ভয়াল ৯/১১ এর ৬ বাংলাদেশী ভিকটিম

0
321

নিউইয়র্ক : ভয়াল ৯/১১ এর ১৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবারও আমেরিকানরা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের শপথ পৃনর্ব্যক্ত করবেন। একইসাথে ভয়ংকর সেই হামলায় নিহতদের স্মরণ করা হবে গভীর শ্রদ্ধায়।
এ উপলক্ষে ১১ সেপ্টেম্বর সোমবার নিউইয়র্ক সিটির গ্রাউন্ড জিরোতে শোক-সমাবেশ হবে। ভিকটিমদের স্বজনরা অংশ নেবেন এতে। আগের মত দুই টাওয়ারে হামলা এবং টাওয়ার দুটি ধসে পড়ার সময়ে সকলে নিরবতা পালন করবেন। এর আগে ও পরে নিহতদের তালিকা পাঠ করবেন স্বজনেরা।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার সময় থেকে এখন পর্যন্ত দায়িত্ব পালনরত সিটি মেয়র, নিউইয়র্ক এবং নিউজার্সির রাজ্য গভর্ণরসহ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা থাকবেন অনুষ্ঠানে। টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ২৭৫৩ জনের মধ্যে ৬ বাংলাদেশীও ছিলেন। তারা সকলেই কর্মরত অবস্থায় নিহত হয়েছেন। এরা হলেন সিলেটের মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন চৌধুরী, কুমিল্লার মোহাম্মদ শাহজাহান, ময়মনসিংহের নূরল হক মিয়া, সিলেটের সাব্বির আহমেদ, মৌলভীবাজারের শাকিলা ইয়াসমীন এবং নোয়াখালীর আবুল কাশেম চৌধুরী।

ঐদিনে আরো দুটি স্থানসহ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের হামলায় নিহত হয়েছেন সর্বমোট ২৯৭৭ জন। এদের স্মরণ করা হয় প্রতি বছরই ১১ সেপ্টেম্বরে। বাংলাদেশী ভিকটিমদের স্বজনেরা এবারও গ্রাউন্ড জিরোর স্মরণ সমাবেশে আসবেন। পরম মমতায় তাদের স্মরণ করার পাশাপাশি মোনাজাত করবেন বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায়। হোয়াইট হাউজে নিরবতা পালন করবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উল্লেখ্য, আল কায়েদার জঙ্গিরা ৪টি উড়োজাহাজ ছিনতাই করে সেগুলো নিয়ে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও পেন্টাগনে হামলা চালায়। দুই শতাব্দিরও বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখন্ডে চালানো প্রথম হামলা এটি। দুটি উড়োজাহাজের আঘাতে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের আকাশচুম্বি দুটি ভবন গুড়িয়ে যায়, এতে দুই হাজার ৭৫৩ জন নিহত হন। তৃতীয় আরেকটি উড়োজাহাজ ওয়াশিংটনে পেন্টাগন ভবনে আঘাত হানে, এতে নিহত হন ১৮৪ জন।

ছিনতাই হওয়া চতুর্থ আরেকটি উড়োজাহাজ ওয়াশিংটনের দিকে যাওয়ার সময় পেনসিলভেনিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়, এতে আরো ৪০ জন নিহত হন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মনে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা নিরাপত্তার বোধ ভেঙে পড়ে। এর জেরে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো বিশ্বব?্যাপী ‘সন্ত্রাস-বিরোধী’ লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে যা এখনও অবহত আছে। সকাল ৮টা ৪৬ মিনিট: প্রথম আঘাত বস্টন-লসএঞ্জেলস্ রুটের আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৬৭ উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের শিকার হয়। পাঁচ ছিনতাইকারী আরো ৮৭ জন আরোহীসহ উড়োজাহাজটি চালিয়ে নিয়ে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর টাওয়ারে সরাসরি আঘাত হানে। এতে ভবনটির মধ্যে একটি বড় গর্ত তৈরি হয়। আকাশচুম্বি ভবনটির উঁচু তলাগুলো থেকে ঘন ধোঁয়ার কুন্ডুলি বের হতে শুরু করে। ৯টা ৩ মিনিট: দ্বিতীয় ভবনে আঘাত বস্টন-লস এঞ্জেলস্ রুটের ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৬৭ উড়োজাহাজ ছিনতাই হয়।

পাঁচ ছিনতাইকারী আরো ৬০ জন আরোহীসহ উড়োজাহাজটি চালিয়ে নিয়ে সরাসরি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দক্ষিণ ভবনে আঘাত করে, এতে বড় ধরনের একটি বিস্ফোরণ ঘটে। ৯টা ৩০ মিনিট: জাতির উদ্দেশ্যে বুশের ভাষণ ফ্লোরিডায় থাকা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ জাতির উদ্দেশ দেওয়া এক ভাষণে ‘যুক্তরাষ্ট্র আক্রান্ত হয়েছে’ বলে ঘোষণা করেন। ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা মনে করা হচ্ছে’ বলে জানালেন তিনি। ‘ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের খুঁজে বের করার’ নির্দেশ দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি রাজধানী ওয়াশিংটনে ফিরছেন বলে জানান।

৯টা ৩৭ মিনিট: পেন্টাগনে হামলা লসএঞ্জেলস্- ওয়াশিংটন ডুলেস রুটের আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৫৭ উড়োজাহাজ ছিনতাই হয়। পাঁচ ছিনতাইকারী আরো ৬০ জন আরোহীসহ উড়োজাহাজটি নিয়ে ওয়াশিংটনে পেন্টাগনের ভবনে আঘাত হানে। এতে দুটি বিস্ফোরণ ঘটে।

৯টা ৪২ মিনিট: সব উড়োজাহাজ উড্ডয়ন বন্ধ কেন্দ্রীয় বিমান চলাচল সংস্থা (এফএএ) যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। ৯টা ৫৯ মিনিট: দক্ষিণের টাওয়ারটি ধসে পড়ে আঘাত পাওয়ার ৫৬ মিনিট পর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দক্ষিণের ভবনটি ধসে পড়ে, এতে বিপুল ধুলার মেঘ চারপাশ ঢেকে দেয়।

১০টা ৩ মিনিট: পেনসিলভেনিয়ায় বিধ্বস্ত নিউওয়ার্ক থেকে স্যান ফ্রান্সিসকো যাওয়ার সময় উইনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৫৭ উড়োজাহাজ ছিনতাই হয়। চার ছিনতাইকারীর সঙ্গে অপর ৪০ যাত্রী ও ক্রু-দের লড়াইয়ের পরিণতিতে উড়োজাহাজটি পেনসিলভেনিয়ার শাঙ্কসভিলের একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।

১০টা ২৮ মিনিট: উত্তর টাওয়ার ধসে পড়ে হামলার এক ঘন্টা ৪২ মিনিট পর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তরের ভবনটিও ধসে পড়ে। বিশাল একটি ধুলার মেঘে ম্যানহ্যাটনের পুরো কেন্দ্রীয় এলাকাটি ঢাকা পড়ে যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here