সবার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করবো: তৈয়েবুর মাফ মিসবাহ সহ আসালের কর্মকর্তাদের আচরণের নিন্দা জানালেন বক্তরা

মোহাম্মদ তৈয়েবুর রহমান হারুন

বর্ণমালা ডেস্ক : নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল ডিষ্টিক্ট ২৪ এর ডেমোক্রেটিক প্রাইমারী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ তৈয়েবুর রহমান হারুন বলেছেন, নিউইয়র্ক বিশাল এক নগরী এবং এর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও বহুমাত্রিক। এই নগরীর প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রয়েছে সমান সুযোগ সুবিধা ভোগ করার। বিশেষ করে প্রতিটি ডিষ্টিক্টে সিটি বাজেট থেকে বরাদ্দকৃত অর্থের ন্যায্য হিস্যা সবাইকে দিতে হবে। তিনি বলেন, কিন্তু বিগত চার বছর ডিষ্টিক্ট ২৪ এর জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের সম-ব্যবহার করেননি বর্তমান কাউন্সিলম্যান ররি ল্যান্সম্যান। তৈয়েবুর রহমান হারুন অভিযোগ করে বলেন, চলতি বছরের ৭ লক্ষ ডলার বরাদ্দের মধ্যে ৫১ শতাংশ অর্থ বিশেষ একটি কমিউনিটির জন্য ব্যয় করা হয়েছে। ২৯ শতাংশ অর্থ অন্যান্য কমিউনিটির জন্য এবং ১৪ শতাংশ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে ডিষ্টিক্টের বাইরের কাজে। তিনি নির্বাচিত হলে এ ধরণের অনিয়ম রোধ করে সবার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। গত ২৫ আগষ্ট সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের মেজবান রেষ্টুরেন্টে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে এসব কথা বলেন তৈয়েবুর রহমান হারুন ।

যখন ররি ল্যান্সম্যানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উত্থাপন করেছেন তৈয়েবুর রহমান তখনই কয়েকজন বক্তা ক্ষুদ্ধ কণ্ঠে তাদের বক্তব্যে বলেন, দক্ষিণ-এশীয়ানদের জন্য প্রতিষ্ঠিত সংগঠন অ্যাসালের বাংলাদেশী কর্মকর্তা ন্যাশনাল কমিটির প্রেসিডেন্ট মাফ মিসবাহ সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা সংগঠনের মূলনীতি লংঘন করে দক্ষিণ এশীয় প্রার্থী তৈয়েবুর রহমান হারুনকে সমর্থন না দিয়ে বর্তমান কাউন্সিলম্যান ররি‘কে শুধু সমর্থন না তার পক্ষে সরাসরি কাজও করছেন।

আগামী ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় ডেমোক্রেটিক প্রাইমারীকে সামনে রেখে তৈয়েবুর রহমানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বাংলাদেশী কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়ের লক্ষ্যে আয়োজন করে এই সমাবেশ। কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নেতৃবৃন্দ এতে অংশগ্রহণ করেন।
প্রবীণ সাংবাদিক মোহাম্মদউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন হারুনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান বাংরাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারন সম্পাদক ফখরুল আলম। মূলত: প্রাইমারী নির্বাচনের কিভাবে জয়লাভ করা যায় তা নিয়ে মতবিনিময় করেন নেতৃবৃন্দ। বাংলাদেশী এবং এশিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ তৈয়েবুর রহমান হারুনের প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়ে কমিউনিটির সকলকে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করার আহবান জানান বিভিন্ন বক্তা। বিশেষ করে রেজিষ্টার্ড ডেমোক্রেটসহ এশিয়ান ভোটাররা প্রাইমারীতে তৈয়েবুর রহমান হারুনকে ভোট দিলে তিনি অবশ্যই জয়লাভ করবেন বক্তরা আশাবাদ প্রকাশ করেন। ডেমোক্রেট অধ্যুষিত এ আসনে যিনি প্রাইমারীতে বিজয়ী হবেন তিনিই এ বছরের ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সিটি কাউন্সিলের চূড়ান্ত নির্বাচনে জয়ী বলে ঘোষিত হন।

সুধী সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ, ওয়েলকেয়ার হেলথ ইন্স্যুরেন্সের সিনিয়র কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ, এডভোকেট মুজিবুর রহমান, তৈয়েবুর রহমানের প্রধান নির্বাচনী উপদেষ্টা কাজী আজহারুল হক মিলন, বাংলাদেশ সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মোল্লাহ মনিরুজ্জামান, মো: তাজুল ইসলাম, যুকরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারন সম্পাদক শীতাংশু গুহ, শামসুল হুদা, বিশিষ্ট সমাজকর্মী শরাফ সরকার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ, সমাজকর্মী মুজাহিদ আসনারী ও তৈয়েবুর রহমানের নির্বাচনী উপদেষ্টা মি: ডোনাল্ড।

স্বাগত বক্তব্যে ফখরুল আলম বলেন, বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী-আমেরিকান অধ্যুষিত সিটি কাউন্সিল ডিষ্টিক্ট ২৪ এ মোহাম্মদ তৈয়েবুর রহমান হারুন একমাত্র বাংলাদেশী-এশিয়ান প্রার্থী, যিনি কোন প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই ডেমোক্রেটিক প্রাইমারীতে লড়ছেন। এটা বাংলাদেশী আমেরিকানদের জন্য একটি অপূর্ব সুযোগ। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এজন্য বাংলাদেশী রেজিষ্টার্ড ভোটারদেরকে অবশ্যই আগামী ১২ সেপ্টেম্বর ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের অধিকার প্রয়োগ করতে হবে। তিনি বলেন, প্রাইমারীর জন্য এই আসনে রেজিষ্টার্ড ভোটার সংখ্যা ৫২ হাজার। এর মধ্যে সাড়ে ৪ হাজার ভোটারের সমর্থন পেলেই তৈয়েবুর রহমান বিজয়ী হতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ফখরুল আলম। তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালনা করতে মোটা অংকের অর্থের প্রয়োজন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে বাংলাদেশী কমিউনিটির সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন। জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের ঈদ জামাতে তৈয়েবুর রহমান হারুনকে বক্তব্য দানের সুযোগ দেয়ার আহবান জানান ফখরুল আলম।

বক্তারা নির্বাচনী কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, বাংলাদেশী কমিউনিটির স্বার্থ ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হলে নিজেদের পছন্দনীয় জন প্রতিনিধি নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। দলমত ও ধর্মীয় মতাদর্শের উর্ধে উঠে রেজিষ্টার্ড ডেমোক্রেটদেরকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহবান জানান বক্তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here