প্রবাসে মন খারাপের ঈদ

0
62

কাতার: ঈদ মানেই আনন্দ,ঈদ মানেই খুশি। আজ ১ সেপ্টেম্বর। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ কাতারেও উদযাপিত হচ্ছে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। খুশির এই দিনটার প্রবাসে বাংলাদেশিদের আনন্দ দিয়ে শুরু হলেও পরিবার পরিজন থেকে দূরে থাকায় দ্রুতই রূপ নেয় মন খারাপের দিকে। অনেকে মনের কষ্ট চেপে রাখতে বালিশে মুখ গুঁজে কেঁদে কেটে দিনটি কাটিয়ে দেন।

সোমবার স্থানীয় সময় ভোর ৫:২৯ মিনিটে কাতারে রাজধানী দোহায় স্থানীয়দের সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিরা একত্রে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করেন। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ভাষার বিভিন্ন বর্ণের মানুষ একসঙ্গে কাতারে দাঁড়িয়ে আদায় করে এই ঈদের জামাত। প্রতিবারের মতো এবারও স্থানীয় দোহা ন্যাশনাল ঈদগাহে ঈদের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে গোটা মুসলিম বিশ্বের কল্যাণ শান্তি কামনা করে দোয়া-মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতের শেষে বাংলাদেশি মুসল্লিরা পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন।

প্রবাসের ঈদটা যেন একটু অন্যরকম। দেশের মাটিতে ঈদে কেনাকাটাসহ হাজার রকম ব্যস্ততা থাকলেও প্রবাসে প্রবাসীদের মধ্যে এরকম কোনও ব্যস্ততাই নেই। প্রবাসীদের মধ্যে একটাই ব্যস্ততা চোখে পড়ে সেটা হলো পরিবাবের জন্য টাকা পাঠানো। প্রবাসীরা নিজেরা ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারুক না পারুক,তারা চায় তাদের পরিবার পরিজন যেন ঈদের আনন্দ থেকে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হয়।

প্রবাসে যারা পরিবার পরিজন নিয়ে আছে আর যারা বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে তাদের মাঝে দেশীয় ঈদের আমেজ কিছুটা হলেও লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু যারা ব্যাচেলর তাদের কাছে ঈদ মানে খুব ভোরে উঠে মসজিদে গিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করা। এরপর কোনও বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টে গিয়ে ঈদ উপলক্ষে তৈরি করা বিশেষ খাবার খেয়ে দেশে ফোন করার পর ঘুমানোর প্রস্তুতি। বুকফাটা কষ্ট আর যন্ত্রণাটাকে বুকে নিয়ে বিছানায় গিয়ে চোখের পানিতে বালিশ ভিজিয়ে একটু ঘুমানোর চেষ্টা,যেন কষ্টের ভারটা একটু কমে। আর তাতেই দুপুর ঘনিয়ে পূবের সূর্যটা পশ্চিমে হেলতে শুরু করে। বিছানা থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে সামান্য কিছু মুখে দিয়ে কেউ কেউ দু’একজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে সামান্য আনন্দের প্রত্যাশায় সাগরের পাড়ে অথবা ব্যাচেলরদের জন্য নির্ধারিত পার্কে কিছু সময় কাটিয়ে ঈদটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করে থাকে। কিন্তু দুধের সাধ যেমন ঘোলে মেটে না, তেমনি ব্যাচেলর প্রবাসীদের আনন্দগুলো কষ্টে রূপান্তরিত হয়ে যায় আর কষ্টগুলোকে লুকিয়ে রাখতে চেষ্টা করে একটা বিষাদ মাখা হাসির আড়ালে। অবশ্য যারা সপরিবারে প্রবাসী তাদের ব্যাপারটা কিছুটা ভিন্ন, তবে কখনোই পরিপূর্ণ স্বদেশী সুখ নেই। তারপরও ঈদের নামাজের পরপরই কাতারে বিভিন্ন স্থানে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও পশু কোরবানি দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here