বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আজিজ ও তার স্ত্রী গ্রেপ্তার

0
1789
এনা খালেদ ও এম আজিজ

বর্ণমালা নিউজ: নিউইয়র্কের বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ ও তার স্ত্রী এনা খালেদ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন গত সপ্তাহে। প্রথম স্ত্রীর হেলথ ইন্স্যুরেন্সের তথ্য চুরি করে সন্তান জন্মদানের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন এই দম্পত্তি। নিউইয়র্কেরনাসাউ কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেডেলিন সিঙ্গাস এ খবর নিশ্চিত করেন। নিউইয়র্কের মূলধারার দৈনিক ‘ডেইলি নিউজ’ ৩০ নভেম্বর এই অভিনব জালিয়াতির খবর প্রথম প্রকাশ করে। ৫ ডিসেম্বর লং আইল্যান্ডের ‘দ্য আইল্যান্ড নাউ’-ও এ জালিয়াতি সংক্রান্ত সংবাদ ফলাও করে প্রচার করে। কিন্তু নিউইয়র্কের অধিকাংশ বাংলা সাপ্তাহিক এই সংক্রান্ত সংবাদ ব্লাক আউট করলেও সোসাল মিডিয়ায় অনেকে এই সংবাদ শেয়ার করায় কমিউনিটিতে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশ সোসাইটির দুই বারের সাবেক সভাপতি ও বত্যমান ট্রাস্টিবোর্ড চেয়ারম্যানের এমন অপকীর্তিতে।
নাসাউ কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট এটর্ণীর অফিস থেকে জানানো হয়, ৬১ বছর বয়স্ক মোহাম্মদ আজিজকে গত বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রি ‘অন্যের পরিচয় চুরি’ এবং চতুর্থ ডিগ্রি ‘স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি’র অভিযোগ আনা হয়। ৩০০০ ডলারে নগদ অর্থে মোহাম্মদ আজিজের জামিন আদালত মঞ্জুর করে। আগামী আগামী ১৭ই জানুয়ারি আবার আদালতে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে মোহাম্মদ আজিজকে।

গত ২৪ অক্টোবর অপর অভিযুক্ত আজিজের দ্বিতীয় স্ত্রী এনা খালেদকে গ্রেফতার করা হয় এবং সেকেন্ড ডিগ্রি জালিয়াতি, ফার্স্ট ডিগ্রি অন্যের পরিচয় চুরি, থার্ড ডিগ্রি বীমা জালিয়াতি এবং চতুর্থ দফা স্বাস্থ্যসেবা ফৌজদারী মামলা দায়ের করা হয়। এনা খালেদের জামিন ৪০০০ ডলার বন্ড এবং ২০০০ ডলার নগদ অর্থে কার্যকর হয়। এনা খালেদ বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবিরের কন্যা।

মোহাম্মদ আজিজের দ্বিতীয় স্ত্রী আনা খালেদ ২০১২ সাল থেকে বিভিন্নরকম চিকিৎসা সেবা ও প্রেসক্রিপশনের জন্য চুরিকৃত পরিচয় ব্যবহার করে নাসাউ কাউন্টির জনগণের হাজার হাজার ডলার আত্মসাৎ নিয়েছে।

সিঙ্গাস এক বিবৃতিতে বলেন, “মোহাম্মদ আজিজের প্রথম স্ত্রীর সকল তথ্য, স্বাস্থ্য বীমা দ্বিতীয় স্ত্রী চুরি করে ব্যবহার করেন এবং প্রথম স্ত্রী যখন হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হন এবং ডাক্তার প্রথম স্ত্রীকে বলেন, আপনার ডায়বেটিস আছে , বাচ্চা জন্ম দিয়েছেন তখন তিনি আশ্চর্য্য হয়ে যান এবং বলেন আমি কোন বাচ্চা জন্ম দেয়নি।

নাসাউ কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেডেলিন সিঙ্গাস আরো বলেন, ২০১৪ সালে আজিজের প্রথম স্ত্রীর উইনথ্রপ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে গিয়েছিলেন।
হাসপাতালের ডাক্তার তার মেডিকেল ইতিহাসে তালিকাভুক্ত ঔষধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, কিন্তু তিনি বলেন যে তিনি ওষুধগুলি কিছু জানেন না।

এছাড়াাও মেডিকেল রেকর্ড অনুযায়ী, সম্প্রতি গ্লেন কোভের নর্থ শোর লং আইল্যান্ড জুইস হাসপাতালে প্রথম স্ত্রী নতুন করে বাচ্চা জন্ম দিয়েছেন বলে প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া আজিজের প্রথম স্ত্রীর স্বাস্থবীমা দ্বিতীয় স্ত্রী বিভিন্ন সময়ে ব্যবহার করেছেন যার সুস্পষ্ট প্রমাণ গ্লেনকোভের একটি ফার্মেসির সিকিউরিটি ফুটেজে নিশ্চিত হওয়া যায়। নর্থ শোর লং আইল্যান্ড জুইস হাসপাতালের মেডিকেল রেকর্ডে প্রমাণ পাওয়া যায় যে প্রথম স্ত্রীর শিশুর পরিচয় অন্য একজনের নামে মেডিকেল ইন্সুরেন্স ব্যবহার করা হয়েছে। আর মেডিকেল বিল এবং জাল তথ্য চুরির অভিযোগে বাংলাদেশি আজিজকে অভিযুক্ত করা হয়।

“নাসাউ কাউন্টির পুলিশ কমিশনার প্যাট্রিক রেইডার বলেন,” এই প্রতারণার মামলাটি উদঘাটনের মাধ্রমে নাসাউ কাউন্টির পুলিশ বিভাগ এবং নাসাউ কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস স্বাস্থ্যবীমা খাতে অপরাধমূলক কার্যক্রম কমিয়ে আনার একটি একটি দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।

সিঙ্গাস বলেন ,মে মাসে নাসাউ কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসে আজিজের প্রথম স্ত্রী ঘটনাটি অভিহিত করেন। প্রথম স্ত্রীর সাথে আজিজের ডিভোর্স মামরাটি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here