বাংলাদেশীরা সিটির শক্তিশালী কমিউনিটি: রুবিন দিয়াজ

0
32

নিউইয়র্ক : নিউইয়র্ক সিটির আসন্ন প্রাইমারী নির্বাচনে ব্রঙ্কস বরোর ডিষ্ট্রিক্ট ১৮ থেকে কাউন্সিলম্যান প্রার্থী ষ্টেট সিনেটর রুবীন দিয়াজকে এন্ডোর্স করেছে টাইম টেলিভিশন ও বাংলা পত্রিকা। এই উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সিনেটর রুবিন দিয়াজ বলেন, নিউইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশীরা একটি অগ্রসরমান এবং সিটির শক্তিশালী কমিউনিটি। আগামী প্রাইমারী নির্বাচনে তিনি সকল বাংলাদেশী-আমেরিকান ভোটারের সমর্থন ও ভোট কামনা করে বলেন, আমি অতীতের মতো সকল বাংলাদেশীকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই। উল্লেখ্য, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সিটির ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রাইমারী নির্বাচন। ঐদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৯টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মেয়র বিল ডি ব্লাজিও ও পাবলিক এডভোকেট লেটিসিয়া জেমস পুনরায় প্রার্থী হয়েছেন। সিটি কম্পট্রোলার পদে নির্বাচন হচ্ছে না। র্বতমানে সিটি কম্পট্রোলার স্কট স্ট্রীঙ্গার।

টাইম টেলিভিশন ও বাংলা পত্রিকা’র বার্তা কক্ষে ৬ সেপ্টেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে কাউন্সিলম্যান প্রার্থী সিনেটর রুবিন দিয়াজের কর্মকান্ড সংক্ষেপে তুলে ধরে বিশেষ করে বাংলাদেশী কমিউনিটির কল্যাণে তার অবদানের কথা স্মরণ করে তাকে এন্ড্রোর্স করার ঘোষণা দিয়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক এবং টাইম টেলিভিশনের সিইও আবু তাহের। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশী অধ্যুষিত ব্রঙ্কসের ডিষ্ট্রিক্ট-৮৭ থেকে নির্বাচিত নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলীম্যান লুইস সেপুলভেদা। এছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কমিউনিটি নেতা ও মূলধারার রাজনীতিক যথাক্রমে আব্দুস শহীদ ও এডভোকেট এন মজুমদার। -খবর ইউএনএ’র।

অনুষ্ঠানে সিটি কাউন্সিলম্যান প্রার্থী হিসেবে টাইম টেলিভিশন ও বাংলা পত্রিকা এন্ডোর্স করায় সিনেটর রুবিন দিয়াজ মিডিয়া দুটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ও ষ্টেট সিনেটে বাংলাদেশ ডে পালনের উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি গর্বিত বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমরাই প্রথম ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ও সিনেটে ইমামের মাধ্যমে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করিয়েছি। এটা নিউইয়র্কের ইতিহাস। তিনি তার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশী কমিউনিটির সহযোগিতায় তিনি সিটি কাউন্সিলে নির্বাচিত হয়ে সবার সাথে বন্ধুত্বের মাধ্যমে কমিউনিটিকে আরো শক্তিশালী করতে চান। প্রসঙ্গত তিনি বেকারত্ব রোধে ব্রঙ্কসে চাকুরীর ব্যবস্থা আর যানজট রোধে ওভার ব্রীজ করা সহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের বর্ণনা দেন। তিনি বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক এবং টাইম টেলিভিশনের সিইও আবু তাহেরকে বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘আবু’ সহ অনেক বাংলাদেশী আমরা কাছের বন্ধু। তারা দীর্ঘদিন ধরেই আমার সাথে রয়েছেন, আমার নির্বাচনে কাজ করেছেন। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং ধন্যবাদ জানান।

লুইস সেপুলভেদা বলেন, বাংলাদেশী কমিউনিটি দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশী-আমেরিকানরা সিটি আর ষ্টেটের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তারা আমাদের বন্ধু। প্রসঙ্গত তিনি বাংলাদেশী কমিউনিটির সেবায় সিনেটর রুবিন দিয়াজের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, রুবিন দিয়াজ নির্বাচিত হলে অতীতের মতো সবাইকে সাথে নিয়ে আগামী দিনেও কাজ করে যাবে।

আব্দুস শহীদ বলেন, কাউন্সিম্যান প্রার্থী ষ্টেট সিনেটর ব্রঙ্কসের পার্কচেষ্টার এলাকার সকল বাংলাদেশীর বন্ধু, আমার ব্যক্তিগত বন্ধু। তিনি আমাদের জন্য কাজ করেছেন বলেই সিটির প্রাইমারীতে আমরা তাকে সমর্থন দিচ্ছি। আইনজীবি এন মজুমদার বলেন, ব্রঙ্কসে বসবাসকারী আমরা বাংলাদেশী-আমেরিকানরা এখন সিটি কাউন্সিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষমতা রাখি। কিন্তু সিনেটর রুবিন দিয়াজ আমাদের বন্ধু, আমাদের অভিভাবক বলেই তার প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা বাংলাদেশীরা এবার সিটি কাউন্সিলে প্রার্থী হচ্ছি না। তবে আগামীতে আমরা অংশ নেবো। তিনি ১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবারের নির্বাচনে সকল বাংলাদেশী-আমেরিকানদের ভোট কেন্দ্রে গিয়ে সিটির পাঁচ বরোর স্ব স্ব নির্বাচনী এলাকার যোগ্য প্রার্থীদের ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।

এসময় টাইম টেলিভিশন-এর অন্যতম পরিচালক সৈয়দ ইলিয়াস খসরু সহ মিডিয়া দুটির সাংবাদিক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি টাইম টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here