ফোবানা বিজনেস পাওয়ার লাঞ্চে বাংলাদেশের সাফল্যের গল্প শোনালেন পানিসম্পদ মন্ত্রী

বাংলাদেশের সাফল্যের গল্প শোনাচ্ছেন প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

শিব্বীর আহমেদ, মায়ামী, ফ্লোরিডা: ফোবানা সম্মেলনে বাংলাদেশের সাফল্যের গল্প শোনালেন প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ৭ অক্টোবর শনিবার দুপুরে ৩১তম ফোবানা সম্মেলনস্থল মায়ামী হায়াত রিজেন্সী হোটেলের কনফারেন্স হলে আয়োজিত ”বিলিভ ইন বাংলাদেশ ইনভেষ্ট ইন বাংলাদেশ” স্লোগান নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ফোবানা বিজনেস পাওয়ার লাঞ্চ‌‌‌। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন, কিনোট স্পীকার হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর। এছাড়াও উপস্থিত ও বক্তব্য রাখেন কেপিসি গ্রুপের চেয়ারম্যান কালিপ্রদীপ দাস, কনর একিউজিশনের সিইও মাইক পাটেল, এনএইচসিজি গ্রুপের সিনিয়র এসোসিয়েট উইলিয়াম হ্যামিলটন, জিআরপি ক্যাপিটালের ম্যানেজিং পার্টনার রিক পাটেল, আলফা কন্সটাকসনের সিইও মাইক সারোনা, উৎসব গ্রুপের সিইও রায়হান জামান সহ ফোবানা স্বাগতিক কমিটি ও সেন্ট্রাল কমিটির নেতৃবৃন্দ সহ আরো অনেকে।

মধ্যাহ্নভোজে আমেরিকার ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, বিশ^ আজ অবাক বিষ্ময়ে বাংলাদেশের সাফল্য দেখছে। বাংলাদেশের এই সাফল্য লাভ করবে কেউ কোনদিন ভাবতে পারেনি। এক সময় বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ হিসাবে উল্লেখ করা হত। কিন্তু সেই বাংলাদেশ আজ তার আতœমর্যাদা নিয়ে বিশে^র বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ আজ বিশে^র নিরাপদ একটি স্থান হিসাবে পরিনত হয়েছে। অভিন্ন স্বার্থ ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সময়ের পরীক্ষিত বন্ধু। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং উন্নয়নের অন্যতম অংশীদার। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বিকশিত হয়ে চলেছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সর্বোত্তম সম্পর্ক উপভোগ করছে।

তিনি বলেন, দারিদ্র্য নিরসন পুষ্টি, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য, প্রাথমিক শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অর্জন প্রশংসিত হচ্ছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ গড়ে ৬ দশমিক ২ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রেখেছে। গত দুই বছরে এই প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ৮০ শতাংশ বেড়ে ১৬০০ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, মুদ্রাস্ফীতি ৫ দশমিক ৭ শতাংশে ধরে রেখেছে, রফতানি আয় দ্বিগুণ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ দাঁড়িয়েছে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (যা ৮ মাসের আমদানি ব্যয়ের সমতুল্য), খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে।

আমেরিকান ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে পনিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ ব্যবসায়ীদের জন্য একটি নিরাপদ ব্যবসার স্থান। বাংলাদেশে বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, সমৃদ্ধি এবং লভ্যাংশের অংশীদার হওয়ার মাধ্যমে কোটি মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টায় শরিক হওয়ার আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছি। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত সমৃদ্ধ দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্য পূরণে আমি আমেরিকান ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তা নেতৃবৃন্দকে আমাদের দেশে বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, সমৃদ্ধি এবং লভ্যাংশের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই আমরা কোটি মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন আনতে পারব।’

বাংলাদেশের উদার বিনিয়োগ নীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বিদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারের দেয়া সুবিধাদির প্রসঙ্গে বলেন, আইন করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা প্রদান, ট্যাক্স হলিডে, যন্ত্রপাতি আমদানিতে কর রেয়াত, রয়্যালটির রেমিটেন্স, শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগ, অনিয়ন্ত্রিত প্রত্যাহার নীতি, লভ্যাংশ ও পুঁজি দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুবিধাসহ অনেক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের ওষুধ শিল্প দেশের শতকরা ৯৭ ভাগ অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বের ৯২টি দেশে রফতানি হচ্ছে।

তিনি বলেন, গার্টেনারের মতে- সফটওয়্যার ও আইটি সার্ভিসের জন্য বিশ্বের ৩০টি শীর্ষস্থানীয় দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশের তৈরি হাজারো সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন এখন আইফোন, স্যামসাং গ্যালাক্সি এবং ব্ল্যাকবেরি ফোনে ব্যবহূত হচ্ছে। গত বছর আমাদের আইটি কোম্পানিগুলো এবং ফ্রিল্যান্স আইটি পেশাজীবীরা ৩৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছেন। প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার আইটি গ্রাজুয়েট এই খাতে যোগ দিচ্ছেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নির্মাতারা বিশ্বমানের হালকা ও মাঝারি সামুদ্রিক জাহাজ নির্মাণ করে বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন। এই শিল্পের ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আন্তর্জাতিক বাজারের ১ শতাংশ শেয়ার এখন বাংলাদেশের দখলে। ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলাদেশ ‘সেকেন্ড হোম’ হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভিশন ২০৩০’র মধ্যে আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মধ্যাহ্নভোজে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন সহ অন্যান্যদের মাঝে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেন প্রধান অতিথি আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এছাড়া মধ্যাহ্নভোজে ফোবানা বিজনেস পাওয়ার লাঞ্চ নামে একটি ম্যাগাজিন এবং ফোবানার বার্ষিক রিপোর্ট ম্যাগাজিন আকারে প্রকাশ করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here