নিউইয়র্কে শেখ হাসিনার সমবর্ধনা সফল করতে আওয়ামী লীগের ব্যাপক জনসংযোগ জামাতপন্থীদের বিক্ষোভ কর্মসূচী চূড়ান্ত ।। বিএনপি দ্বিধা-দ্বন্দ্বে

0
227

বর্ণমালা ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিউইয়র্কে আগমণ উপলক্ষে পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। সমবর্ধনা সফল করতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ বাঙ্গালী অধ্যুষিত প্রতিটি এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করছে। আওয়ামী পরিবারসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকজন তাকে জেএফকে এয়ারপোর্টে প্রাণঢালা সংবর্ধনার পর জাতিসংঘের সামনে শান্তি সমাবেশ ছাড়াও বিশ্বখ্যাত টাইমস স্কোয়ার সংলগ্ন বিলাসবহুল একটি হোটেলে নাগরিক সংবর্ধনার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। অপরদিকে, জাতিসংঘে শেখ হাসিনার ভাষণের সময় বাইরে জামাত-শিবিরের সমর্থকরা ‘ভূইফোড়’ সংগঠনের ব্যানারে তুমুল বিক্ষোভ দেখানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। দ্বিধা-দ্বন্দ্বে থাকা বিএনপির সমর্থকরা জেএফকে এয়ারপোর্টে কাল পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি এখনও ঘোষণা না করলেও জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভের কর্মসূচি চূড়ান্ত করেছে। পরস্পর বিরোধী এসব কর্মসূচিতে আবর্তিত হচ্ছে গোটা কম্যুনিটি।

১৭ সেপ্টেম্বর  রবিবার দুপুরে নিউইয়র্কে আসার কথা শেখ হাসিনার। জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে টানা ৯ বছরের মত এবারও নিউইয়র্কে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২১ সেপ্টেম্বর দুপুরে তার ভাষণ দেয়ার কথা সাধারণ অধিবেশনে। এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সার্বিক সমন্বয়ে প্রবাসীদের এক সমাবেশে ভাষণ দেবেন শেখ হাসিনা। ২২ সেপ্টেম্বর তিনি ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ত্যাগের কথা। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ওয়াশিংটন ডিসিতেই অবস্থান করবেন বলে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে।

শেখ হাসিনার জাতিসংঘ সফরের সমর্থনে প্রতিদিনই একাধিক সমাবেশ করছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, মহানগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন শাখা। মহিলা আওয়ামী লীগ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগও তৎপর রয়েছে শেখ হাসিনার সফরকে সাফল্যমন্ডিত করতে। এসব প্রস্তুতি ও জনসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী এবং সেক্রেটারি ইমদাদ চৌধুরীসহ শীর্ষ কর্তকর্তারা। ১০ সেপ্টেম্বর রোববার রাতে জ্যামাইকায় হিলসাইড এভিনিউতে একটি পার্টি হলে অনুষ্ঠিত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ সকলকে চোখ-কান খোলা রাখার নির্দেশ দেন। এ সমাবেশে নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক আইরিন পারভিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদ, প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আকতার হোসেন, সৈয়দ বসারত আলী, মাহবুবুর রহমান, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী সহ ৬৪ জন বক্তা।

ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘শেখ হাসিনা হচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, তিনি বিশেষ কোন দলের নেতা নন। সারা বাংলার মানুষের নেতা। তাই তার সম্মান হুমকির মুখে ঠেলে দেয়ার মত কোন ধরনের অপতৎপরতাকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। প্রচলিত আইন অনুযায়ী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সকলকে সজাগ থাকতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত প্রতিটি প্রবাসীকে অতন্দ্র প্রহরীর ভ’মিকায় অবতীর্ণ হতে হবে শেখ হাসিনার সফরের শেষ সময় পর্যন্ত।’

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের জীবন-মানের উন্নয়নে অবিস্মরণীয় ভ’মিকা পালনরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উন্নয়নের দিশারিতে পরিণত হয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা রচনায় তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে কাজ করছেন। রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বিশ্বের রাজধানী হিসেবে খ্যাত এই নিউইয়র্কে শেখ হাসিনার আসন্ন সফরকে নিরাপদ ও সাফল্যমন্ডিত করতে প্রতিটি মুজিব সৈনিকের দায়িত্ব অপরিসীম। গত সাড়ে ৩ দশকে ২৮টি সংবর্ধনা সমাবেশের  মত এবারও বর্ণাঢ্য একটি নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।’

শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানিয়ে নিউইয়র্ক সিটির বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকাসমূহে পোস্টার শোভা পাচ্ছে। বাংলা ভাষার প্রতিটি মিডিয়ায় শেখ হাসিনার আগমণের সংবাদ ফলাও করে প্রকাশিত হচ্ছে।

অপরদিকে, গতানুগতিক ধারায় শেখ হাসিনার বিভিন্ন কর্মসূচির সময় বাইরে বিক্ষোভ ও কাল পতাকা প্রদর্শনের ব্যাপারে তেমন আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে না নিউইয়র্কে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে। সাড়ে ৪ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার পর ৫/৬ খন্ডে বিভক্ত হয়ে কাজ চলছিল বিএনপির ব্যানারে। কয়েক সপ্তাহ আগে বেগম খালেদা জিয়া লন্ডনে আসার পর সকলেই অধির আগ্রহে ছিলেন যে, এবার হয়তো বিএনপি কমিটি আসবে। কিন্তু সে প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটা দূরের কথা, লন্ডনে গিয়ে চেয়ারপার্সনের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের অনুমতিও মেলেনি বলে নেতা-কর্মীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরী হয়েছে। সে কারণেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভের আগ্রহ একেবারেই কমে গেছে বলে হতাশায় জর্জরিত নেতা-কর্মীরা এ সংবাদদাতার কাছে মন্তব্য করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, সাবেক অন্যতম সহ-সভাপতি গিয়াস আহমেদ এবং আলহাজ্ব সোলায়মান ভ’ইয়া, সাবেক অন্যতম যুগ্ম সম্পাদক আকতার হোসেন বাদল, যুবনেতা এম এ বাতিন, স্টেট বিএনপির নেতা পারভেজ সাজ্জাদ পৃথক পৃথকভাবে এ সংবাদদাতাকে বলেন, ‘কমিটি না থাকায় কাজকর্মে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন অনেকে। তবে বিএনপির আদর্শে বিশ্বাসী প্রতিটি প্রবাসীর মত আমরাও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাবো জাতিসংঘের বাইরে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here