পাটের জিন আবিস্কারক ড. মাকসুদ স্কলারশিপের ফান্ড খুঁজছেন রাফিয়া

0
29

নিউইয়র্ক থেকে : মানবতার কল্যাণে নিজের সর্বস্ব প্রদানের মধ্য দিয়ে মার্কিন মুল্লুকে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন বাংলাদেশী-আমেরিকান রাফিয়া হাসিনা। আর এমন একটি মহতি উদ্যোগে নিজেকে উৎসর্গ করতে বদ্ধ পরিকর, কারণ এটি শুরু করেছেন তার প্রয়াত স্বামী ড. মাকসুদুল আলমের স্মৃতি অটুট রাখতে। পাটের জীবন-কাহিনীর আবিস্কার করে বাঙালির ইতিহাসে বিশেষ একটি স্থান করে নেয়া ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াই’র গবেষক-শিক্ষক মাকসুদুল আলমের নামে দু’বছর আগে একটি রিসার্চ এনডাউমেন্ট প্রতিষ্ঠা করেছেন। ইতিমধ্যেই ইউনিভার্সিটি ফাউন্ডেশন থেকে এতে স্বাগত জানানো হয়েছে। এখন প্রয়োজন তহবিল। এজন্যে ‘মাকসুদুল আলম রিসার্চ এওয়ার্ড ফর মাইক্রোবাইয়োলজি’ নামে একটি একাউন্ট খোলা হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৫৪ সালে ফরিদপুর সদরে জন্মগ্রহণকারি বিজ্ঞানী মাকসুদ ইন্তেকাল করেছেন হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের হনলুলুতে ২০১৪ সালের ২০ ডিসেম্বর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিলোসফিতে মাস্টার্স করার পর দীর্ঘ ২০ বছর ঢাকায় ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়া ডিজিজ রিসার্চ’-এ হেল্্থ রিসার্চ এ্যাস্টিট্যান্ট হিসেবে চাকরির পর বর্তমানে অবসর জীবন-যাপন করছেন ফরিদপুরের মেয়ে রাফিয়া। রাফিয়া বলেন, ‘আমার এবং আমার স্বামীর যত সম্পদ ছিল তার কিয়দংশ সন্তানদের প্রদানের পর অধিকাংশই ব্যয় করছি এই ইনডাউমেন্টে।

হাওয়াইতে আমাদের একটি বাড়ি ছিল সেটিও লিখে দিয়েছি, যার মূল্য ৩ লাখ ডলার। এছাড়া, মাকসুদের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী-বন্ধুরাও কিছু নগদ অর্থ দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই একজন আন্ডার গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্টকে একটি স্কলারশিপ প্রদান করা হয়েছে। সে এসেছে ফিলিপাইন থেকে। বাঙালি বিজ্ঞানী মাকসুদের কর্মজীবনের পাশাপাশি মানবতার সার্বিক কল্যাণে গবেষণা করছেন সেই স্টেুডেন্ট।

রাফিয়া হাসিনা জানান, এই এনডাউমেন্ট চালু রাখতে কমপক্ষে আরো ৩০ হাজার ডলার প্রয়োজন। এজন্যে তিনি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এমনকি বাংলাদেশ সরকার সমীপেও আকৃতি জানিয়েছেন। বিশেষ করে পাট মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে আন্তরিক উদ্যোগ নিতে পারে বলে উল্লেখ করেন রাফিয়া। কারণ, যতদিন এই গবেষণা কর্ম চলবে, ততদিনই প্রতিটি মুহূর্তে উচ্চারিত হবে বাংলাদেশের নাম। আর এভাবেই বাঙালির সুনাম বিশ্বের মেধাবি ছাত্র-ছাত্রীর মাধ্যমে বিস্তৃত হবে সর্বত্র।
রাফিয়া হাসিনা বিশেষভাবে আরো উল্লেখ করেন যে, এই স্কলারশিপের জন্যে আবেদনকারিদের মধ্যে বাংলাদেশী থাকলে, তাদেরকে অগ্রাধিকার প্রদানের সুপারিশ রয়েছে।

রাফিয়া উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের দূতাবাসের কাছেও রয়েছে আমার এই আবেদন। একজন কৃতি বাঙালির স্মৃতিকে মার্কিন মুল্লুকে অমর করে রাখতে চালু করা এই কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে বিত্তশালী বাংলাদেশী-আমেরিকানরা এগিয়ে আসবেন বলে আশা করছি।

প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, অবসর জীবনেও থেমে নেই ফরিদপুরের মেয়ে রাফিয়া। তিনি আন্তর্জাতিক একটি সংস্থার ব্যানারে মালয়েশিয়া, সাউথ আফ্রিকা, সাউথ কোরিয়া এবং হাওয়াইতে ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে চট্টগ্রামেও যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক মাস আগে বাংলাদেশ সফরের সময় চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসকরা আপাতত: তাকে বাংলাদেশে যেতে বারণ করেছেন। তবে তার উদ্যোগে সংগৃহিত বেশ কিছু অর্থ ইতিমধ্যেই রোহিঙ্গা শরনার্থীদের জন্যে পাঠানো হয়েছে বলে জানালেন।

রাফিয়া হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশীদের একটি সংগঠনের সাথেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত থেকে বাঙালি কালচার নতুন প্রজন্মে বিকাশের কাজ করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here