জাসদ ছাড়া বাংলাদেশের রাজনীতি চলে না

0
233

নিউইয়র্ক: জাসদ ছাড়া বাংলাদেশের রাজনীতি চলে না, রাজাকার মুক্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গঠন করতে জাসদের দরকার। সমাজতন্ত্র দরকার এর জন্য জাসদ দরকার। সমাজতন্ত্র ছাড়া গণতন্ত্র পুড়া রুটি। জাতীয় সংকটের সময় কখনোই জাসদ দলের স্বার্থ দেখেনি, দেশের কথা ভেবে জাতির ঐক্যের ভুমিকা গ্রহণ করেছে। ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্ট করেছে। জাসদ যখন দেখে বিভ্রান্তি, জনগণ যখন দিশেহারা তখন জাসদ জাতির প্রয়োজনে সঠিক কৌশল গ্রহণ করে রাজনৈতিক ঐক্য গ্রহণ করেছে।

আন্দোলন ও লড়াই সংগ্রামের গৌরবের রাজনৈতিক সংগঠন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের ৪৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী, সাত নভেম্বর সিপাহী জনতার ভভ্যুত্থান ও সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র জাসদ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

গত রোববার ৫ নভেম্বর, সন্ধা সাতটায়, নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসস্থ মামুন টিউটরিয়ালে, যুক্তরাষ্ট্র জাসদ সভাপতি ও কেন্দ্রীয় উপদেষ্ঠা পরিষদ সদস্য দেওয়ান শাহেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম জিকুর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, জাসদের দরকার নাই বলে যারা আজকে জাসদের সমালোচনা করেছে। তাদের উদ্দেশ্যে বলতে হয়, মুক্তিযুদ্ধেও চেতনার প্রশ্ন অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রশ্ন, গণতন্ত্রের প্রশ্ন শোষন বৈষম্যের প্রশ্ন দুদল্যমনতার ও সাহসীর প্রশ্নে যতদিন, ততদিন জাসদের চাহিদা থাকবে। যতদিন বাংলার মাটিতে একটা অত্যাচারি, শোষক থাকবে, ততদিন জাসদের চাহিদা থাকবে। যতদিন বাংলাদেশের মাটি থেকে সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ উপওে ফেলা সম্ভব হবে না, ততদিন জাসদের চাহিদা থাকবে। জাসদের হাজার হাজার কর্মী কোনদিন বিভ্রান্ত হয় নি। জাতির প্রয়োজনে দেশের প্রয়োজনে বৃহত্তর ঐক্যের ঝান্ডা নিয়ে সংগ্রামের কাফেলার নেতৃত্ব দিয়েছে। যারা জাসদের বেশি সমালোচনা করে, তারা জাসদকে পাশে রাখার জন্য দ্যানদরবার করে। জাসদ দূরে থাকলে সমালোচনা করে, জাসদ পাশে আসলে মূখ বন্ধ করে। সুতরাং জাসদের দরকার নাই এই কথাটা যারা বলে আম্মকের স্বর্গে বাস করে। যারা বেশি সমালোচনা করে তারাই জাসদকে পাশে রাখে, যারা বেশি সমালোচনা করে তারাই জাসদকে ঐক্যের কাফেলায় রাখে। জাসদ জন্মের পর থেকেই রাজপথে থেকেছে। লড়াই সংগ্রাম করেছে।

বক্তারা আরো বলেন, এ দেশে আর কোন দিন রাজাকার সরকার না দেখতে চাইলে জাসদের প্রয়োজন। বাংলাদেশে নির্বাচনের বিতর্ক চলছে, তখন বাংলাদেশে আর রাজাকার সরকার হবে কিনা তার বিতর্ক চলছে, যখন আমরা প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করছি তখন বাংলাদেশের আর বৈষম্য থাকবে কিনা সেই বিতর্ক চলছে, জাসদ মনে করে রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ গঠন করতে জাসদের দরকার। একবার রাজাকার সরকার, আরেকবার মুক্তিযুদ্ধের সরকার এই রাজনীতর খেলাটা বন্ধ করা দরকার। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৫বছর অন্তর অন্তর হৈ-হুল্লোর করার দরকার নাই। এর মিমাংশা করা দরকার। সংবিধান অনুযায়ি যথা সময়ে নির্বচনের গ্যরান্টি দেওয়া দরকার।

জাসদ নেতারা আরো বলেন, সমাজতন্ত্রের সরকার থাকুক, না থাকুক, শতবর্ষ আগের সেই সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের কারণেই শ্রমিকেরা পেয়েছে ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার, নারীরা পেয়েছে ভোটের অধিকার, কৃষক পেয়েছে তার ফসলের অধিকার। তিরিশ লাখ শহীদের রক্তে লেখা বাংলাদেশের সংবিধানে যে সমাজতন্ত্রের কথা রয়েছে, তা সংবিধানের পাতা থেকে জীবনের পাতায় আনতে হবে আমাদের। কারণ কৃষক-শ্রমিক-মজুর-গরিব-নারী-শিশুর অধিকার ও মর্যাদা বাস্তবায়ন ছাড়া গণতন্ত্র একটি ‘পোড়া রুটি’। পোড়া রুটি খাওয়া যায় না। ভালো রুটি চাই। সম কাজে সম মজুরি চাই। সমাজতন্ত্রই বৈষম্য-দারিদ্র্য-ক্ষুধামুক্ত সমাজ তৈরির পথের দিশারী আর অসম বিশ্বায়নে সমতা আনার চাবিকাঠি। কারণ কৃষক-শ্রমিক-মজুরই এদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ। যতক্ষণ না বৈষম্য-দারিদ্র্য-ক্ষুধামুক্ত সমাজ তৈরি হবে, ততক্ষণ সমাজতন্ত্রের ঝা-া হাতে জাসদের লড়াই চলবে। জঙ্গিদমনের যুদ্ধেও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ সামনের সারিতে থাকবে।

আলোচনা সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামি লীগ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি ডা: সিদ্দিকুর রহমান, জাসদের প্রবীন নেতা অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান, আওয়ামি লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, আওয়ামি লীগ সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম.এ সালাম, জাসদের সাবেক নেতা আজিবুর রহমান বুরহান, জাসদ নেতা শাহনুর কুরেশী, জাসদ নেতা জ্যোতির্ময় দত্ত নিশু, জাসদ নেতা আবুল ফজল লিটন, আওয়ামি লীগ নেতা আবুল কালাম, সৈয়দ বশারত আলী, কৃষিবিদ আশরাফুজ্জামান, খান শওকত, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ নেতা হুমায়ুন আহমদ চৌধুরী, শামসুদ্দিন আজাদ, সাবেক ছাত্রনেতা হীরা মিয়া, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুর রহমান সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব ছান্দু প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here