নিউইয়র্কে মসজিদের জাকাতের অর্থ যায় কোথায়?

বর্ণমালা নিউজ: ঈদের জামাতের আগে জাকাত আদায় করা অবশ্য করণীয়- আর তাই ঈদের নামাজে যোগদানকারী হাজার মানুষ ঈদ জামাত আয়োজনকারী মসজিদের দানবাক্সে তাদের জাকাতের অর্থ পরিশোধ করেন। ফেতরাও দেন জামাতে যোগদানকারীরা। কিন্তু তাদের কেউ জানেন না যে তাদের দেয়া জাকাত ও ফেতরার অর্থ কোথায় যায় ও কিভাবে তা ব্যয় হয়?

নিউইয়র্কে বাংলাদেশীদের পরিচালনায় প্রায় শতাধিক মসজিদ রয়েছে। দুটি ঈদে ধর্মপ্রাণ বাংলাদেশীরা ধার্যকৃত ফেতরা ও হিসাবানুযায়ী জাকাতের অর্থ তুলে দেন মসজিদের পক্ষ থেকে তা সংগ্রহের জন্য নিয়োজিত ব্যক্তিদের হাতের বাক্সে। এসব মসজিদে ঈদ জামাতে ফেতরা-জাকাতের সংগৃহিত অর্থের পরিমান কোথাও ২ হাজার ডলার থেকে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত হয়। কিন্তু এই অর্থ মসজিদের আয়ের হিসাবে কখনও দেখানো হয় না। তাহলে তা কোথায় যায় এবং কিভাবে তা বন্টন বা ব্যয় করা হয়? এর কোন ব্যাখ্যা মসজিদগুলো দেয় না।

বিপুল ফেতরা-জাকাতের অর্থ কোথায় যায় ও কিভাবে তা ব্যয় হয়- এ সম্পর্কে জানতে চাইলে কোন সদুত্তর পান না সাধারন মুসল্লিরা। বর্ণমালা‘র অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে এই অর্থ কিভাবে মসজিদগুলোর এক শ্রেণীর প্রভাবশালী র্ককর্তাদের নিজের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেবার কাহিনী।

জ্যাকসন হাইটসের রুজভেল্ট এভিন্যুর বাংলাদেশী মসজিদের এক সাবেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানিয়েছেন যে ঈদের জামাতে সংগৃহিত ফেতরা-জাকাতের অর্থ মসজিদ কমিটির হোমড়া-চোমড়া কয়েক কর্তাব্যক্তি নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন তাদের দেশের বাড়ির মসজিদ-মাদ্রাসায় দেবার কথা বলে। কিন্তু সেই অর্থ তারা তাদের এলাকার মসজিদ বা মাদ্রাসায় দান করেছেন এমন কোন প্রমাণ বা রশিদ দেখান না কখনও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এক সময়ে বাংলাদেশীদের সবচেয়ে বড় মসজিদ জ্যামাইকা বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টারেও একইভাবে ফেতরা-জাকাতের অর্থ ভাগ করে নিতেন প্রভাবশালী কর্মকর্তারা। এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া ফ্যাঁসাদ হয়েছে অনেক। পরবর্তীতে মসজিদ কমিটি এই নিয়ম পরিহার করে যেকোন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে সেই অর্থ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়।

জ্যামাইকার আরেকটি মসজিদ ‘দারুস সালাম’- এই মসজিদের জাকাত-ফেতরার অর্থ মসজিদটিকে নিয়ন্ত্রণকারী একটি বৃহৎ পরিবার তাদের ইচ্ছামত ব্যবহার করে।
অন্যদিকে ক্রমান্বয়ে বেশীর ভাগ বাংলাদেশী মসজিদগুলোর নিয়ন্ত্রণ দখল করে নিচ্ছে জামাত-শিবিরপন্থী ব্যক্তিরা। তাদেরকে এই কাজে সাহায্য করছে মুসলিম উম্মাহ নামে সংগঠনটি। গত বছর মুসলিম উম্মাহর সহায়তায় একটি গ্রুপ ব্রঙ্কসের একটি মসজিদ দখল করতে ব্যর্থ হয়। কিন্তু নিরবে এই প্রক্রিয়া চালিয়ে হামাত-শিবিরপন্থীরা ব্রুকলীনের প্রায় সব বাংরাদেশী মসজিদ তাদের নিয়েন্ত্রণে নিয়ে গেছে। ম্যানহাটান ও কুইন্সেও তারা এ কাজে বেশ সফল।

নিউইয়র্কে এখন সিংহভাগ বাংলাদেশী মসজিদ জামাতপন্থীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় জাকাত-ফেতরার সিংহভাগ অর্থই তারা সংগ্রহ করে নিজেদের সাংগঠনিক কর্মসূচীতে ব্যয় করছে। আবার কিছু পরিমাণ অর্থ তারা দেশেও পাঠাচ্ছে তাদের মূল সংগঠনের তহবিলে।

অভিজ্ঞমহল বলছেন প্রতিবছর শতাধিক মসজিদে ৫শ হাজার ডলারেরও বেশী অর্থ সংগৃহিত হয় ফেতরা-জাকাতের মাধ্যমে। এই অর্থ যদি কেন্দ্রীয়ভাবে সংগ্রহ করে একটি তহবিলে রাখা যেতো তাহলে তা দিয়ে কমিউনিটির উন্নয়নে ব্যয় করা যেতো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here