উদ্বেগ উ্যকন্ঠায় ফ্লোরিডার বাংলাদেশী প্রবাসীরা

0
67

ওরলান্ডো থেকে : ইরমা আংকে পুরো ফ্লোরিডা বাসী । স্মরনকালের সবচেয়ে বড় হ্যারিকেন ইরমা পুটো রিকো , কিউবা হয়ে মায়ামী ফ্লোরিডার দিকে আসছে । আগামী শনিবার ১৮৫ মাইল বেগে হানা দেয়ার কথা থাকলেও তা কমে ১৫০ মাইলে আসছে ক্যাটাগরি ৫ থেকে নেমে তা ৪ এ এসেছে । তবুও আতংক কমছে না । ফ্লোরিডা থেকে সকলকে চলে যেতে বলা হয়েছে তারপও অনেকে বাসা বাড়ী তে থেকে যাচেছন । মায়ামী থেকে ওরলান্ডো ৩ ঘন্টা যাত্রা ৯ ঘন্টায় নাগরিকরা ওরলান্ডো আসছেন । হাজার হাজার গাড়ীর বহর ছুটছে হাইওয়ে ধরে । হাইওয়ে গুলোতে দশ মিনিটে ১ মাইল গাড়ী মুভ করছে । সারা হাইওয়ে তে ভয়াবগহ যানজট এ আটকা । মায়ামী তে বাংলাদেশীরা আতংকে আছেন । হাজার হাজার ফ্লাইট ক্যানসেল হয়ে গেছে । ৬০ হাজারের অধিক বাংলাদেশীসহ ফ্লোরিডা, সাউথ ক্যারলিনা এবং জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ৫০ লক্ষাধিক আমেরিকান ভয়ংকর হারিকেন ‘ইরমা’ আতংকে রয়েছে। বাংলাদেশী অধ্যুষিত সাউথ ফ্লোরিডার সকল মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সারা অঙ্গরাজ্যে জরুরী অবস্থা জারির পর রাজ্য গভর্ণর রিক স্কট নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘আঘাত হানার আশংকা রয়েছে, এমন সিটির কেউ যেন ঘরে না থাকেন। শনিবার রাতে শুরু হবে ইরমার তান্ডব।’

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ফ্লোরিডা, ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ড এবং পর্তোরিকো রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জরুরী অবস্থা জারির পর সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছেন। দু’সপ্তাহ আগে ভয়ংকর হারিকেন হার্ভি আঘাত হানে টেক্সাসের বাংলাদেশী অধ্যুষিত হিউস্টন সিটিসহ আশপাশের এলাকায়। ক্ষত-বিক্ষত জনপদে চলছে পুনর্বাসন কার্যক্রম। এমনি অবস্থায় হারিকেন ইরমা ধেয়ে আসছে আটলান্টিক মহাসাগর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহে। ঘন্টায় ১৮৫ মাইল বেগে ক্যাটাগরি-৫ হিসেবে প্রবাহিত হচ্ছে এই হারিকেন। জাতীয় হারিকেন সেন্টার সর্বসাধারণের উদ্দেশ্যে আরো জানায়, ইরমা’র প্রভাবে উপক’লীয় অঞ্চলে ১৫ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এমন ভয়ংকর দুর্যোগ সাউথ ফ্লোরিডায় আঘাত হানবে শনিবার রাতে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস আরো উল্লেখ করেছে, আটলান্টিক মহাসাগরে ‘হোযে’ এবং ‘ক্যাটিয়া’ নামক আরো দুটি হারিকেনের উৎপত্তি ঘটেছে।

২০১০ সালের পর এবারই প্রথম উপর্যুপরি হারিকেনের আবির্ভাব ঘটছে আটলান্টিক মহাসাগর থেকে। ‘হারিকেনের আতংকে সমস্ত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে রওয়ানা দিয়েছে। গ্যাস স্টেশনে গ্যাস নেই। গ্রোসারি স্টোর ফাঁকা। বড় বড় স্টোর থেকে কাঠ ক্রয় করা হচ্ছে বাড়ি-ঘরের দরজা-জানালা শক্ত করে আটকিয়ে নিরাপদ স্থানে পাড়ি দেয়ার জন্যে। অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজ বাসায় অবস্থানের কথা ভাবছেন। যদিও মায়ামী পুলিশের উপ-প্রধান লুইস ক্যাবরেরা সকলের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন নিরাপত আশ্রয়ে স্বেচছায় চলে যাবার জন্যে। অন্যথায় পুুলিশ এসে সকলকে জোর করে নিয়ে যাবে আশ্রয় কেন্দ্রে।’ ৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ভোর থেকেই ১৪০০ পুলিশ অফিসার মায়ামী সিটিতে নামবে সর্বসাধারণকে সর্বাত্মক সহায়তার জন্যে।’ বাংলাদেশী ব্যাবসায়ীরা যারা মায়ামী তে সফল ভাবে গ্যাস ষ্টেশন ব্যবসা করেন তারা জানান ‘হারিকেনের ভয়াবহতা সকলেই আঁচ করতে পারলেও অনেকে সারাজীবনের স্মৃতি আঁকড়ে থাকতে চাচ্ছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই।’

মায়ামী পুলিশের কমিশনার ফ্রাঙ্ক সুয়ারেজ বলেন, ‘সিটির যেসব এলাকাকে জনমানবশূন্য করার জন্যে চিহ্নিত করা হয়েছে, সে সবে কাউকেই থাকতে দেয়া হবে না। সর্বসাধারণের নিরাপত্তা বিধানের স্বার্থেই এই নির্দেশ বাস্তবায়িত করা হবে।’
মায়ামী-ডেড কাউন্টি মেয়র কার্লোজ জিমিনেজ বৃহস্পতিবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে সর্বসাধারণের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন, ‘সরকারী আশ্রয় কেন্দ্রে অথবা দূরবর্তী স্বজনের বাসায় চলে যান। হারিকেন ইরমাকে অবহেলার অবকাশ নেই। এটি ভয়ংকর রূপ নিয়ে সাউথ ফ্লোরিডাসহ আশপাশে আঘাত হানবে রোববার ভোর রাতে।’ রোববার রাত দুটা থেকে পুরো সোমবার দিন চলবে ইরমার তান্ডব । প্রচন্ড বেগে বাতাস চলচে , সব কিছু লন্ড ভন্ড করে দিয়ে যাবে । তবে আশার বানী ক্যাটাগরি ৫ থেকে ২ এ নেমে আসছে । তবে ঘর্নিঝড় অনেক শক্তিশালী যার তান্ডব বলে বা লিখে বোঝানো যায় না । ফ্লোরিডায় ২০০৪ সালে তিনটি হ্যারিকেন এসেছিল ১৯ দিন বিদ্যুত ছিল না । প্রবাসীরা তা ভুলে যান নি তাই এবার সবাই ভালভাবে প্রস্তুতি নিচেছন ।

সেন্ট্রাল ফ্লোরিডায় ইরমা আঘাত হানবে রোববার মধ্যরাতে পর , তবে তা ক্যাটাগরি ২ তে নেমে আসছে ও ঘন্টায় বাতাসের গতিবেগ ১০০ মাইল হবার কথা । অনেকে আতংকে বাসা বাড়ী ছেড়ে পরিবার পরিজন নিয়ে হোটেলে চলে যাচেছন । সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা প্রপেন গ্যাস , পানি , গ্রোসারী , ক্যান্ডেল , নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসে র সংকট দেখা দিয়েছে । জ্বালানী তেলের সংকট দেখা দিচেছ । ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে প্রবাসীদের পানি ,গ্যাস নিতে হচেছ । অনেক জায়গায় তা পাওয়া যাচেছ না । বিল্ডিং মেটেরিয়েলের দোকানে ভিড় , সবাই বাসা বাড়ী প্রটেক্ট করার প্রতিযোগীতায় । যে যার মত চেষ্টা করছেন ইরমা থেকে বেচে থাকার জন্য । ফ্লোরিডার গভর্নর সবোচছ প্রস্তুত রেখেছেন সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা কে নিরাপত্তা দিতে । কয়েক হাজার ভলান্টিয়ার কাজ করছে । রেডক্রস সহ সকল ইমাজেন্সি প্রতিষ্টান প্রস্তুত । রোববার সারা দিন ও সোমবার সারা দিন সেন্ট্রাল ফ্লোরিডায় আবহাওয়া চরম আকার ধারন করবে । সবগুলো স্কুল শুক্রবার থেকে সোমবার পযন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে । সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা জামে মসজিদ শেল্টার সেন্ট্রা হিসাবে সকল ধর্মের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে । বাংলাদেশী প্রবাসীরা সকলে আতংকের মধ্যে আছেন । শুক্রবারে জুমার নামাজে সকল মসজিদে বিশেষ দোয়া করা হয়েছে । বিভিন্ন ষ্টেটে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশীরা তাদের ফ্লোরিডায় তাদের আত্বীয় স্বজনদের জন্য উদ্বিগ্ন । সারা ফ্লোরিডায় প্রায় ৬০ হাজারা বাংলাদেশীর বসবাস ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here