‘হে মৃতুঞ্জজয়ী মহাপ্রাণ’, আমাদের ক্ষমা করুন , আমরা লজ্জিত “

।। আল আমিন বাবু ।।
মার লজ্জায় মাথা হেট্ হয়ে যায় যখন ভাবি আমি ওই মীরজাফর এর জাতি । যে, নিজ গদির স্বার্থে বাংলার শেষ নবাবকে হত্যা করেছিল বিদেশী ফিরিঙ্গি ইংরেজদের সাথে নিয়ে । আমার লজ্জায় মাথা হেট্ যখন ভাবি আমি ওই খন্দকার মুশতাকের জাতি । যে, বঙ্গবন্ধুর বন্ধুত্বের সুযোগেই ১৯৭১ এর পরাজিত শক্তি পাকিস্তানের আই এস আই এর ষড়যন্ত্র কে কামিয়াব করেছিল জিয়াউর রহমান দের সহযোগিতায় স্বপরিবারে তাকে হত্যা করে । আমাদের জাতির পিতাকে হত্যা করে আমাদের জাতির ঐতিহ্য, জাতির স্বপ্নকে হত্যা করা হয়েছিল । এখানেই শেষ নয় , অতপর :

আল আমিন বাবু

 

বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে, তার স্বপ্নের সোনার বাংলাকে, যেন সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে না পারে তার জন্য হত্যা করা হলো বঙ্গবন্ধুর ওই “সৈনিক ” দের যারা কিছুদিন আগেই বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে বঙ্গবন্ধুকে বুকের মধ্যে ধারণ করে ,রাষ্ট্রপ্রধান করে একটা সফল যুদ্ধে জয়ী হয়ে আমাদের কে “বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু ” কে এক সাথে উপহার দিয়েছিল।
মুসতাক রা বিক্রি হয়েছিল মীরজাফরের মত মসনদ এর লোভে । এই মুসতাকরা ১৯৭১ এও যুদ্ধকালীন সময়ে পাকিস্তানের সাথে কনফেডারেশন করার পারতারা করেছিল বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত করার ধুয়া তুলে । এর সাথে আওয়ামীলীগের আরো কিছু নেতারাও জড়িত ছিলেন যারা আজও বর্তমান । যাদের ১৯৭৫ এর ১৫ই আগষ্টে ঢাকার আমেরিকান এম্বেসীর দর্শনার্থীর সাক্ষর বইতে নাম রয়েছে । সেদিন এই চার নেতারাই কিন্তু এই ঘর শত্রু বিভীষণ দের সামাল দিয়ে দেশ ও স্বাধীন করেছেন ,বঙ্গবন্ধুকেও পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত করে এনেছিলেন । অতপর ওই বর্ণচোরা গিরগিটি রাজনীতিবিদ রাই আবার দলের ভিতরে যে যার মত জায়গা করে নিল ।এরা সবার নজর এড়িয়ে ১৯৭৫ এর ১৫ই অগাস্ট পর্যন্ত কেঁদে কেটে ভালোমানুষ হয়েই রইলো ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রইলো ।
এ যেন মীর মোশারফ হোসেনের “বিষাদ সিন্ধুর ” প্রতিচ্ছবি । রসুল (স:)এর দৌহিত্ররা মৃত্যুকে বরণ করলো ফোরাত নদীর তীরে রসুলেরই একজন সাহাবা মঅবিয়া (রা 🙂 র পুত্র এজিদের সৈনিক সীমার এর হাতে কিন্তু তাদের কাছে নতজানু হলনা , এজিদের হাতে বায়েত গ্রহণ করলনা ।শান্তির ধর্ম মূল ইসলাম থেকে এক চুলও নড়লনা । এজিদরা রসুলের (স:) পরিবারকে সমূলে উত্পাটন করতে চেয়েছিল কিন্তু,বিধিবাম ,বেচে থাকলো যয়নুল আবেদিন (রা:) । অতপর : ৭০০ বছর এর মত সময় ওই এজিদরাই ইসলামের হর্তা কর্তা বনে গেল ,তারা রসুল (স:) এর দৌহিত্রদয়কে যথাক্রমে মদপ্য ও স্বৈরাচারী হিসাবে প্রচার করতে থাকলো । অতপর: রসুলের(সা 🙂 এর পরিবার, আত্মীয়রা, তার অনুগামীরা ,আরব থেকেই বিতারিত হয়ে গেল ছড়িয়ে পরলো গোটা বিশ্বে ।
অতপর : সুফী ইজমের আবির্ভাব , মানুষের অন্তরে ইসলামের শান্তির শিক্ষা ,ন্যায় এর শিক্ষা , প্রগতির শিক্ষা নিয়ে ইসলাম আবার তার নিজ গতিতে আগাতে শুরু করলো । ঠিক তখনি আবার ইহুদি ও ফিরিঙ্গিদের হাত ধরে ওহাবী,মউদুদীবাদের আবির্ভাব যা আজকের আমাদের এখানে জামাত শিবির নামেই পরিচিত । ইমাম হাসান (র়া 🙂 ,ইমাম হোসেন(রা 🙂 রা এজিদের কাছে সেদিন বায়াত গ্রহণ না করে, মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে, শান্তির ধর্ম ইসলামকে ওদের থেকে আলাদা করে দিলেন । ।আমাদেরকে জানিয়ে গেলেন যে, শান্তির ধর্ম ইসলাম আর মসনদের জন্য ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার এক কথা নয় ।আমরা অন্তর দৃষ্টি দিয়ে দেখলাম ,জানলাম ,বুঝলাম গর্বিত হলাম এবং একজন প্রকৃত “মানুষ ” হবার জন্য রসুলের (স:) এর ইসলামকে গ্রহণ করলাম ।
১৯৭৫ এর ৩রা নভেম্বর বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠদের মধ্যের একজন “মুস্তাক” পরাজিত শক্তি পাকিস্তানের মূলমন্ত্র আবার প্রতিষ্ঠা করার জন্য “এই এস এই এর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ে তার সেই ১৯৭১ এর ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে করেই চেয়েছিলেন তাদের হাতে বায়েত করাতে আমাদের ওই বীর চার নেতাকে । কিন্তু পারে নাই ।ওই নেতারা জীবন দিয়েই প্রমান করে দিয়ে গেছেন যে,”বঙ্গবন্ধু আর বাংলাদেশ ” একই শব্দে গাথা । এখানে বিদেশী ফড়িয়াদের কোনো স্থান নেই ।তারা মুসতাক গং দের ঘৃনা ভরে প্রত্যাখান করেছিল বিনিময়ে গ্রহণ করেছিল তাদের তাজা বুলেট আর বেয়নেট এর খোচা । তবুও তার নতজানু হয়নি ওই ওই পৈশাচিক বেইমান দের কাছে ।
১৯৭৫ এর ১৫ই অগাস্ট ,৩রা নভেম্বর জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদেরকে হত্যা করে ,নির্লজ্জের মতো পাকিস্তানি কায়দায় আবার “বাংলাদেশ জিন্দাবাদ ” বলা শুরু হলো ,যখন বাংলাদেশ বেতার আবার পাকি স্টাইলে “রেডিও বাংলাদেশ ” বনে গেল । যখন বাঙালির মুক্তির মূলমন্ত্র “জয় বাংলা ” র মুখে স্কচটেপ এটে দেয়া হলো “বঙ্গবন্ধুকে ফেরাউন এর সাথে তুলনা করা হলো, তাকে জাতীয় বেইমান ও বলা হলো । তখন কিন্তু বাঙালীরা আবারও শক্তি সঞ্চয় করেছে ওই ৩রা নভেম্বর কারাগারের ভেতর পশাচিক্ভাবে হত্যা করা ওই মৃতন্জয়ী মহাপ্রাণ দের আত্মত্যগের কাছ থেকে । তারপর পদ্মা ,মেঘনায় অনেক জল গড়ালো ,অনেক মুজিব কোটের এর ভিতর থেকে পাকিস্তান জিন্দাবাদ বেরিয়ে আসল । অনেকে বঙ্গবন্ধুর করা প্রকল্পকে নিজের নাম চালিয়ে খাল কাটতে শুরু করলো ,শুরুহলো মিডিয়ার স্ট্যান্ডবাজি,এক হন্তাকে চোখে সানগ্লাস ,মাথায় ক্যাপ ,হাতে কোদাল আর ঝুড়ি দিয়ে ছবি ছাপানো হলো সারাদেশময় । আর একদল সুশীল এসে ওই খাল থেকে কুমির টেনে বো করলেন । একজন সুশীল আমাদের কে “ভাঙ্গা সুটকেস আর ছেড়া গেঞ্জির ” গল্প শোনালেন “যদি কিছু মনে না করেন ” বলে ।
কিন্তু এত কিছুর চোখ গলেও বেচে রইলো দুই কন্যা আর একদল বাঙালি । তারা কখনো নিরবে, কখনো সরবে বেচে রইলো “জয় বাংলা আর বঙ্গবন্ধু ” হারানোর কষ্টকে বুকের মধ্যে ধরে । তারপরের কথা তো সবারই জানা । ওই দিন যদি “সৈযদ নজরুল,তাজউদ্দিন ,কামারুজ্জামান ও মনসুর আলীরা ” তাদের রক্ত না ঢেলে ওদের সাথে আপোষ করতেন তাহলেও তারা বাচতেন না । কিন্তু চিরদিনের মত নিশ্চিন্ন হয়ে যেত “জয় বাংলা ” “বঙ্গবন্ধু আর বাংলাদেশ ” তথা “সোনার বাংলা ” এই পৃথিবীর বুক থেকে । বঙ্গবন্ধুর সৈনিক ওই চার নেতার রক্তই আমাদেরকে শিখিয়েছে কিভাবে বুকের ভিতর দিয়ে আগলে রাখতে হয় আদর্শ ,চেতনা কিভাবে হাটতে হবে সামনের দিকে “সোনার বাংলার উদ্দেশে । তাই ৩রা নভেম্বর শুধু শোক নয় এ আমাদের শক্তিও ।
“” যতদিন রবে বাংলার মানুষের বুকে পদ্মা মেঘনা বহমান ……………………..ততদিন রবে উচ্চশিখরে হে ,মৃতুন্জয়ী মহাপ্রাণ । “”
আজ আবার আমার লজ্জায় কুকড়ে যেতে হয় কারণ , যে চার নেতার ত্যাগ এর শিক্ষা নিয়ে আমরা একদিন শাহবাগে উদ্ধার করেছিলাম আমাদের “জয় বাংলা “কে প্রজন্মের জাগরণের মাধ্যমে এবং ওই জাগরণে আমরা যাকে সমুক্ষ সারিতে দাঁড় করিয়ে দিলাম । তাকেই আবার দেখলাম “জয় বঙ্গবন্ধু ” স্লোগান দিতে শুধুই যে দ্বিধাগ্রস্থ ছিল তা নয় তারা ৩রা নভেম্বরে পাকিস্তানি, জামাতি, তথা জামাতি সুবিধাভোগী সুশীলদের সাথে তালে তাল মিলিয়ে হরতাল ডেকে আমাদের ওই মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাণদের অপমানও করেছিল !! আসলে ভুল আমাদেরই, আমরা যেমন মীরজাফরদের চিনতে পারিনি ,আমরা যেমন মুশতাক গং দেরকেও চিনতে পারিনি, তেমনি আমরা সুশীল মাদ্রাসা বান্ধব শশুরের জামাইকেও চিনতে ভুল করেছিলাম । তাই লজ্জাও আমাদের ।
” হে মৃতুন্জয়ী মহাপ্রাণ , আমাদের ক্ষমা করুন , আমরা লজ্জিত । ”
“জয় বাংলা ” জয় বঙ্গবন্ধু “জয় হে মৃতুন্জয়ী মহাপ্রাণ ”
আল আমিন বাবু
৩রা নভেম্বর ,লস এঞ্জেলেস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here