যুক্তরাষ্ট্র আ’লীগের সভাপতিকে পদত্যাগের আহ্বান নিউইয়র্কে জাসদের সভায় ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের জের

0
1152

বর্ণমালা নিউজ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক সফরের সময় থেকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ থেকে ড. সিদ্দিকুর রহমানকে অপসারণের দাবীতে সংগঠনের যে অংশটি প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের সেই প্রচেষ্ঠা এখনও অব্যহত রয়েছে। কখনও শ্রমিক লীগের ব্যানারে আবার কখনও সাবেক ছাত্রলীগারদের ব্যানারে নানা উপলক্ষে আয়োজিত সমাবশে থেকে তারা ড. সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে কথা বলছেন এবং তার অপসারন দাবী করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি গঠনের দাবী করেই যাচ্ছেন। সবশেষে গত রবিবার সাবেক চাত্রলীগারদের ব্রানারে আয়োজিত সবৃশেষ সমাবেশ থেকে তারা ড. সিদ্দিকুর রহমানকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ যুক্তরাষ্ট্র শাখার ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার অভ্যুত্থান, সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে নিউইয়র্কে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক নেতৃবৃন্দকে অশালীন ভাষা ব্যবহার করে দেশ এবং জাতির সামনে হেয় প্রতিপন্ন করার অপপ্রয়াস চালিয়েছেন বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কমিটিতে থাকা সাবেক ছাত্রলীগাররা।

জাসদের সভায় তার বক্তব্যের নিন্দা জানাতে আয়োজিত সমাবেশ থেকে সিদ্দিকুর রহমানকে আত্মসম্মান নিয়ে পদত্যাগ করলে তলবি সভা আয়োজন করে বহিস্কারের হুমকী দেয়া হয়েছে। । গত ১২ নভেম্বর রবিবার রাতে জ্যাকসন হাইটসের একটি রেষ্টুরেন্টে যুক্তরাষ্ট্রস্থ সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্ট ড. প্রদীপ রঞ্জণ কর। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের জনসংযোগ সম্পাদক কাজী কয়েস এবং প্রচার সম্পাদক হাজি এনামের যৌথ পরিচালনায় যৌথ পরিচালনায় এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাবেক ছাত্র নেতা ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম কার্যকরী সদস্য হিন্দাল কাদির বাপ্পা। সভায় বক্তব্য রাখেন ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ড. মহসীন আলী, ডা. মাসুদুল হাসান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশা, দপ্তর সম্পাদক প্রকৌঃ মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, আইন বিষয়ক সম্পাদক শাহ বখতিয়ার আলী, কার্যকরী সদস্য হিন্দাল কাদির বাপ্পা, শরীফ কামরুল আলম হীরা, আশরাফ মাসুক, নিউজার্সী আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি সুজন আহমদ সাজু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান, নিউজার্সী আওয়ামীলীগ নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, শামিম আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রুমানা আক্তার, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি দুরুদ মিয়া রনেল, সাধারণ সম্পাদক সুবল দেবনাথ, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্র লীগের সাবেক সভাপতি জেড এ জয় প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নিউইয়র্কে ৭ নভেম্বর সিপাহি জনতার অভ্যুত্থান ও সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র শাখা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিদ্দিকুর রহমান। সভায় তিনি ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের অশালীন ভাষা ব্যবহার করে দেশ ও জাতির সামনে হেয় প্রতিপন্ন করার অপপ্রয়াস চালিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ছাত্রলীগ যাদের গাত্রদাহের কারণ, তাদের আওয়ামী লীগ করার আর কোনো অধিকার নেই। ড. সিদ্দিকের এক-এগারোর ভূমিকাও রহস্যময়। সম্প্রতি তথাকথিত ফারাক্কা প্রতিরোধ কমিটি অর্থাৎ বিএনপি নেতা আজাহারুল হক মিলন কর্তৃক আয়োজিত সভায় ড. সিদ্দিক বলেন, এখনই সময় ভারতকে প্রতিরোধের।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নেত্রীর নির্দেশে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ সবার সামনে ঘোষণা দিয়েছিলেন ৯০ দিনের মধ্যে একটি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি ও সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করতে হবে। তিনি কৌশলে কার্যকরী কমিটির সভা বাতিল করে নির্বাচনের আগে কোনো সম্মেলন হবে না বলে ঘোষণা দেন। কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করে নিজেকে ক্ষমতাধর প্রমাণ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জাসদের নেতা হাসানুল হক ইনু জাসদের ভুল স্বীকার করে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। ড. সিদ্দিকুর রহমান সেই ভুলকে সত্য প্রমাণিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। এটা ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। বর্তমানে জাসদ আমাদের বন্ধুপ্রতিম সংগঠন। বঙ্গবন্ধুকন্যা মহত্ত্ব দেখিয়ে সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে জাসদকে শরিক জোটের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। নির্বাচনের আগে ড. সিদ্দিকুর রহমান উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে কার উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন?
সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা বলেন, সিদ্দিকুর রহমানের ন্যূনতম আত্মসম্মান জ্ঞান থেকে থাকলে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন। অন্যথায় নেত্রীর নির্দেশ অমান্য ও দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকায় ৯০ দিন পার হলে গঠনতন্ত্র মোতাবেক একজন সিনিয়র সদস্যের সভাপতিত্বে ড. সিদ্দিকুর রহমানকে তলবি সভা ডেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা প্রদীপ রঞ্জন কর দলীয় গঠনতন্ত্রের ১১ ধারার কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র শাখা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ডাকা না হলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তলবি সভা ডাকা হবে। উপদেষ্টা মাসুদুল হাসান সিদ্দিকুর রহমানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। সিদ্দিকুর রহমানের তীব্র সমালোচনা করে উপদেষ্টা মহসীন আলী বলেন, তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না।

সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কাজী কয়েস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শাখা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটি তাঁর নেতৃত্বে দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। যুক্তরাষ্ট্র শাখা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রহিম বাদশা ছাত্রলীগ-সম্পর্কিত সিদ্দিকুর রহমানের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী সম্মেলন না হলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন সাধারণ নেতা-কর্মীরা।

দপ্তর সম্পাদক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী বলেন, সিদ্দিকুর রহমান কখনো ছাত্রলীগ কিংবা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তিনি একজন হাইব্রিড আওয়ামী লীগ নেতা। প্রচার সম্পাদক তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন।

LEAVE A REPLY