নাফিস আল-কায়দা, পারভেজ আইএসের অনুসারী নিউ ইয়র্কে আইএসে সম্পৃক্ততায় ফের বাংলাদেশি শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

0
201

নিউ ইয়র্কে প্রতিনিধি: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে জঙ্গি সন্দেহে আবারও এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে এফবিআই। পারভেজ আহমেদকে (২২) নামের এ যুবক সম্প্রতি ইসলামি জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এ যোগদান করবে বলে নিজেই ঘোষণা দেন। চার বছর আগে আল-কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনের অনুসারী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ভবন উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিস।

গত জুন মাসে আইএসে যোগদানের উদ্দেশে সিরিয়ায় যাবার পথে সৌদি আরব থেকে পারভেজকে গ্রেপ্তার করে সৌদি পুলিশ। এফবিআই পারভেজকে ফেরত চাইলে গত ২৮ আগস্ট জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পারভেজকে গ্রেপ্তার করে। পর দিন ২৯ আগস্ট তাকে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনের ফেডারেল কোর্টে সোপর্দ করা হয় বলে জানা গেছে।

সৌদি আরবে গ্রেপ্তার হওয়ার পর নিউ ইয়র্ক সিটির ওজোন পার্কে পারভেজের বাড়িতে অনুসন্ধান চালায় এফবিআই। গত ১৭ জুলাই পারভেজের কম্পিউটারসহ যাবতীয় কাগজপত্র অনুসন্ধান করে এফবিআই নিশ্চিত হয় যে পারভেজ আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় যেতে চেয়েছিলেন।

এফবিআই-এর একটি সূত্রে জানা যায়, পারভেজের ফোনে আইএসের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার ছবি ছাড়াও আনোয়ার আল আওয়াকি, আব্দুল্লাহ ইল ফয়সালসহ পাঁচজনকে ঝুলিয়ে হত্যার ছবিও দেখা গেছে। সমকামীদের এভাবেই ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা উচিত বলেও পারভেজ লিখে রেখেছে। ৯/১১ এ নিউ ইয়র্কে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সন্ত্রাসী হামলাকে যথার্থ বলেও অভিহিত করেছে পারভেজ।

ফোনে আইএসের লিডার আবু বকর আল-বাগদাদীর ছবিও পাওয়া গেছে।

পারভেজ আরো লিখেছে, আমরা শিগগিরই জিহাদে অংশ নিচ্ছি এবং এরপরই আমরা শহীদ হবো। তদন্তের সময় এফবিআই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পারভেজের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কে সম্পৃক্ত হবার ইচ্ছের তথ্য জানতে পেরেছে। তিনি আমেরিকানদের ইসলামের শক্র হিসেবে মন্তব্য করে এদেরকে শেষ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে বিভিন্ন স্থানে।

২০১৪ সালের অক্টোবরে পারভেজ একটি পোস্টে লিখেছে, কারা জিহাদি? অধিকাংশ মানুষের ইচ্ছা অনুযায়ী নিজের ভূমিতে যেসব মুসলমান শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার জন্য আত্মত্যাগ করেন, তারাই জিহাদি। সত্যিকারের সন্ত্রাসী হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

এফবিআইসহ বিভিন্ন সংস্থার তদন্তের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ থেকে জানুয়ারিতে নিউ ইয়র্কে ফেরার সময়েই জেএফকে এয়ারপোর্টে এফবিআই পারভেজের মুখোমুখি হয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওইসব পোস্টের ব্যাপারে পারভেজ তাদের বলেছিলেন যে, তিনি যখন গাঁজা-আফিমে বেশি আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন, সে সময়েই ওই ধরনের মতামত প্রকাশ পেয়েছে। তা সত্যি কিছু ছিল না।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকালে পারভেজকে ব্রুকলিনে ফেডারেল কোর্টের জজ জেমস ওরেনস্টাইনের এজলাসে সোপর্দ করার হয়। তাকে জামিনহীন আটকাদেশ গিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পারভেজ তার মা-বাবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন। নিউ ইয়র্কের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্টাইভেসান্ট হাইস্কুলে অধ্যয়ন শেষে হান্টার কলেজে ভর্তি হন তিনি। মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও কলেজে হঠাৎ করেই পারভেজ অনিয়মিত ছাত্রে পরিণত হন।

অপরদিকে ২০১২ সালের ১৭ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ভবন উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিস। গ্রেপ্তারের পর সে আদালতে দোষ স্বীকার করে নিয়েছেন। নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট ফেডারেল কোর্টে নাফিস স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

বিবৃতিতে নাফিস বলেছিলেন, ‘আমি ঘোরের মধ্যে ছিলাম। এখন তা কেটে গেছে। আমি অনুতপ্ত। ‘ নাফিস এও বলেন যে শিক্ষা ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগেই তিনি আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের অনুসারী হন এবং সন্ত্রাসী হামলার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এখন তিনি বুঝতে পেরেছেন যে জিহাদের নামে মানুষ হত্যা করা উচিত নয়। যদিও ঢাকায় নাফিসের পরিবার দাবি করে আসছিলেন, নাফিস ‘বর্ণবাদী ষড়যন্ত্রের শিকার’। এমনকি বিভিন্ন মহল থেকে এই অভিযোগও ওঠে যে নাফিস মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের স্টিং অপারেশনের বলি। সংস্থার কর্মীরা নিজেরাই আল-কায়েদা সদস্য সেজে নাফিসকে ফাঁদে ফেলে জিহাদের নামে সন্ত্রাসী হামলায় উদ্বুদ্ধ করেছিল।

গত ২০১১ সালের জানুয়ারিতে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর দক্ষিণ-পূর্ব মিসৌরির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন নাফিস। কিন্তু সেখানে কোর্স শেষ না করেই জুনের শেষ সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে একটি টেকনিক্যাল কলেজে ভর্তি হন তিনি। নিউ ইয়র্ক পুলিশ ও এফবিআই কথিত ‘স্টিং অপারেশনের’ মাধ্যমে গত ১৭ অক্টোবর নাফিসকে গ্রেপ্তার করে। তারা জানায়, বাংলাদেশি এই তরুণ এক হাজার পাউন্ড বিস্ফোরক দিয়ে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ভবন উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

কিন্তু তার গাড়িতে এফবিআইয়ের সরবরাহ করা নকল বিস্ফোরক থাকায় সেটি আর ফাটেনি। ২০১২ সালের ১৫ নভেম্বর গ্র্যান্ড জুরি নাফিসের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তাদের দেওয়া অভিযোগপত্র অনুমোদন করে। এতে ‘ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্য বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের চেষ্টা’ এবং ‘যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়দাকে সহায়তা করার চেষ্টা’র অভিযোগ আনা হয়। এর ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here