যুক্তরাষ্ট্রে আ.লীগ নেতাদের দেশের কল্যাণে একযোগে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বর্ণমালা ডেস্ক: ভার্জিনিয়ায় কর্মী সমাবেশে যে আশা নিয়ে অর্থাৎ দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে তাদের সাথে কথা বলবেন, এমনকি নতুন সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের নাম ঘোষণা করবেন, তাদের সেই আশা পূরণ হয়নি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতির বিরুদ্ধে বিক্ষুদ্ধ নেতা-কর্মীদের।

পহেলা অক্টোবর রবিবার ভার্জিনিয়ার ম্যাকলিন সিটির টাইসন বুলেভার্ডের রিটজ কার্লটন হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্টেট ও সিটি কমিটি ও অংঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে নির্ধারিত সাক্ষাৎ সমাবেশে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা প্রথমত পদ্মা সেতুর দৃশ্যমান হওয়া এবং রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা বলেন।

পূর্ব নির্ধারিত এই সমাবশে যোগ দিতে নিউইয়র্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতা-কর্মী দুদিন আগে থেকেই ভার্জিনিয়ায় অবস্থান করছিলেন। শনিবার রাতে রবিবার সকালেও বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ভার্জিনিয়ায় যান দলীয় নেত্রীর কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির ব্যাপারে দিক নির্ধেশনা ও ঘোষণা শুনতে।

নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর গণ সমবর্ধনার পর থেকে এবং ভার্জিনিয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের সাথে এই সাক্ষাতের আগে থেকে চারিদিকে গুঞ্জন বর্তমান কমিটির কার্যক্রমে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগে পরিবর্তন আনতে চান। তা করতে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদে নতুন মুখ আনা হবে। এমনই আবহে দলীয় প্রধানের সাথে সাক্ষাতে যোগ দেন নেতা-কর্মীরা- কিন্তু নতুন কমিটি বা নতুন সভাপতি ও সাদারন সম্মাদকের নাম ঘোষণা না, সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের কল্যাণে নেতা-কর্মীদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে একজোটে কাজ করার আহ্বান জানা। এছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে প্রবাসীদেরকেও সোচ্চার করে তোলার কথা বলেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপের তদারকিতে প্রথমেই ম্যারিল্যান্ড, ওয়াশিংটন ডিসি ও ভার্জিনিয়া স্টেট আওয়ামী লীগের ৩০ জন নেতা-কর্মী সরাসরি কথা বলেন শেখ হাসিনার সাথে।

এ সময় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাদেক খান, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী বাকি, সহ সভাপতি শিব্বির আহমেদ, সহ-সম্পাদক হারুন অর রশীদ, আনোয়ার হোসেন, আকতার হোসেন, মুজিবর রহমান ও নূরল আমিন।

আরও উপস্থিত ছিলেন ম্যারিল্যান্ড স্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সেলিম, সহ-সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস, সাধারণ সম্পাদক মইনুল তাপস ও জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মনসুর। ভার্জিনিয়া স্টেট আওয়ামী লীগের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি রফিক পারভেজ, সহ-সভাপতি আবুল হাশেম ও সাধারন সম্পাদক আমর ইসলাম ও দস্তগীর জাহাঙ্গীর।

দ্বিতীয় দফায় নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক সিটি আওয়ামী লীগ, বস্টন, কানেকটিকাট, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা ও জর্জিয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ করেন শেখ হাসিনা।

এ সময় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিউ ইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক শাহীন আজমল, নিউইয়র্ক সিটি আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী ও সাধারন সম্পাদক এমদাদ চৌধুরী ।

ক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নেতা মমতাজ শাহানা, মোর্শেদা জামান, ফারহানা হানিফ ও লিপিসহ অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করেন। শ্রমিক লীগের সভাতি আজিজুল হক খোকন ও সহ সভাপতি হোসেন রানা। এ সময়ে শ্রমিক লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি দেওয়ার দাবি জানান।

মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রীরা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে অধিক সংখ্যক মহিলার অন্তর্ভুক্তির দাবি জানালে শেখ হাসিনা বলেন, “মহিলারা তো মহিলা আওয়ামী লীগেই রয়েছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগে তো কয়েকজন মহিলা রয়েছেনও।”

এরপর শেখ হাসিনা ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বাসায় চলে যাওয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারেননি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ যে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে, তা সফলতার সাথে বাস্তবায়িত করার জন্যে সকলের দোয়া চেয়েছেন।

শেখ হাসিনার সাথে নেতাকর্মীদের সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করার সময় উপস্থিত ছিলেন ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা টিমের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

এদিকে, শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাতের জন্যে জড়ো হওয়া কয়েকশ’ নেতাকর্মী টাইসন বুলেভার্ডে ‘শান্তি সমাবেশ’ করেন।

শান্তি সমাবেশে নেতাদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের আব্দুস সোবহান গোলাপ, সিদ্দিকুর রহমান, খন্দকার মনসুর, নিজাম চৌধুরী, আব্দুস সামাদ আজাদ, আইরিন পারভিন, আকতার হোসেন, মোহাম্মদ ফারুক, মহিউদ্দিন দেওয়ান, আবুল হাসিব মামুন, আব্দুর রহিম বাদশা, তৈয়বুর রহমান টনি, শাহ বখতিয়ার, হাজী এনাম, ফরিদ আলম, মিসবাহ আহমেদ, শাহানারা রহমান, সোলায়মান আলী, হিন্দাল কাদির বাপ্পা ও খোরশেদ খন্দকার।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, সেক্রেটারি এমদাদ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মাসুদ হোসেন সিরাজি, যুগ্ম সম্পাদক আইয়ুব আলী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নুরুজ্জামান সর্দার, সহ-সভাপতি দরুদ মিয়া রনেল, সেক্রেটারি সুবল দেবনাথ, মহিলা আওয়ামী লীগের মমতাজ শাহনাজ, মোর্শেদা জামান ও বাংলাদেশ আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরামের ফারহানা হানিফ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here