যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের পরবর্তী সভাপতি-সম্পাদক কে?

0
483

বর্ণমালা নিউজ: সাত বছর নানা গ্রুপিং ও বিরোধিতা মোকাবিলা করে সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করে যখন সব গ্রুপকে তার নিয়ন্ত্রনে এনে একটি ঐতিহাসিক সমবর্ধনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন আরো বেশী করে জয় করে নিবেন বলে আশা করেছিলেন সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান তখনই তার সভাপতি অবস্থান নড়বড়ে হয়ে যাবে এমনটি ভাবতে পারেননি ড. সিদ্দিকুর রহমান। কিন্তু ১৯ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটানের ম্যরিয়ট মার্ক্যুয়েজ হোটেলে আয়োজিত সমবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা এবং নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিলো তাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কতটা ক্ষুদ্ধ হয়েছেন তার প্রমাণ পাওয়া যায় সমবর্ধনা শেষে তার বিশেষ সহকারী ড. আব্দুস সোবহান গোলাপের ঘোষণায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে ৩ মাসের মধ্যে সম্মেলন আয়োজন করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ জানান সমবর্ধনা শেষ হবার সাথে সাথেই।

এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগে শুরু হয়ে হয়েছে এক অনবস্থা। সভাপতির বিরুদ্ধাচারনকারীরা সরব হয়ে উঠেন। শুরু হয়ে যায় গ্রুপিংয়ের নতুন মেরুকরণ। তবে ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন অনুষ্ঠানটিতে দেখা গেছে কার্যকরী কমিটির অনেক সদস্যই এখনও সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের প্রতি বিশ্বস্ত রয়েছেন।

এদিকে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি ঘটনের জন্র আগামী ৯ অক্টোবর কার্যকরী কমিটির সভা ডেকেছেন সভাপতি সিদ্দিক।

এদিকে সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে কি নতুন কমিটি গঠিত হবে নাকি চিরাচরিত নিয়মে নেত্রীর পছন্দ এবং ঘোষনায় কমিটি গঠিত হবে কিনা তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবারে।

তবে নতুন কমিটি যে গঠিত হবেই তা নিশ্চিত। আর সে কারনেই নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদে অনেকেই নিজেদের যোগ্য মনে করছেন বা অন্যরা তাদেরকে যোগ্য মনে করছেন এমন প্রাথীদের মধ্যে সভাপতি হিসাবে সবার আগে যে নামটি উচ্চারিত হচ্ছে তিনি হলেন ভার্জিনিয়ায় বসবাসরত ইউএস সেন্সাস ব্যুরোর উর্ধতন কর্মকর্তা ড. মনসুর। এর পরে যাদের নাম আসছে তারা হলেন মুক্তিযোদ্ধা ড. মোহসিন আলী, ডা. মাসুদুল হাসান এবং অবশ্যই বর্তমান সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। আবার ক্যালিফোর্ণিয়ার আওয়ামী লীগ নেতা প্রধানমন্ত্রীর প্রিয়ভাজন দারা বিল্লাহ এবং সভাসভাতি ফ্লোরিডার ফজলুর রহমানের নামও উচআরিত হচ্ছে সভাপতির পদের প্রার্থী হিসাবে।

এদের মধ্যে থেকেই দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা তার দলের যুক্তরাষ্ট্র কমিটির জন্য বেছে নিবেন সভাপতি। কিন্তু তা কবে করবেন সে কথা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। অনেকে বলছেন দেশে ফিরে গিয়ে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা নতুন কমিটি গঠন করে পাঠিয়ে দিবেন।

অন্যদিকে প্রায় দু‘বছর ধরে সাধারন সম্পাকের পদটি শুণ্য থাকায় এই পদটি ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চালানো হচ্ছে। সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদের বহিষ্কারের পর যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ এই দায়িত্বটি পালন করে যাচ্ছেন। কিন্তু নতুন কমিটি গঠিত হলে সাধারন সম্পাদক পদটি সিলেটে ফিরিয়ে দেয়া হবে বলে অনেকটা নিশ্চিত সবাই। আর সেক্ষেত্রে প্রার্থীও অনেক। তবে দেশের পুরোনো রেকর্ড নয় যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য নিবেদিতপ্রাণদের মধ্যে থেকে সাধারন সম্পাদক পদটি পূরণের দাবী কর্মীদের। তাদের কথা দেশে বড় বড় পদে রাজনীতি করে আসাদের যদি গুরুত্বপূর্ণ এই পদটি দেয়া হয় তাহলে আমেরিকায় যারা দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করছেন তাদের মূল্যায়ন হবে কিভাবে?

যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাসিব মামুন, প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম (দুলাল মিয়া), যুগ্ম সম্পাদক আইরিন পারভিন। অন্যদিকে সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী কয়েস সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করে নিউইয়র্কে এসে দলের সাথে যুক্ত হয়েছেন।

প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম তার দীর্ঘদিন দলের প্রতি নিষ্ঠা নিয়ে কাজ করার জন্য নিজেকে সিলেট থেকে সাধারন সম্পাদক হবার লড়াইয়ে বেশী যোগ্য মনে করেন। আবার প্রথম মহিলা সাধারন সম্পাদক হিসাবে নিজেকে কম যোগ্য মনে করেন না যুগ্ম সম্পাদক আইরিন পারভিনও। জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারন সম্পাদক স্বল্পভাষী আব্দুল হাসিব মামুন সাধারন সম্পাদক পদে অনেকের পছন্দের। সিলেট থেকে সাদারন সম্পাদক পছন্দের বিষয়টি যখন অনেকটা চূড়ান্ত তখন আরো বেশ কজন নিজেকে এই পদের দাবীদার মনে করছেন। এরা হলেন প্রবাসী বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান বজলু ও এম এ করিম জাহাঙ্গীর। তবে নিভৃতে সাধারন সম্পাদক পদে নিজের যোগ্যতা প্রমাণে কাজ করে যাচ্ছেন আরেক সাংঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশাও।
সিলেট থেকে সাধারন সম্পাদক নেয়াটাও সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা এবং দলকে শক্তিশালী করার জন্য অপরিহার্য প্রমাণিত হয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই। এ পর্যন্ত যতজন সাধারন সম্পাদক হয়েছেন তাদের সবাই সিলেটের। তাই এবারও এর ব্যতয় ঘটবে না বলেই মনে করেন সবাই। তবে যদি কোন কারনে সিলেটের বাইরে থেকে সাদারন সম্পাদক বেছে নেয়া হয় সেক্ষেত্রে তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন দত্ত ও কার্যকরী সদস্য হিন্দাল কাদির বাপ্পার মধ্যে থেকে একজনকে বেছে নেয়া হতে পারে।

এদিকে যদি প্রথম বারের মত সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি নির্বাচন করা হয় তাহলে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞমহল। আর সেক্ষেত্রে বর্তমান সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান শক্তিশালী প্রার্থী হিসাবে আবির্ভূত হতে পারেন। কারন দীর্ঘ সাত বছর সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করে সমালোচনার মুখোমুখি হলেও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগকে মূল দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছেন ড. সিদ্দিক। আর তার প্রমাণ কেন্দ্র এখন যুক্তরাষ্ট্রে দলের সমর্থক সংগঠন ইউএস আওয়ামী লীগ বা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি গঠনে সরাসরি ভূমিকা রাখছে এবং স্বয়ং দলীয় প্রধান সম্মেলন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

LEAVE A REPLY