজের উপর গুলি চালান তিনি। এতে ঘটনাস্থালেই তার মৃত্যু ঘঠে। পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।

হেমায়েত উদ্দীন সরকার (৩২) স্ত্রী ও তিন বছরের একমাত্র শিশু সন্তানকে রেখে গেছেন। তাদের দেশের বাড়ী সিরাজগঞ্জ। হেমায়েত উদ্দীন সরকার এনওয়াইপিডি’র ট্রাফিক পুলিশের সদস্য হিসেবে প্রথমে কাজ শুরু করেন। পরে অফিসার হিসেবে এনওয়াইপিডিতে যোগদান করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন থেকে হেমায়েত উদ্দীনের স্ত্রীর সাথে বিভিন্ন বিষয়ে মনোমালিন্য ছিল। হেমায়েত উদ্দীনের পরিবারের ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, গত রবিবার তিনি ঘরেই ছিলেন। এর আগে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে নিজ বাসার বেসমে

মোহাম্মদ হেমায়েত উদ্দীন সরকার

ন্টে তিনি নিজেই নিজেকে গুলি করেন। গুলির শব্দে স্ত্রী সহ অনেকেই ভীত হয়ে পড়েন। বেইসমেন্টে গেলে দেখা যায় ভেতর থেকে দরজা লক। এই অবস্থায় পুলিশ ডাকা হলে তারা দরজা ভেঙ্গে ভেতরে গিয়ে তার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে।

হেমায়েত হোসেন সরকার মাত্র কয়েক মাস আগে বাড়ীটি কিনেছিলেন। এর আগে এনওয়াইপিডি’র ভর্তি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে তিনি অফিসার হিসেবে পুলিশে যোগদেন। ২০০২ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। এনওয়াইপিডি’র অফিসার হিসেবে ব্রুকলীনের হাউজিং-২ শাখায় তিনি কর্মরত ছিলেন। ১৫ আগষ্ট মঙ্গলবার নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল কবর স্থানে (বাংলাদেশ সোসাইটির নিজস্ব কবরস্থান) তাকে দাফন করা হয়।

পুলিশ অফিসার হেমায়ত সরকার বাংলাদেশ সোসাইটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার ফার্মাসিস্ট সৈয়দ টিপু সুলতানের ভাগ্নি জামাই এবং বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক কার্যকরী সদস্য খোরশেদ আলমের শ্যালক।
এদিকে এই ঘটনার পর পরই কমিউনিটিতে নেমে আসে শোকের ছায়া। তার আত্মহত্যার খবর পেয়ে নিহত পুলিশ অফিসার হেমায়েত হোসেনের বাড়ীতে ছুটে যান অনেকেই। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি এম এ আজিজ, সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার, সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক খায়ের, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী এবং কার্যকরী সদস্য আজাদ বাকিরসহ বাংলাদেশী কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ।

হেমায়েতের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত
তরুণ অফিসার মোহাম্মদ হেমায়েত উদ্দীন সরকার (২৬) নামাজে জানাজা ১৪ আগষ্ট সোমবার বাদ মাগরিব জ্যামাইকা মুসিলিম সেন্টার (জেএমসি)-এ অনুষ্ঠিত হয়। ১৫ আগষ্ট মঙ্গলবার নিউইয়র্কের লং আইল্যন্ডের ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল কবরস্থানে বাংলাদেশ সোসাইটির মুসলিম কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
বাদ মাগরিব অনুষ্ঠিত নামাজে জানাজায় ইমামতি করেন জেএমসি’র পেশ ইমাম ও খতিব আলহাজ মওালানা মির্জা আবু জাফর বেগ। জানাজা নামাজের আগে জেএসি পরিচালনা কমিটির সভাপতি খাজা মিজান হাসান, সেক্রেটারী মনজুর আহমেদ চৌধুরী, এনওয়াইপিডি’র বাংলাদেশী পুলিশ অফিসার এসোসিয়েশনের সভাপতি শামসুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ান কবীর, এনওয়াইপিডি’র ইমাম এবং নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল শামীম আহসানের পক্ষে তার প্রতনিধি আসিফ আহমেদ উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
এদিকে পুলিশ অফিসার হেমায়েত উদ্দীন সরকারের নামাজে জানাজা উপলক্ষ্যে সিটির পুলিশ বিভাগ জেএমসি এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া সহ অফিসিয়ালি গার্ড অব অনার্ড প্রদান করে। এসময় পুলিশ বিভাগের কমান্ডার ও পদস্থ কর্মকর্তাসহ এনওয়াইপিডি’র বিপুল সংখ্যক অফিসার জেএমসি সংলগ্ন ১৬৮ স্ট্রীটে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে অবস্থান নেয়। এছাড়াও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও এনওয়াইপিডি-তে কর্মরত বাংলাদেশী-আমেরিকান অফিসারগণ সহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী জানাজায় অংশ নেন।
জানাজা নামাজ শেষে এনওয়াইপিডি’র পক্ষ থেকে গার্ড প্রদান করে হেমায়েত উদ্দীন সরকারের মরদেহ বহনকারী কফিন গাড়ীতে তুলে দেয়া হয়। এসময় মরহুমের পরিবারের সদস্যরা কফিনের সামনে ছিলেন এবং সেসময় হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। কেউ কেউ কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here